somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়াবহ পর্ণোগ্রাফী

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিশোর যুবক নির্বিশেষে আজ পর্ণোগ্রাফি নামক এক ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত ।
সর্বত্র এই ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে । প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আজ
সবখানে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট , শুধু একটা ইন্টার্নেট কানেকশান সুবিধা সম্বলিত
মোবাইল সেট থাকলেই পৃথিবী হাতের মুঠোয় । আর আমাদের বাবা-মায়েরা কিছু
না বুঝেই আদরের সন্তানের আবদার রাখতে গিয়ে তার হাতে তুলে দেন দামী
হ্যান্ডসেট । বলা বাহুল্য যে এখন বেশিরভাগ কিশোর যুবকরাই ভালোর চেয়ে মন্দটাই
গ্রহণ করছে ।

তারা ইন্টারনেট থেকে অশ্লীল ভিডিও ডাউনলোড করে দেখছে । নষ্ট হচ্ছে তাদের
মানবিক পবিত্রতা । ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক মানষিক বিকাশ । আচার-আচরণ ও
চরিত্রে আসছে নেতিবাচক পরিবর্তন । আমাদের অদূরদর্শী মন শুধু বাহ্যিক
পরিবর্তনটাই দেখতে পায়, বাহ্যিক পরিবর্তনের জন্যে যে আত্নার কলুষতাই দায়ী
তা আমরা বুঝতে অক্ষম । শুধু ব্যাক্তি পর্য্যায়ে নয় এই ব্যাধি পরিবার, সমাজ
ছাপিয়ে এখন জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে । প্রচলিত অর্থে যাকে পর্ণো বলে
তা ছাড়াও আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সিনেমা/সিরিয়ালগুলোও কম কিসে ?
এসবও একেকটা উন্নতমানের পর্ণো ছাড়া কিছুই নয় ।
আমাদের কালচার সোসাইটিগুলোও তাদের অনুকরণ করছে ।

যা হোক আমি আমার সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে পর্ণোগ্রাফির শারীরিক ও মানষিক ক্ষতির
পাশাপাশি ব্যাক্তি পরিবার ও সামাজিক জীবনে এর মারাত্নক প্রভাব নিয়ে
সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো । আলোচনায় আমার নিজের বক্তব্যের চেয়ে বিভিন্ন
গ্রহণযোগ্য গবেষণা প্রতিবেদনেরই প্রাধান্য থাকবে ।
এখানে আমি নিন্মোক্ত পয়েন্টে আলোচনার প্রয়াস পাবো

১ পর্ণোগ্রাফির শারীরিক বা সাস্থ্যগত প্রভাব
২ মানবিক সত্বার উপর এর প্রভাব
৩ পরিবার ও সমাজের উপর এর প্রভাব
৪ ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে পর্ণোগ্রাফী

পর্ণোগ্রাফির শারীরিক বা সাস্থ্যগত প্রভাব :-

পর্ণোতে আসক্তিদের মস্তিষ্কে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । দৈনিক নয়াদিগন্ত
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে বলে যে সম্প্রতি ক্যামব্রিজ বিশ্ব
বিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত
তাদের মস্তিষ্কে মাদকাসক্তদের মতোই নেশা কাজ করে । মাদক গ্রহণের ফলে
আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের যে অংশে অনুভূতি কাজ করে ঠিক সেই অংশই
উদ্দীপিত হয়ে ওঠে । দীর্ঘদিন যাবৎ পর্ণোতে আসক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্কের
এক বিরাট অংশ বিকল হয়ে পড়ে ।

মানবিক সত্বার উপর এর প্রভাব :-

আসক্তরা যখন পর্নো দেখে । মাদকাসক্তদের যেমন স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে,
বিপর্যয় বিশৃঙ্খলা নেমে আসে তেমনি পর্নো আসক্তরাও ধীরে ধীরে অনেক ক্ষেত্রে
স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং মানষিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় । গবেষণায় আরও
বলা হয় যে সাধারণত ১৩ বছরের কিশোররা ইন্টারেনেট পর্নোতে বেশি আগ্রহী এবং
তারা মেয়েদেরকে যৌনতার একটি বিষয় হিসেবে চিন্তা করতে শুরু করে । এবার ভাবুন
এ ধরনের মানষিকতা মানবিক দিক হতে কতটা ভয়ংকর ।
প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয় , নিষ্পাপতার দিন শেষ হয়ে গেছে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভার বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান
আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে পর্নোগ্রাফির কেমিক্যাল আসক্তি হেরোইনের মতোই ।
শুধু প্রয়োগটা ভিন্ন ।

পরিবার ও সমাজের উপর এর প্রভাব :-

মাদকাসক্ত থেকে যেমন অনেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তেমনি
পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকেও নানা ধরনের অপরাধের জন্ম নিচ্ছে । আসক্তদের
মধ্যে দেখা দেয় নানা ধরনের বিকৃতি । এর প্রভাবে ব্যক্তি, পরিবার এবং সামাজিক
জীবনে দেখা দেয় নানা বিপর্যয় । বিভিন্ন সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পর্ণো
আসক্তরা একধরনের ফ্যান্টাসিতে ভোগে এবং বাস্তব জীবনেও তারা পর্ণো
নায়িকার মতো সঙ্গিনী চায় । আর তা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই বাস্তব জীবনে
সুখী হতে পারে না ।

কোনো কোনো সমীক্ষায় বলা হয়েছে অধিক পর্ণো আসক্তদের অনেকেরই অনুভূতি
ধীরে ধীরে ভোঁতা হয়ে যায় এবং বাস্তব জীবনে সঙ্গিনীর প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকে ।
কারণ তাদের মন-মগজে স্থান করে নেয় পর্ণো চরিত্রগুলো । শুধু সেগুলোতেই
তারা উদ্দীপিত হয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে এসব সমীক্ষায় । এর ফলে তাদের মধ্যে
নেমে আসে হতাশা । এভাবেই পর্নো আসক্তি থেকে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় পারিবারিক
অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ।
যেহেতু পর্ণোভ্যস্তরা বিপরীত লিঙ্গকে শুধু যৌনতার একটি বিষয় হিসেবে মনে করে
সেহেতু তাদের মধ্যে মৌলিক মানবীয় গুনাবলির দৃষ্টিকোন থেকে পারষ্পরিক মূল্যমান
কমে যায় । এর ফলাফল কি হতে পারে দূরদর্শী মাত্রই তা উপলদ্ধি করতে পারেন ।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে পর্ণোগ্রাফি :-
পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মগুলোই অশ্লীলতাকে বর্জ্যনের আদেশ দেয় ।
বিশেষত ইসলাম এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে । কোরআনের সূরা নূরে আল্লাহ
তায়ালা বলেন "হে নবী আপনি মুমিন পুরুষদের বলুন , তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত
রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে" পরের আয়াতে মুমিন নারীদের
ব্যাপারেও আল্লাহ তায়ালা একই নির্দেশ দিয়েছেন । ইসলামের মূলনীতি হলো কোন
জিনিস নিষিদ্ধ করার সাথে সাথে তার মধ্যে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য চোরাগলিগুলোও
সে বন্ধ করে দেয় ।
সেই মূলনীতির ভিত্তিতেই কোরআন বলছে " তোমরা ব্যাভিচারের নিকটবর্তিও হয়ো না
" আল্লাহর এই বানীর অর্থ নিশ্চয়ই কারো বোঝার বাকী থাকার কথা নয় ।
আল্লাহ তায়ালার নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানগুলোর আশেপাশে হাটতেও নিষেধ করা হয়েছে ।
এটাকে কোরআনে চিত্রিত করা হয়েছে "খুতুওয়াতিশ শাইতন" অর্থাৎ শয়তানের
পদাঙ্ক হিসেবে । শয়তানের পদাঙ্ক হলো মানুষকে চুড়ান্ত বিভ্রান্ত করার জন্য
পর্য্যায়ক্রমিক পন্থা । পর্নো হচ্ছে ব্যাভিচার নামক হারামের গন্তব্যের একেবারে দোরগোড়ায়
প্রবেশের মতোই ।

শেষকথা :-

সবদিক বিবেচনার পর এর যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে এরপরও এসব চলতে পারে না ।
যেহেতু তরুণ সমাজ এই ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত তাই তরুণসমাজকে রক্ষায় ক্ষতিকর
ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী । মুক্ত যৌনতার দেশ খোদ যুক্তরাজ্য
সরকারকে পর্ণো সাইটগুলো বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষণা প্রতিবেদনে ।

পর্নোগ্রাফি এবং পর্নো আসক্তি নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী নানা ধরনের গবেষণা এবং সমীক্ষা চলছে ।
সেই সাথে এর ক্ষতিকর দিকও তুলে ধরা হচ্ছে । এর বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা
সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে কেউ কেউ । নৈতিকতার দিক ছাড়াও শরীর এবং মনোবৃত্তি
কোনো দিক দিয়েই যে এটা কল্যাণকর নয় সেসব বিষয়ও তুলে ধরার চেষ্টা করছেন
অনেকে । এখনো সময় আছে জাতির রক্তপ্রবাহ তারুণ্যের ভেতরকার এই ক্যান্সারের
ভাইরাস প্রতিহত করার । সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহনই বাঁচাতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×