somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খেয়া ঘাট
ভাষাহীন বাবুই

কৌতুকের পরের কৌতুক

২০ শে জুন, ২০১৪ ভোর ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌতুকের পরের কৌতুক
১। অফিসে বসে একজন আরেক জনের সাথে বাজি ধরেছে, আজ যে ভাবেই পারি কাজ থেকে ছুটি নিয়ে ফুটবল খেলা দেখতে যাবো।
কিন্তু তুমি ছুটি না পেলে যাবে কীভাবে? যে কড়া বস।
আরে তুমি দেখোইনা, কেমন করে ছুটি ম্যানেজ করতে হয়।একথা বলেই লোকটি সোজা অফিসের সিলিংয়ের সাথে পা লাগিয়ে মা নীচু করে উপুড় হয়ে ঝুলে রইলো।
বস, রুমে এসে এ অবস্থা দেখেতো একেবারেই তাজ্জব। জিগ্গাসা করলেন- কী ব্যাপার ঘটনা কি?
লোকটি বললো-স্যার আমি না বাল্ব হয়ে গেছি। এখন আমার কাজ হলো সারা রুমে আলো ছড়ানো।
বস বললেন- বুঝতে পারছি। বেশী কাজ করায় তোমার ব্রেন খারাপ হয়ে গেছে। যাও বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নাও।
লোকটি নেমে চলে যাওয়া শুরু করলো, তার পেছন পেছন তার সহকর্মীও রওয়ানা দিলো।
বস তখন জিগ্গাসা করলেন- কী ব্যাপার তুমি আবার কই যাও?
লোকটি সহাস্যে বললো- স্যার বাল্ব না থাকলে অন্ধকারে কাজ করবো কেমন করে?

কয়েক সপ্তাহ পরে। বস একটা জরুরী ফাইল খুঁজে পাচ্ছেন না। ডেনজেন রুমে লাইট চলে গেছে। পুরো রুম অন্ধকার।
বস বললেন- করিম সাহেব কে বলো- ফাইল রুমে সিলিং এর সাথে ঝুলে পড়তে আর রহিম সাহেবকে ফাইল খুঁজে বের করতে।

মোরালঃ চালাকিতে বসদের সাথে কখনোই ঠেক্কা দেয়া যাবেনা।



২। বিদেশ থেকে দুজন ট্যুরিস্ট এসেছেন বাংলাদেশে। ইনানী বীচের সমুদ্রে নৌকায় চড়ে বিকেল বেলা বাংলাদেশি গাইড আর ওনার ছোট ছেলের সাথে ঘুরছেন।
কিছুক্ষণ সমূদ্রে ঘোরাঘুরির পর কোরিয়ান লোক ওনার সুন্দর মোবাইল স্যাটটি পানিতে ফেলে দিলে, জাপানি ট্যুরিস্ট বললেন, আরে ভাই কি করেন?
কোরিয়ান ভদ্রলোক বললেন- ভাই নো টেনশান। এগুলো আমাদের দেশে প্রচুর আছে।
জাপানী ভদ্রলোকের একটু ইগোতে লাগলে উনিও উনার ক্যামেরাটা পানিতে ফেলে দিয়ে বললেন- এগুলোও আমাদের দেশে অনেক আছে।
এবার বাংলাদেশি ভাই কী করবেন। সাথে সাথে উনার ছোট ছেলেকে পানিতে ফেলে দিলেন। কোরিয়ান আর জাপানিতো পুরোই হতবাক।
বাংলাদেশি বললেন- টেনশান নিয়েন না ভাইজানেরা। এরকম পোলা আমার আরো ৫ টা আছে।

রাতের বেলা বাংলাদেশী গাইড পরিবারের সাথে খাবারের টেবিলে বসেছেন। ছোট ছেলে ঘরে ঢুকে বললো- বাবা ক্যামেরা পেয়েছি, কিন্তু মোবাইল স্যাটটি পাইনি। ওটা পানির বেশী গভীরে চলে গেছে।

সেজ ছেলে পরক্ষণেই ঘরে ঢুকে বললো -এই নে তোর মোবাইল স্যাট, সাথে গত সপ্তাহের না পাওয়া সুইস ট্যুরিস্টের ঘড়িটাও নে।

কিছুক্ষণ পর দরজায় ঠক ঠক শব্দ। দরজা খুলে দেখেন সেই জাপানি আর কোরিয়ান ভদ্রলোক।
উনারা সহাস্যে বললেন- আমরা ডুবে যাওয়া টাইটানিকের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ খুঁজে বের করার জন্য নিঁখুত,দক্ষ ডুবুরী খুঁজছিলাম।
আর আপনার ছেলেদের সম্পর্কে আগেই জেনেছিলাম। কোনো জাপানি আর কোরিয়ানদের কখনো দেখেছেন কারণ ছাড়াই কোনো কাজ করতে ? বিশেষ করে মূল্যবান কোনো কিছু এভাবে সমূদ্রে নিক্ষেপ করতে। তবে শুভসংবাদ হলো- আমাদের আন্ডার ওশ্যান ডাইভিং প্রজেক্টের জন্য আপনার ছেলে মনোনীত হয়েছে।

৩। স্বামি অবাক হয়ে স্ত্রীকে বললেন- আমি একটা জিনিস খেয়াল করলাম, প্রচন্ড কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুমি বাথরুমে ঢুকো আর তারপর খুব হাসিমুখে বের হয়ে আসো। ঘটনাটা কি?

ঘটনা কিছুই না। বাথরুমে ঢুকে মনে খুব শান্তি পাই।
কেন কীভাবে? দুনিয়ার কোথাও তোমার শান্তি নেই। ঝগড়ার মাঝে বাথরুমে ঢুকে কী এমন শান্ত পাও।
শুনলেতো তোমার অশান্তি বেড়ে যাবে।
অশান্তি বাড়লে বাড়ুক, তারপরও শুনি।
বাথরুমে ঢুকে তোমার টুথব্রাশ দিয়ে বেসিন পরিস্কার করি। আহ! কী যে শান্তি।
একথা শুনে স্বামী এবার হোহো করে হেসে ওঠে বললো-বাহ! আমিও খুব শান্তি পেলাম।
তোমার টুথব্রাশ দিয়ে আমি বেসিন পরিস্কার করি, আর তুমি শান্তি পাচ্ছো? নাটক তো ভালোই পারো।
হ্যাঁ, নাটকইতো। আমি জানতাম তুমি এই কান্ডই ঘটাবে। কারণ এর চেয়ে ভালো কুমতলব তো তোমার মগজে ঢুকবেনা। তাই নকল টুথব্রাশটি আমি ঐ খানেই রেখেছি। অন্তত প্রতিদিন বেসিন পরিস্কারের কাজটিতো তোমাকে দিয়ে হচ্ছে।

৪। বয় ফ্রেন্ড ওর বান্ধবীকে ফোনে বলছে-জানো পাখি তুমি কই?
এই তো , আব্বুর নতুন বিএম ডব্লিও তে করে একটু ঘুরতে বের হয়েছি।
ওয়াও। তাই নাকি।
হুমম। তাই।
শোনো, আমি গাবতলী টু গুলিস্তানের ১০ নাম্বার বাসের পিছন থেকে ৩ নাম্বার লাইনের প্রথম সিটেই বসে আছি ঠিক তোমার তিন সীট পিছনে। হেল্পারকে তোমার ভাড়াও দিয়ে দিয়েছি। এবার বিএমডব্লিও বাদ দিয়ে আমার পাশে এসে বসো। সীট খালি আছে।

মেয়েটি বন্ধুর পাশের সীটে গিয়ে বসলো। মিটিমিটি হাসছে।
ছেলেটি বলছে- আজকাল দেখি দেশে সীটিং সার্ভিসের বাস সব বিএমডব্লিওতে পরিণত হয়েছে।
এবার মেয়েটি বলছে- কনস্টেবল পদের কেউ যদি ড্রেস পাল্টিয়ে সার্জেন্ট হতে পারে, তবে সীটিং সার্ভিসের বাস বিএমডব্লিও হলে কমই হয়। পুরো একটা উড়োজাহাজই হয়ে যেতে পারে।
গাবতলী একটা কাজে এসেছিলাম। আর দায়িত্বরত তোমাকে দেখেই বুঝলাম আমার হবু বর কেমন সার্জেন্ট। আর এই গাড়ীতে তোমাকে ওঠতে দেখেই আমিও ওঠে পড়লাম। সমস্যা নেই- দুঃখ পেয়োনা জানো। সবাই এক আধটু চাপা মারে। আর জানোতো ঝালে যদি ঝাল কাটে, তবে চাপায় চাপা কাটে।


© কৌতুকের পরের কৌতুক -আরিফ মাহমুদ ভার্সন।






সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৪৫
২১টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×