
ইদানিং সময় ব্যাপারটা মাথার মধ্যে খুব ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় বয়সের অর্ধেক সময় পার করেছি বলেই হয়তো কেবল সময়ের কথা মনে হচ্ছে। কেবলই মনে হয় সময়তো ফুরিয়ে যাচ্ছে! খুব ছোটবেলায় আমার অলস দূপুর কেটেছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে খোলা জানালা দিয়ে আকাশের চিল দেখে। খুব উচুঁতে উড়ন্ত চিল দেখে দেখে কখন যে বিকেল হয়ে যেত টেরই পেতাম না। সময়টাকে তখন মনে হতো স্থির। এক একটা দিনকে মনে হত বিশাল বড়। সেই সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়া, তারপর বাসায় এসে গোসল করে ভাত খাওয়া, দূপুরে ঘুমানোর চেষ্টা করা, বিকেলে খেলাধুলা করেও দিন ফুরোতে চাইতো না।
স্কুলের এক বিজ্ঞ বন্ধুর কাছেই শুনেছিলাম আমরা আসলে চতুর্মাত্রিক জগতের প্রাণী। ত্রিমাত্রিক জগৎ সম্পর্কে আমার তখন একটা আবছা ধারণা ছিল, কিন্তু চতুর্মাত্রিক জগৎ কি তা আমার জানা ছিল না। তাই জিজ্ঞেস করাতে সে বলেছিল ত্রিমাত্রিক জগতে যেমন দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতা থাকে, চতুর্মাত্রিক জগতে আরও একটা মাত্রা থাকে, চতুর্থ মাত্রাটি হল সময়। শুনে আমি খুব বুঝেছি (কিছুই না বুঝে) এমনভাবে মাথা নেড়ে ফুটবল খেলতে ছুটে গিয়েছিলাম। এখন কিছুটা অনুমান করতে পারি। পরম স্থির স্থান বলে নাকি কিছুই নেই। যেহেতু মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল, সেহেতু স্থানও আপেক্ষিক। কোন বস্তুর স্থান অন্য একটি বস্তুর সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আসলে দুটি বস্তুই চলমান। সময়ও নাকি আপেক্ষিক। বস্তুর গতির সাথে সাথে সময়ও পরিবর্তীত হয়। মানে আমার যদি একটি যমজ ভাই থাকতো আর সে যদি আমার মত অলস না হয়ে একজন মহাকাশচারী হত তাহলে নাকি সে আমার থেকে ধীরে ধীরে বুড়ো হত। এটা আসলে অনেকটা সময় পরিভ্রমণের মতো। তার সময়, আমার সময় থেকে ধীরে চলতো।
ধরুন আজকের আকাশটা মেঘমুক্ত এবং আমাবস্যা। রাতের আকাশে তাকিয়ে আপনি কি দেখতে পাবেন? অবশ্যই এক আকাশ তারা। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী তারাটি হল সূর্য। তার চেয়ে একটু দূরে আছে আরো তিনটি তারকার একটি সমষ্টি যার নাম আলফা সেন্টরাই। সেখান থেকে আলো আসতে সময় লাগে ৪.৩ বছর। মানে এখন আপনি যদি আলফা সেন্টরাই এর দিকে তাকান তাহলে ৪.৩ বছর আগে যেই আলো সেখান থেকে রওনা দিয়েছিল, এই মুহুর্তে আপনি তা দেখতে পাবেন। মানে কি দাঁড়ালো? আপনি আসলে আলফা সেণ্টরাই-এর ৪.৩ বছর অতীতকে দেখছেন। সূর্য থেকে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট। তারমানে আপনি সূর্যের দিকে তাকালে (যদিও সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো ঠিক না) আপনি আসলে সূর্যের অতীতকে দেখছেন। এই মুহূর্তে সূর্য ধ্বংস হয়ে গেলেও আরো ৮ মিনিট আমরা বেঁচে থাকব।
আপনি যদি আপনার হাতের দিকে তাকান আর তা যদি আপনার চোখ থেকে ৫০ সেমি দূরে থাকে তাহলে আপনার হাতে আলো প্রতিফলিত হয়ে আপনার চোখে আসতে সময় লাগবে ০.০০০০০০০০১৬৬৮ সেকেন্ড। তারপর তা আপনার মাথায় প্রসেস হতে আরো ০.০০১৩ সেকেন্ড সময় লাগে। তারমানে আপনি কখনোই আপনার বর্তমানকে দেখতে পাবেন না। আপনি অনবরত যা দেখছেন তা হল আপনার অতীত। আগে শুনেছিলাম মানুষ মৃত্যুর আগে নাকি চোখের সামনে তার অতীত দেখতে পায়। এখন তো দেখছি মানুষ সারা জীবনই তার অতীত রূপটি দেখে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




