somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুচ্ছ ঘটনা- দুই

২৮ শে মে, ২০১১ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটালো একবার
ওদের বাড়িতে একজন আসতেন, বাবার বন্ধু। মাঝ বয়েসী। ধনী, চরিত্রবান, ভদ্র। দায়িত্বশীল পদে চাকরি করেন।
এবং ভয়ানক উপদেশপ্রবণ।

ইসলামী অর্থনীতি কেন সেরা, কেন মানুষের যৌনশুদ্ধাচার অবলম্বন করা উচিত, প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের কেন অনুসরণ করা উচিত, সমাজের আসল সমস্যা কেন অর্থনৈতিক নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়-- সব বিষয়য়েই খুব দৃঢ় আর কড়া বক্তব্য ছিল তার।

প্রতিরোজ সকালে বন্ধুটার সাথে আমার আলাপ হতো ঘন্টা খানেক, ঠিক ন'টায় ও ফোন করত। দু'জনের পিতৃদেবই তখন অফিসের দিকে। একদিন বলল, 'বুড়াকে একটা শিক্ষা দেব'।
'মতলবটা কি তোমার?'
'আরে দেখোই না!'
পারিবারিক কারণে হিজাব নিতে বাধ্য হয়েছিল বটে, কিন্তু শয়তানি মোটেই চাপা পড়ে নাই ওর। আর সেই সাথে দুঃসাহস। আমি ওরে হাড়ে হাড়ে চিনতাম, ভয়ও পেতাম খুব। আর ও চাইবে, এবং হবে না, এমন কিছু তখনও চিনতাম না। 'কি মতলব তোমার?" বারবার চাপাচাপি করতে থাকি।
'বুড়াকে আমি লোভ দেখাব।' খুব ঠাণ্ডা গলায় বলল বন্ধুটা। 'ঈমানের জোরটা দেইখা রাখা দরকার।'

বাকি অংশটা খুব সরল গতিতে এগুলো। ভদ্রলোকের দিকে ও তাকিয়ে থাকে। ফোন করে নানান বিষয়ে পরামর্শ চায়। ক্লাসমেট ছেলেদের বিষয়ে নালিশ করে, তারা কতটা ফাঁপা। ভদ্রলোকের ইংরেজি কত ভাল, তার সাথে কারো তুলনা হয় না। আর তার ব্যক্তিত্ব! ও তো সারাদিন সেই কথাই ভাবে।

ঘটনাটা শেষও হলো খুব দ্রুত। ভদ্রলোক শিগগিরই ওর সাথে আলাদা দেখা করা শুরু করলেন। শুরুতে এই সাক্ষাৎগুলোও বেশ একটা উপদেশ বিনিময়ের আবরণ রেখে চললেও অচিরেই তিনি কাবু হলেন, তার গিন্নী কতটা নিরামিষ, জীবনটা কত একঘেষে এই সব আলাপ আসতেও দেরি হল না। একটা পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, আর তারপর তিনি মেয়েটার সাথে নির্জনে দেখা করতে চাইলেন।

এই শেষ। কয়েকবারের চেষ্টার পরই ভদ্রলোক বুঝতে পারলেন তিনি একটা আজব ধাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন। মেয়েটা তো বরবরই মুদ্ধতা দেখিয়েছে, কিন্তু অনুরক্তি দেখায়নি। ফলে তাকে আর কখনোই সাক্ষাৎ না দেয়ায় তিনি যে একটা পরীক্ষার শিকার হয়েছিলেন, তা আর কোন দিন বেচারার জানা হয়নি। কেনই বা এলো, আর কেনই বা উধাও হলো, এ ধন্দে নিশ্চয়ই বহুদিন নামাজ কাজা হয়েছে, তসবি টিপতে টিপতে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এসেছে। কিংবা হয়তো ভেবেছেন, কোন একটা সীমা লংঘন না করলে সারাজীবন মেয়েটার সাথে কথা অন্তত বলা যেত! কিংবা হয়তো রয়েসয়ে আরেকটু বুদ্ধিমানের মত এগুলে...

আগের অনুচ্ছেদটা পুরোটাই কিন্তু আমার কল্পনা, হয়তো তেমন কিছুই ঘটেনি। ভদ্রলোক স্রেফ নিজের আচরণে লজ্জা পেয়েছেন, হয়তো মুহুর্তেই ভুলে নিজের কাজে মন দিয়েছেন-- এমন সম্ভাবনাও তো বিস্তর। যাই ঘটুক না কেন তার, তরুণ আমাদের কিছু যায় আসে নি।

আমরা দু'জন বহুদিন তারপর ঠিক সকাল ন'টায় বুড়োকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা করেছি। আর সব আলোচ্য বিষয় ফুরুলে, কিংবা হয়তো তাকে ছাপিয়েই বৃদ্ধ ঘুরেফিরে আসতো চলে। 'হি হি হি, ঈমান ছুটায়ে দিছি একদম।' 'হো হো হো, ঈমান বটে!' আমাদের তরুণ বিদ্রোহী আত্মা জগতের সব কিছুর বিরুদ্ধে শক্তি নাকি সান্ত্বনা পেত বুড়োর ওই পতনে।

****


বহুদিন আমি এই কাহিনীটাকে ব্যবহার করে এসেছি মানুষের তাড়না আর অবদমন নিয়ে আমার ধারণাটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য। ঈমান একটা বদ্ধ অবদমন, আর তা খুবই ঠূনকো। কিন্তু একবার খুব হেরে গেলাম।

হাআবা, আমার খুব বন্ধু। এই রকম নেশাগ্রস্ত কেউ না হলে মনে হয় না আচমকা উল্টোচিন্তা দিয়ে তোমাকে তড়িতাহত করে।

হাআবা, কাহিনীটা শুনে বলে বসলো, কিন্তু ধরো, যদি ঈমান বলে স্থির চূড়ান্ত কিছু না থাকে, যেটা অর্জন করা যায়? যদি ধরো এইটা একটা ধারাবাহিক পরীক্ষার বিষয় না হয়? বরং ধরো এইটা এমন একটা কিছু যাতে তুমি হারলে তুমি হেরে যাও না, বরং আরেকবার শুরু কর। হারলা বলে জানলা, এই বড়জোর। নবীদের ধর একটা পরীক্ষা থাকে, ঈসা তাই শয়তানের প্রলোভন অতিক্রম করতে পারেন। মানুষের জন্য তেমন কিছু নাই। পাপী তাপী মানুষের কি ঈমান নাই? আছে তো।

প্রায় পুরোটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সকাল ন'টার স্মৃতির উজ্জ্বলতা ম্লান করে দিল হাআবা। প্রায় এক তুড়িতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১১ রাত ৩:০৪
২০টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×