somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তিমিরবিদারী-
" অামার বেচে থাকার নামই ভাল থাকা, এই বেচে থাকার ভেতর অার সব ভাল থাকা গুলি খুজতে গেলেই অামি মারা যাই, অাশ্চর্য্যজনক ভাবে প্রতিটি পদেই মারা যাই, অথচ; এইসব মরন অামার খুব বেশী অপ্রিয়। বেচে অাছি, এইতো বেশ ভাল অাছি................. অামাকে এইটুকু ভাল নিয়ে

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি......................

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






"স্ট্যাটাস-০৬"
.
"আমি যদি নামকরা কোন গায়ক হতাম, অথবা আমার কোন গানের দল থাকতো, অর্থাৎ ব্যান্ড দল থাকত, আমি সে দলের অন্য সব সদস্যদের মধ্যে তাদের রাখতাম যারা রাস্তায় গান গেয়ে ভিক্ষা করেন। কোন কনসার্ট এ গাইতে গেলে উদ্বোধ্বনি গানটি গাইবার জন্য মাউথ পিসটা পরম শ্রদ্ধায় তুলে দিতাম মকবুল চাচার হাতে, আর পৃথিবী নির্বাক চিত্তে "থ" হয়ে উপভোগ করত তার অকৃত্রিম সুরের ঝঙ্কার।
.
সেদিন অফিস করে ফেরার পথে একটা রেস্তোরার সামনে বেশ ভীর দেখলাম, কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে বুঝলাম কোন গানের আসর বসেছে নিশ্চয়ই, তাও আবার লালনগীতি, হাছন রাজার গান, মিস করা যায় কি! এগিয়ে গেলাম, দৃশ্য দেখে আমি অবাক, লোকটির বয়স খুব বেশী হলে ৪০ হবে, অন্ধ, জীর্ন লুঙ্গী আর অনেক জায়গায় ছেঁড়া একটা চাদর গায়, কানের কাছে দুই হাতে শক্ত করে ধরে আছেন ডুগডুগিটা, বেশ আয়েশ করে বিরামহীন বাজিয়ে চলেছেন আর গাইছেন। আহা! সে কি মধুর সুর একেবারেই স্বচ্ছ, কোন ভেজাল যন্ত্রপাতির আধিক্য ছাঁড়াই, অসাধারন। জানতে পেলাম লোকটি ভিক্ষুক, গান গেয়ে ভিক্ষা করেন, প্রায় আসেন এ জায়গাটায়...... জমায়েত লোকেরা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছেন, উপভোগ করছেন অকৃত্রিম সুখ। ঘন্টা দেড়েক গান গাইবার পর লোকটি তার ছেঁড়া চাঁদরটা লোকেদের সামনে ধরে দাঁড়ালেন। আর আমরা মানুষ নামক প্রানীর বড় নিঃশব্দে, নীরবে, দেড় পয়সা দেয়ার ভয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে এলাম। এটা নাকি বাস্তবতা, প্রশ্ন থেকে যায় "বাস্তবতার সঙ্গা কত কোটি হতে পারে"?
.
গভীরভাবে ভাবুন, ঐ জায়গাতেই যদি আমরা সেদিন কোন নামকরা শিল্পীকে অতিথী করে একটি বড় কনসার্টের আয়োজন করতাম, তখন ঠিকই শিল্পীকে অগ্রীম টাকা দিতে হত আর আমরা মানুষ নামক প্রাণীরা, কনসার্ট এড়িয়ার ভেতর আদৌ বসবার জায়গা টুকু পাব কিনা সেটা না ভেবেই দু দিন আগেই ৫০০ টাকা দিয়ে অগ্রিম টিকেট কিনে রাখতাম। আর বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের বর্তমান শিল্পী এবং বিশেষ করে ব্যান্ড টিমগুলির যা অবস্থা তাতে করে পুরো সময়টা বাদ্যযন্ত্রের প্যা পু আওয়াজেই চলে যেত, এমনকি সেখানে শিল্পী ঐ ফকিরের গাওয়া একই লালনগীতিটিকে গাইতেন বিকৃত সুরে কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে, আর আমরা সেই ঘেউ ঘেউয়ের তালে উত্তাল জনতারা লাফালাফি করতাম। আমার জিজ্ঞাসা "এখানে বাস্তবতা কই পালালো?" মানুষ নামক আমাদের লুঙ্গির তলায়? অথচ গানের প্রকৃত সুরটাকে কিন্তু সেই ফকিরই ধরে রেখেছেন, এমন কুত্তামার্কা তারকারা নয়। লালন বলেছিলেন "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ পাবি" হায়রে মানুষ, হায়রে দেশ, হায়রে সমাজ "তুই ভজলি কারে? পেলি কি?
.
অনেক দিন আগে কোন একটি টিভি প্রগ্রাম এ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি Documentory film এ দেখেছিলাম কোন এক দেয়ালিকায় লেখা ছিল-
"আপনি যদি অভাবে থাকেন তাহলে আপনি অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধী, আপনি যদি ভাল পড়তে না পারেন আপনি মেধা প্রতিবন্ধী, ভালবাসতে না পারলে ভালবাসা প্রতিবন্ধী, ভালভাবে ফেসবুকচালাতে না পারলে ফেসবুক প্রতিবন্ধী, এক কথায় আপনার জীবনে আপনার যদি বিন্দুমাত্রও দুর্বলতা বা অভাববোধ থেকে থাকে আপনি সে বিষয়েরই প্রতিবন্ধী"
আর আমার মনে হয় পৃথিবীতে এমন একটিও মানুষ নামক প্রাণী খুঁজে পাওয়া যাবে না যাদের একটি দিকেরও দুর্বলতা বা অভাব বোধ নেই। সুতরাং ফলাফল কি বলে?
"আমরা সকলেই প্রতিবন্ধী"
প্রতিবন্ধী হয়ে কেন তাহলে প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের এত অবহেলা? ওদের প্রতি তোর কিসের এত ঘৃণা হে শালা কুত্তা সমাজ? তুইও তো শালা এক নম্বরের প্রতিবন্ধী!!!!
এখন প্রশ্ন থেকে যায়, আমি প্রতিবন্ধী যদি দেশের, সমাজের, পরিবারের সব সুযোগ, সুবিধা লুটেপুটে বাঁচতে পারি, সে কেন পারবে না? আমি শালা ঘেউ ঘেউ মার্কা গায়ক যদি গাইবার আগেই দেড় লক্ষ টাকা লুফে নিতে পারি, সে কেন তার ছেঁড়া চাদর হাতরিয়ে বেলাশেষে দেড় পয়সাও খুঁজে পাবেনা? বড় কষ্ট হয় ভাবতে, আমার কষ্টগুলি মুল্যহীন কারন আমি অর্থনৈতিক এবং ক্ষমতাহীনতার প্রতিবন্ধীতায় ভুগছি। আর যাদের সব আছে তারা ভুগছেন দানশীল আর উদারতার প্রতিবন্ধীতায়।
.
প্রশ্ন করি, প্রশ্ন গুলো রেখে যাই আর থেকেই যায়, ঘুমিয়ে পরে বেলাশেষে, মাস আর বছরের পর বছর।
.
আর কতকাল এভাবে ঘুমাবে সব প্রশ্নেরা?

হে সমাজ, দেশ, মানুষ, আর কতকাল প্রতিবন্ধী থাকবি......? কব ঘুম ভাঙ্গবে তোর!!!!
মানুষের মানস জাগুক ফের!!! মানুষ ভজু্ক মানুষকে........

(সংক্ষেপ)

মুঠোফোন কীবোর্ডও প্রতিবন্ধী হয়ে গ্যাছে!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×