somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের দাবিতে আন্দোলন

০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে ৯ কি.মি. দূরে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত খুলনা বিভাগের একমাত্র ভেটেরিনারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ। কলেজটির স্থাপন কাজ শুরু হয় মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। তৎকালীন সময়ে প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মোঃ লিয়াকত আলী উক্ত প্রকল্পের অর্থায়নে ২০০৯-২০১০ সালে অবকাঠামো স্থাপন কাজ শেষ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলেজটি উদ্ভোধন করেন। প্রকল্পের অর্থ শেষ হওয়ার ফলে দীর্ঘ ৩ বছর এখানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়নি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডঃ মোঃ মাহফুজুল বারি স্যারের একান্ত সহযোগিতায় কলেজটিকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। উল্লেখ্য যে, ছাত্রছাত্রী পাঠদানের জন্য কোন শিক্ষক তখন নিয়োগ দেয়া হয়নি। হাতো গোনা গুটিকয়েক শিক্ষক যারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রেষণে আসেন। এ অবস্থায় একটি শিক্ষাবর্ষ শেষ হয় এবং ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে পুনরায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। প্রতি ব্যাচে ৬০ জন করে দুই ব্যাচে সর্বমোট ১২০ জন ছাত্রছাত্রীকে এই অল্প সংখ্যক শিক্ষক পাঠ দানে সক্ষম নয়। তাছাড়া ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে আরো ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
বর্তমানে কলেজটি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রয়েছে। স্থায়ী শিক্ষক সহ কলেজটিতে এখন নিয়োগ দেয়া হয়নি কোন কর্মচারী কর্মকর্তা, ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং লাইব্রেরিয়ান। এতে ছাত্রছাত্রী পাচ্ছেনা যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ। আর এই ভাবে চলতে থাকলে ছাত্রছাত্রীরা যেমন একাডেমিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সরকার এবং দেশ। দক্ষ প্রাণি চিকিৎসক হতে হলে এমন শিক্ষা, লাভের চেয়ে ক্ষতি বয়ে আনবে বেশি। যা দেশ ও জাতির কাম্য নয়।
ইতিমধ্যে কলেজটিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু গুণী ব্যক্তিবর্গ পরিদর্শন করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী মো ছায়েদুল হক, সচিব ডাঃ সেলিনা আফরোজ, যুগ্ম সচিব মো আলী নূর, শিক্ষা সচিব ডঃ নজরুল ইসলাম খান (সাবেক তথ্য সচিব), আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিন।

এছাড়াও কলেজটিতে দেশ বরেণ্য রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ বিভিন্ন সময় পরির্শন করেছেন। কলেজ অবকাঠামো পরিদর্শন করে তাঁরা মুগ্ধ হন এবং কলেজটি একটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার যোগ্যতা রাখে সেটা জানান। মাত্র ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এটা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হওয় সম্ভব নয়। সর্বশেষ কলেজটিতে পরিদর্শন করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ মোঃ আব্দুস। সাত্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের ২ জন সদস্য এবং কর্মকর্তাগণ। তারা কলেজটিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে ইচ্ছুক। কলেজ প্রশাসন সেই লক্ষে কাজ করছে বলে ছাত্রছাত্রীদের জানিয়েছে। কিন্তু এখনও কেন কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না এ প্রশ্ন সকল শিক্ষার্থীদের। তাদের এই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা স্থায়ী ও পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক,পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, দক্ষ ল্যাব টেকনিশিয়ান, সুসজ্জিত লাইব্রেরী, পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলেজটিতে একটি ৩ তলা বিশিষ্ট প্রাণি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও তা চালু হয় নাই। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যাবহারিক শিক্ষা ব্যহত হচ্ছে।

তাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ বাস্তবায়নের দাবিতে অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী সরকারের এই বিষয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সুদৃষ্টি আকর্ষন করছি। এরই পরিপেক্ষিতে অত্র কলেজের সকল শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেছে। তাই অনতিবিলম্বে কলেজটিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু অধিভুক্ত না রেখে পূর্ণাঙ্গ অনুষদের অন্তর্ভুক্ত না করলে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন অব্যহত থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×