somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যান্সার ও আমার মা

১০ ই মে, ২০১৫ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০১৫ সালের মার্চ মাসের ১৮
তারিখ. . .
সবে মাত্র রাত শুরু...
অজানা কোন অঘটনের আশঙ্কায় মন
বারবার হতচকিত করে ওঠছে।
শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম কিছু
একটা হতে যাচ্ছে।
আমার এই চোখ দুটো হতভভ্ব দৃষ্টিতে
দেখল, ০৮ঃ৫৬ মিনিটে মা আমার
চোখের
সামনে চিরকালের মতো চলে যান।
যেই
আমি গত একটা সপ্তাহ ধরে
ডাক্তারকে বলে আসছি, মাকে যেন
ওনারা মেরে ফেলেন। সেই আমিই
বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে,মা
আর নেই। দীর্ঘ ছয়
মাস পেইন মিটারের টেন অন টেনের
অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে মা'কে
বিদায় নিতে হয়েছিল।
মায়ের শরীরে দানা বেঁধে ছিল ঘাতক
ব্যাধি ক্যান্সার । দুই রকমের
মারাত্ক ক্যান্সার (Pulmonary
metastasis and Bony
metastasis) মায়ের শরীরের
কোষগুলু ভক্ষণ করতে থাকে
প্রতিনিয়ত। দেয়া হয়েছিল latest cemotherapy ৬ টা ও রেডিওথেরাপি.
কোন কাজই হয়নি এতে।
কারণ দুর্ভাগ্যবশত এই ক্যান্সার ততক্ষণে পৌছে
গিয়েছিল ক্যান্সারের শেষ ধাপে
অর্থাত্ 4th step এ.
এ বেলায়
আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে
হারিয়েছিলাম।
মায়ের সব
লাইফ সাইন কিভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল
পরিস্কার বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু
সব বুঝতে পেরেও বিশ্বাস করতে পারি
নাই যে, মা আর নাই। কারণ সেই
ছোটবেলা থেকেই আমি নিজে নিজে
একটা
বদ্ধমূল ধারণা করে নিয়েছিলাম যে,
মা আমার আগে কখনোই মারা যাবে
না। ভুল করেও যদি কখনো সিমুলেট
করার চেষ্টা করতাম যে,মা নাই...
এখন আমি কি করবো... তাইলেই হইত।
কেঁদে কেটে একাকার করে ফেলতাম।
কখনো একাই বাথরুমে গিয়ে কাঁদতাম,
মনের ভিতরে বন্যার পানি বইত। সেই
আমিই তখন অবিশ্বাসে
বোবা হয়ে গেছিলাম।
মা মারা গিয়ে ভালোই আছেন ঐ
দুনিয়ায়। আমি জানি। কিভাবে? আমি
জানি... আমার মা ভালো আছে...
অনেক ভালো। কিন্তু মাকে ছেড়ে
আমি একেবারেই ভালো নেই। মানুষের
সাথে হাঁসি আনন্দ করি...
ফেসবুকে লেখালেখি করি...
কিন্তু সেটা
মা'কে ভুলে থাকার জন্যে।
বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা ফুরিয়ে এসেছে,
ওখানে গেলে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে
আসে; বুকের ব্যথাটা ভয়ঙ্কর
মাত্রায়
বেড়ে যায়।
মাঝে মাঝে এই ভেবে এখনও
অবাক হই যে, যার মাথার একটা চুলও
সাদা হয়েছিল না সেই জন নেই; আর
আমার মাথাভর্তি পাকা চুল,(যদিও
আমার বয়স এখন ১৭) আমি বেঁচে
আছি!!! ভালো মানুষ দুনিয়াতে
বেশিদিন
থাকে না; খারাপেরা বেঁচে থাকে- তা
প্রমাণ করতেই কিনা মা আমাকে
একা রেখে চলে গেলেন। আর আমি
আজও বেঁচে রইলাম...
ডাক্তাররা যখন মায়ের
টাইম লাইন বেঁধে দিয়েছিল আমি সেটা
বিশ্বাস করি নাই। করি তো নাই,
মাকেও জানাই নাই। মা তাই
মাঝে মাঝেই আমাকে বলতেন, তিনি
সুস্থ হয়ে কি কি করবেন? আমাকে
নিয়ে
তীর্থক্ষেত্রে যাবেন... বাসার পাশের
খালি
জায়গাটুকুতে কি কি গাছ লাগাবেন......
আরো কত কিছু...
ভাবলে অবাক হয়ে যাই, কিভাবে ঐ
কথাগুলো শুনে আমি হাসিমুখে মায়ের
দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতাম!!!
মা আজ নেই এক মাস বিশ দিন হয়।
মা সব সময় চেয়েছিলেন, আমি যেন
একজন ভালো মানুষ হই, সৎ ও সুন্দর
মনের মানুষ হই। কিন্তু আমি সেটা
আজও হতে পারিনি। সবার কাছে
মায়েয় জন্যে দোয়া চাইবো না; চাইবো
আমার জন্যে... আমি যেন আমার
মায়ের চাওয়া সেই ভালো মানুষটা হতে
পারি।
আর আমি ভালো মানুষ হলেই
সেটা আমার মায়ের জন্যে হবে
সবচেয়ে বড় দোয়া..
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×