'‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণার জন্য এম এ হান্নান, সচিব মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে মাছ, শুঁটকি ও টাকা দেওয়ার পর দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণা করার জন্য বারবার আবেদন করার পর ঘোষণা না করলে সচিবের বাসায় আমার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বাস হতে অপমানিত করে বাহির করে দেওয়ায় আত্মহত্যা করিলাম এবং আমার লাশটা ঢাকায় দাফন করার জন্য আবেদন।"
কি বলবো? কি লিখবো? নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে যাদের জন্য আনলো স্বাধীনতা তাদের হাতের গলাধাক্কা খেয়ে অপমানে আত্নহত্যা করতে হয়। কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে বললো- দেশে স্বাধীন হয়েছে, আমরা একটি পতাকা পেয়েছি, একটি মানচিত্র পেয়েছি কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পায়নি। আসলে তার কথাই ঠিক। পৃথিবীতে বাংলাদেশই মনে হয় একমাত্র দেশ, বাঙ্গালী মনে হয় একমাত্র জাতি যারা নিজের দেশের স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা করে, যারা নিজের দেশের জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় আর মুক্তিযোদ্ধাকে আত্নহত্যা করতে বাধ্য করে । কি আজব দেশ আমাদের? কি আজব জাতি আমরা? তাই না?
কথায় আছে না, যে জাতি বীরদের সম্মান দিতে জানে না, সেই জাতির মধ্যে প্রকৃত বীর তৈরি হয়না। আমরা আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধার স্থপতিকে হত্যা করি, জাতীয় চার নেতাকে জেলের মধ্য হত্যা করি, মুক্তিযোদ্ধাকে গলাধাক্কা দিয়ে আত্নহত্যায় প্ররোচিত করি, আমরা সাকিব, ম্যাশ, নাসিরদের বোন বউকে গালি দেই। তাহলে আরেকটা বঙ্গবন্ধু, আরেকটা মাশরাফিকে আমরা পাবো??? আমার মনে হয় পাবো না।
নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীন করা দেশে তিনি থাকতে পারলেন না। বুকভরা অপমান আর ঘৃণায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর আমরা কত স্বার্থপরের মত তাদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন করা দেশে তাদেরই অপমান করে চলছি।
ধিক্কার সেই সচিবকে। এটা আত্নহত্যা নয়। এটা একটা হত্যা।আমরা এই হত্যার বিচার চাই। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার চাই। বিচার পাবো তো নাকি ধামাচাপা দেওয়া হবে এই ঘটনা? নাকি নতুন কোন নাটক তৈরি হবে???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


