...... ''মহানগর তূর্ণা নিশিথা আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ২ নম্বর প্লাটফরম ছেড়ে যাবে''...অবাক হলাম ... আজ সব কিছুই যেন অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ছেড়ে যাচ্ছে ... যে কিনা একটু আগেই আমার সাথে ছিল সেও চলে গেল ...তাও আবার জীবনের প্লাটফরম ছেড়ে ...
...''সমস্যাটা কি তোমার ?? বুঝতে পারছনা কেন, এই সম্পর্ক হয় না '' ...
...''কেন হয় না ??''
...''আমার বাসায় যদি কেও জানতে পারে যে আমি একটা ছেলের সাথে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি,আমার জান কুরবান করে ফেলবে ..''
...'' তো এতদিন যে আমার সাথে কথা বললা,ঘুরলা ...তোতা পাখির মত ভালবাসি ভালবাসি বুলি আওরালা তখন তোমার জান কুরবান হয় নি ...??"
..."না হয়নি...আসলে আমি কি বলব ...একটা মানুষের যদি কখনো মন থেকে একজনের প্রতি অনুভুতি না আসে তো আমি কি করতে পারি ... আমি তোমাকে অনেক ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি ...কিন্তু তুমি বুঝ নাই ...এটাকে আসলে ভালবাসা বলা চলে না ...I think its INFATUATION.."
..."INFATUATION ..??"
স্তব্ধ কিছুক্ষণ ...সামনে রাখা মোমবাতির শিখাগুলো কাঁপছে ...এই রেস্টুরেন্ট টা আমার ভাল লাগে ...কেন ভাল লাগে সেটা জানি না... অন্যরকম একটা আবহ তৈরি হয় ...রহস্যময়ী ...
..."কিছু বলছনা কেন...?"
..."মেয়ে হিসেবে রহস্যময় হওয়া কোন দোষের না ...কিন্তু রহস্যের চাদর টা এত গভীর তা ভাবিনি ...যাই হোক বাংলা কথা শুনে রাখ, আমি তোমাকেই চাই..."
..."আমি সরি...আমি পারবনা..."
...মোমবাতি শেষের পথে... আলো ছায়ার খেলাটা দেখতে ভাল লাগছে ...
..."আমি তোমাকে কখনো কোন কিছুতে জোর করিনি... আজ ও করবনা ...জোর করলে তোমার এই কোথাগুলো মনে হয় আগেই শুনতাম...কিন্তু একটা কথার জবাব দিবে কি ??"
..."হুম"
..."গলার স্বরটা এত নেমে গেল যে ..."
..."বল"
..."মন থেকে যখন কখনো আসেই নি... তাহলে সেদিন হ্যাঁ বলেছিলে কেন...?? এই প্রশ্নটা আজ এড়িয়ে যাবা না প্লিজ ...কেন আমাকে আশা দিয়েছ... কেন সময় গুলা নষ্ট করেছ আমার... তোমার দেওয়া ২ লাইন এর একটা চিঠিও আজ ৪ বছর ধরে আমার মানিব্যাগ এ স্বযত্নে আছে... যে যত্নটুকু আমি নিজের প্রতি করলেও আজ আমি অনেকদুর এগিয়ে থাকতাম...বল... চুপ করে থাকলে কিন্তু আজ অন্যরকম কিছু হবে বলে দিচ্ছি ... just reply..."
..."আমি তোমাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলাম..."
..."একদম ফালতু কথা বলবে না...২ বছরের জায়গায় আজ ৪ বছর হচ্ছে...তাও তোমার অপেক্ষার পালা শেষ হয় নাই...এমন কোন দিন ছিল না যেদিন তোমার কথা ভাবতাম না... তুমি এমন করতে পারলা কিভাবে...
যাই হোক আমি যাচ্ছি...আসবনা আবার কখনো এই কথা বলবনা ...আমি অনেক বেহ্যায়া তো ...তবে দেখতে চাই কে তোমার মন পায় ...ভাল থেক...বিদায়...
... আর শোন, সন্ধ্যা হয়েছে... সাবধানে যেও... বাসায় পোঁছে আমাকে জানাবানা... ফেসবুক এ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে আমাকে রিমুভ কর...... আমার ফোন নাম্বার টা ডিলিট করে দিও..."
... ট্রেন বাঁশি দিচ্ছে... দিনের ৩৭ তম সিগারেট টা অর্ধেক টেনেই ফেলে দিলাম...মন খারাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অজানা ট্রেন ভ্রমন আমাকে স্বস্তি দিবে আমি জানি... পূর্ব অভিজ্ঞতা ... হুট করেই যেকোনো ট্রেন এ উঠে পড়া আমার মনকে অনেক ভাল করে... এটা ও জানে...
...... ট্রেন এর দরজায় দাঁড়িয়ে আছি...হেলান দিয়ে... অল্প অল্প করে চাকা ঘুরছে... মনটা ভাল হতে শুরু করেছে...
...নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছি না... কাকে যেন হন্যে হয়ে খুঁজছে ও... ধীর গতিতে চলন্ত তূর্ণা নিশিথার প্রতিটা বগি ও অতিক্রম করছে দ্রুত... ঝ বগির দরজায় চোখ পড়তেই রীতিমত চেঁচিয়ে উঠল ও...
.." তোমার সাথে আরও আগেই ব্রেকআপ করা উচিৎ ছিল ...গাধা কথাকার... কখনও হাত টা ধরে বলেছ যে ' তুমি যেতে পারনা...আমি তোমাকে ভালবাসি , বাসব... '
... জনাব গাধা সাহেব, ট্রেন থেকে নামার কথাও কি আমার বলে দিতে হবে...?? উল্লুক কথাকার"
... ওর ঝাড়িতে হুঁশ ফিরল... ট্রেন থেকে যেভাবে লাফ দিলাম, রজনীকান্ত দেখলে নির্ঘাত আত্মহত্যা করতেন...
... আমি বললাম " আসলে সাহস পাইনি কখনও ... তোমার দিকে তাকালেই মনে হত পালাবার রাস্তা কই...আজ যে কিভাবে সাহস পেলাম তোমাকে এত কিছু বলার... জানি না ..."
"থাক... আর সাহস দেখাতে হবে না... অনেক রাত হয়েছে... ঘুমাও... প্রতি রাতেই আমাদের এই প্রেম কাহিনি না শুনলেও চলবে ...বাতি নিভিয়ে দিলাম... নইলে উনি আবার জেগে যাবেন... সারারাত ট্রেন এর হুইসেল বাজবে......"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



