somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকার নির্বাচন

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আটলান্টায় আজ হিলারি এসেছিলেন- উনার নির্বাচনী প্রচারণায়ঃ

আজ আমাদের শহর আটলান্টায় মার্কিন হেভিওয়েট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী,সাবেক ফার্স্ট লেডি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি এসেছিলেন তাঁর নির্বাচনি প্রচারণা সফরে। পুরো বিশ্বে একনামে পরিচিত হিলারি যদি নির্বাচিত হতে পারেন তবে হবেন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বের এক নাম্বার ক্ষমতাবান মহিলা।

উনার আগমন উপলক্ষে প্রায় বিগত একমাস ধরে তুমুল প্রচারণা চলছিল। হাটে, মাঠে, দোকানে, শপিং মলে, অফিসে, কোর্ট, কাচারিতে, আড্ডায় এটাই ছিলো সবচেয়ে আলোচিত খবর। ঘর থেকে বের হলেই চোখে পড়ছিলো বিশাল বিশাল নির্বাচনী ব্যানার, দেয়ালে,দেয়ালে পোস্টার। আটলান্টা মূল শহরের ভিতর দিয়ে যে সড়কগুলো চলে গেছে সেগুলোর ওপর অনেক উঁচু উঁচু গেট। কত শত গেট যে হবে তা গুণে শেষ করা যায়নি। প্রতিটি গেটের ওপর ওনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডের, থানার, কাউন্টির ডেমোক্রেট দলের সভাপতি, সেক্রেটারীর ছবি সম্বলিত অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন পোস্টার।শুধু রাজনৈতিক দলেরই নয় অন্যান্য বড় বড় নামি দামী মানুষের নামেও তৈরী করা হয়েছে আলাদা-আালদা গেট। গেটে নিজেদের ছবি আর সুন্দর সুন্দর অক্ষরে যত বড় করা যায় তার চেয়েও বড় করে নিজেদের নাম লেখা। যদি নেত্রীর চোখে একটিবার নামটা পড়ে যায়-এই আশায়। পোস্টারে ইয়া বড় বড় গাঁধার ছবি। বলে রাখা ভালো ডেমোক্রেটদলের মার্কা হলো গাঁধা। মার্কা গাঁধা কেন এটা নিয়ে একটা মজার ঘটনা এই ফাঁকে বলেই ফেলি।

১৮২৯ সালে এন্ড্রো জ্যাকসন যখন নির্বাচন করার জন্য ঘোষণা দিলেন তখন বিরোধী দল বলতে শুরু করলো-এ শুধু মস্ত বড় আহাম্মকই না আস্ত একটা গাঁধা।হায়! এই গাঁধাটাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবে। জ্যাকশন বললেন-হয় আমার মার্কা হবে বেকুব না হয় গাঁধা। ধুর্ত শেয়াল হওয়ার চেয়ে সৎ , পরিশ্রমী গাঁধা হওয়াই ভালো। এই গাঁধা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে জ্যাকশন আমেরিকার সপ্তম এবং প্রথম ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হলেন।

যাই হোক। তুমুল প্রচারণার গতকাল বিকেল ছিলো শেষদিন। নেত্রী আজ শহরে এসে পৌঁছালেন। এয়ারপোর্ট থেকে আটলান্টা সিটি হল পর্যন্ত দুপাশে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে নেত্রীকে একনজর চোখে দেখার জন্য।সিটি হলের ভিতরে , করিডোরে, সামনের মাঠে তিল ধারনের জায়গা নাই। মানুষ আর মানুষ।জর্জিয়ার একেবারে প্রত্যন্ত অন্চল থেকে মানুষ ছুটে এসেছে। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত চারপাশ। ৫-১০ মাইল দূর থেকেও মাইকের প্রকম্পিত আওয়াজ শুনা যাচ্ছিলো। মন্চে উপবিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ডেমোক্রেট দলের বড় বড় নেতা, যুব নেতা, ছাত্রনেতারা গলা কাঁপিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। বক্তৃতার এক ফাঁকে হিলারি স্টেজে আসতেই শুরু হয়ে গেলো "হিলারি, হিলারি-আমেরিকার দিশারি"। "আমার ভোট আমি দেবো-গাঁধা মার্কায় ভোট দিবো" ইত্যাদি নানা রকমের শ্লোগান। পুরো শহরের যাবতীয় কাজ -অফিস-সব কিছু বন্ধ হয়ে আছে। আমি চারঘন্টা ট্রাফিকে আটকে থেকে হিলারিকে ইচ্ছেমতো মনে মনে গালি দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছালাম। অফিসে গিয়েও দেখি সবারই আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে মুখরোচক আলাপ।

বসকে বললাম- নির্বাচনের খবর কি?
উনি বললেন কীসের নির্বাচন। রোববারে যে একাডেমি পুরস্কারের আসর বসছে - সেখানে কোন কোন ছবি নির্বাচিত হয়েছে অস্কারের জন্য সেটা বলছো?
আমি মনে মনে বললাল - তোর মাথা বলছি। আর প্রকাশ্যে বললাম-জ্বি, সে কথাই বলছি।
উনি বললেন-কোন ছবি নির্বাচিত হয়েছে সেটা জানিনা। তবে এবার আমার সবচেয়ে পছন্দের কমেডি অভিনেতা ক্রিসরক হোস্ট হচ্ছে -সেটাই আসল খবর। রোববারের অপেক্ষায় আছি। সেটা মিস করতে পারিনা।
এবার আমি বললাম- না । আজ আটলান্টায় হিলারি এসেছিলেন-নির্বাচনী প্রচারণায়। সেটাই জানতে চাচ্ছিলাম।
উনি বললেন- ও তাই নাকি। সেটাতো জানিনা। তা তোমার ক্রিস রককে কেমন লাগে?
আমি মনে মনে আবার বললাম- আমি কই কি?আর আমার সারিন্দা কয় কি? পুরো ক্রিসরককে মাথায় তোলে না হয় শুধু রক দিয়ে আমার কপালে একটা জোরে করে বাড়ি দে। তোদের দেশে এতোবড় একটা নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে তোরা এর কোনো খবরই রাখিসনা। একটা ব্যানার, পোস্টার পর্যন্ত লাগালিনা। একটা মিছিল পর্যন্ত করলিনা। একটা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলোনা। "ভোটের আগে মাঠের লড়াই"- এই টাইপের কোনো নিউজও হলোনা।দূর তোদের দেশের নির্বাচনটা বড় বোরিং। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রটাও খুঁজে পাওয়া যায়না।

বুঝতেই পারছেন- উপরে নির্বাচনী প্রচারণার যে বর্ণনা লেখার শুরুতে করেছি সব মিথ্যা। শুধু আজ আটলান্টায় হিলারি এসেছিলেন একথাই সত্য।তাও এসেছিলেন সুপার টুইসডে'র আগে বড় :) একটা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে। সাথে জড়িত এমন কিছু মানুষের সাথে উনি স্বল্প সময়ের মতবিনিময় করে অন্য রাজ্যে ফিরে গেছেন। যা শুধু খবরের মাঝেই জেনেছি। সাধারণ মানুষ সে খবরও রাখেনি।

নির্বাচন নিয়ে কোথাও কোনো হাতাহাতি, যাতাযাতি, লাতলাতি নাই,তবে রোববারের অস্কার নিয়ে বেশ মাতামাতি আছে :) :) :)


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:৫২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×