বোম্বে শহরে ১৯৯৮ সালে এই ঘটনাটি ঘটেছিলো। Godrej & Boyce Mfg. Co. Ltd. এর লোকাল কার্যালয়ে একদিন খবর রটে গেলো-ক্যাফেটেরিয়ায় যে খাবার দেয়া হয়- সে খাবার আসলে কাকের মাংস। একজনের কাছ থেকে আরেকজনের মাধ্যমে পুরো অফিসে মুহুর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে- শুরু হলো কর্মকর্তা, কর্মচারী সবার মাঝে তীব্র অসন্তোষ। দানা বেঁধে ওঠলো আন্দোলন। শুরু হলো লাগাতার কর্মবিরতি। প্রধান অফিসে খবরটি পৌঁছালে- কোম্পানীর President and Executive Director যিনি বর্তমান ভারতে সবচেয়ে বেশী ভূসম্পত্তির মালিকদের একজন Mr.Phiroze Dinshaw Lam দ্রুত বোম্বাই এসে মিটিং-এ বসেন।- মিটিং এ বসে তিনি দুটো কথা বলেন-
১)যে ব্যক্তি ক্যাফেটিরিয়ায় খাবারে কাকের মাংস পেয়েছে-সে এটা যে কাকের মাংস তা চিনলো কেমন করে? সে নিশ্চয়ই আগে কাকের মাংস খেয়েছে। আর একবার খেলেও তো তা চিনার কথা না। মনে হয় সে বারবার কাকের মাংস খায়। আমি অনুরোধ করবো উনাকে সামনে প্রমাণ নিয়ে আসার জন্য।- কিন্তু কেউ আর এগিয়ে আসলো না।
এর পরে তিনি যে কথাটি বলেছিলেন তার তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২) যারা গুজবে কান দিয়ে পুরো কোম্পানীর কার্যক্রম দুদিন বন্ধ রাখলো। কোনো প্রমাণের তোয়াক্কা না করে একটা কোম্পানীকে প্রায়ই বন্ধই করে দিলো- আমার দূর্ভাগ্য এরকম অপদার্থদের আমি আমার কোম্পানীতে কাজে নিয়োগ দিয়েছিলাম।
এতো গেলো একেবারে সত্য ঘটনা। এবার এই গল্পটি শুনুন।-
ঢাকা শহর থেকে ফেরার পথে রহিম বেপারি দেখেন একটা মরা কাক।গাড়ীতে বসে তিনি পাশের যাত্রীকে বলেন- কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলেই হলো।একটা মরা কাক দেখে ওঠলাম। এটা কোনো কুডাক নাতো। পাশের যাত্রী পরের গন্তব্যে নেমে দোকানে পান খেতে খেতে বললেন-ঢাকা শহরে আজকাল কাকেরও খাওনের অভাব । খাওন না পেয়ে কাক মরে পড়ে আছে। পাশে থেকে এই গল্প আরেকজনে শুনে চায়ের দোকানে ঢুকলেন। টেবিল জুড়ে গুলতানি চলছে। তিনিও বলা শুরু করলেন- ভাইগো, এ এক আজব কারবার। ঢাকা শহরের রাস্তায় এখন শুধু ঝাকে ঝাকে মরা কাক। নিজের চোখেই দেখে আসলাম। চায়ের আড্ডায় এই গল্প আরেকজন শুনে ঘরে এসে বউকে বললেন- বউগো। শুকরিয়া আদায় করো। যে রাতে দুটো খেয়ে ঘুমোতে পারছি। যে ঘটনা আজ বাজারে শুনলাম। ঢাকা শহরে নাকি অনেক মানুষ মরা কাক খেয়ে বেঁচে আছে। আসতাগফিরুল্লাহ। বউ পরদিন সকালে পাড়ার মহিলাদের সাথে গল্প করছেন- বইনগো, ঢাকা শহরে এক মহিলা- মরা কাকের গোশত খেয়েছিলো। কিছুদিন পর সেই মহিলার পেট থেকে কাকের বাচ্চা বের হয়েছে। আখেরি যামানার নমুনা গো বইন। এই অতিরণ্জিত গল্পের শেষ কীভাবে হয়েছে-তা বলতে পারবোনা। শুধু একটু নমুনা দিলাম। এই নমুনাটা একটু খেয়াল রাখেন।কারণ কিছুক্ষণ পর এটা কাজে লাগবে।
কয়েকবছর আগে শুনেছিলাম- দেশে ইসলাম চর্চা একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কেউ কেউ আরো বাড়িয়ে বললেন- যে অবস্থা চলছে। কিছুদিন পর মসজিদে আযান দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। দাড়ি , টুপি দেখলেই জঙ্গি সন্দেহে জেলে পুরা হচ্ছে। কথাটা যে কতবড় অতিরণ্জিত ঢাহা মিথ্যা কথা তা দেশে গিয়ে বুঝলাম। মাঝে মাঝে খুব ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছি। জুমার নামাজে দেখেছি মসজিদ ভর্তি মানুষ। শুধু আমার বাপ, চাচা ,দাদার না পুরো কাতার ভর্তি মানুষের গালে দাড়ি। কই , কাউকেতো জঙ্গী বলে জেলে পুরো হচ্ছেনা। এমনকি জঙ্গি বলে সন্দেহ করা হচ্ছেনা। এতোটুকু মনে হয়নি, কারো ধর্ম পালনে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের গ্রামে আগে মসজিদ ছিলো ১টা এখন হয়েছে তিনটা। আল্লাহর মেহেরবাণীতে তিনটি মসজিদই মুসুল্লীতে ভর্তি হয়ে যায়। মানুষের ধর্মচর্চায় এতোটুকু ভাটা পড়েনি এবং পড়বেও না ইনশাল্লাহ। এখানে জমিনের আইলে, নৌকার পাঠাতনে, পাথরের উপরে পরম করুণাময়ের দরবারে মানুষ খেয়ে না খেয়ে নামাজের সময় হলেই সিজদায় অবনত হয়।
আরেকদল, প্রচার করছে খুবই জোরে শোরে। বাংলাদেশটা আফগানিস্তান হয়ে যাচ্ছে। খুবই দুঃখ হয়। খুবই কষ্ট হয়। যেভাবেই হোক সুজলা, সুফলা, শস্য , শ্যামলা, গিরি, কুন্তলা, শ্যাম , সুন্দর এই প্রিয় জন্মভূমিকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই যেন ওরা জিতে যায়। ওরা মনে প্রাণে চায় পুরো বিশ্বে এই দেশটিকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে। অনেক আগে একবার রেড লিস্টে বাংলাদেশের নাম ওঠেছিলো। তখন এয়ারপোর্টে কি পরিমাণ যে ভোগান্তিতে মানুষকে পড়তে হয়েছিলো তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন।
দাড়িওয়ালা সাথে চাপাতিওয়ালা কিছু মানুষকে জেলে পুরলেই এর মানে এটা না যে, সরকার শুধু দাড়ি টুপি দেখলেই জেলে পুরে দিচ্ছে। আর অনাকাঙ্খিত ভাবে মুক্তমনের চর্চা করা বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের বর্রবতমভাবে খুন হওয়া মানেই এই নয় যে পুরো দেশটিই মহুর্তেই আফগানিস্তান হয়ে গেছে। দুটোই মিথ্যা। দুটোই ভ্রান্ত ধারণা। দুটোই গুজব। কাকের মাংস খাওয়ার মতো। কাকের বাচ্চা প্রসব করার মতো।
২০১২ সালের ২৮ শে নভেম্বের নিউইয়র্কবাসীর জন্য সবচেয়ে শুধু সুখের দিনই না। বরং এক ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় দিন। এই একটি মাত্র দিন যেদিন এই সভ্য শহরে কোনো চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি হয়নি। এবার বুঝেন। উপলব্দি করতে পারেন? পৃথিবীর সবচেয়ে সুসভ্যতম একটা শহরের একি নিদর্শণ। প্রায়ইতো শুনা যায় এই শহরে না হয় অন্য শহরে স্কুলে , মলে গুলি হয়। স্কুলে পড়ুয়া শিশুদের বুক মুহুর্তেই ঝাঁঝড়া হয়ে যায়। কই কেউ তো বলেনি- দেশটি জঙ্গীদের আস্তানা হয়ে গেলো। কারণ- নিজের দেশের ইজ্জত,সম্মান, মর্যাদা নিজে না দিলে অন্যে কীভাবে দিবে?
যে সমস্ত ইসলাম নামধারী কাপুরুষেরা, খুনীরা, জানোয়ারের দলেরা এইভাবে বিচ্ছিন্ন গুপ্ত হত্যা ঘটাচ্ছে, মমতাময়ী মা বোনের বুক খালি করছে, তাদের ধরে এনে ফাঁসীতে ঝুলানো হোক, প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মারা হোক।আজকে এরাই সবচেয়ে বেশী ইসলামের অবমাননা করছে। হাতে চাপাতি নেয়ার আগে দয়া করে বিদায় হজ্বে নবী সাঃ এর ভাষণের এই লাইনগুলো একটি বার পড়ুন।
" তোমরা ধর্মভ্রষ্ট হয়ে পরস্পর পরস্পরের সংগে ঝগড়া ও রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না।সাবধান! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করো না। এই বাড়াবাড়ির ফলে তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।মাহানবী (সঃ) আরো বলেন- মুসলমান ঐ ব্যক্তি। যার মুখ ও হাত থেকে অন্যান্যরা নিরাপদ থাকে।
ঈমানদার বিশ্বাসী ঐ ব্যক্তি-যার হাতে সকল মানুষের ধন ও প্রাণ নিরাপদ থাকে।তোমরা হিংসা- বিদ্বেষ ত্যাগ কর। কেননা আগুন যেমন জ্বালানী কাটকে ভষ্মীভূত করে। হিংসা তেমনি মানুষের সৎ গুণকে ধ্বংস করে।সমাজে তোমার আচরণ ঐ রূপ হবে, যেমন আচরণ তুমি অন্য থেকে কামনা কর। সমাজে তোমার ব্যবহার ঐরূপ হবে, যেরূপ ব্যবহার তুমি নিজে পেলে খুশি হও।হে মানব সন্তান! তোমাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ, যে মানুষের উপকার করে।হে মানব বৃন্দ! কোন দূর্বল মানুষের উপর অত্যাচার করো না"।
এবার শুরুর গল্পে ফিরে আসি। কর্মচারীরা গুজবের মাধ্যমে একটা কোম্পানীর বারটা বাজিয়ে দিয়েছিলো। আর আপনারা একটা পুরো দেশকেই বিপদের মাঝে ঠেলে দিচ্ছেন। একদল চাপাতি দিয়ে কল্লা কেটে। আরেকদল দেশকে দিনে শতবার দেশ জঙ্গী রাষ্ট্র হয়ে গেলো, আফগান হয়ে গেলো, অনেকে আরেকটু বাড়িয়ে দেশ বাংলাস্থান হয়ে গেলো বলে জিকির তোলে। দোহাই লাগে, বিচারের দাবী জোড়ালো করুন। শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হোন।কিন্তু, অনুগ্রহ করে দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবেন না।
যদি করেন, তবে এটা এই স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের সাথে গাদ্দারি করা হবে, এটা এদেশের সাড়ে ষোল কোটি মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এটা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে প্রতারণা করা হবে। এই দেশে জন্ম নিয়ে এই বেঈমানি আপনি করতে পারেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


