২০০৬ সালের মার্চ মাস, রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের চরম গরমের দিন। আমি ন্যাশনাল ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় কাজ করি, সাহেব বাজার এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে হাজী ভবনে (৫ তলা বাড়ির ৪ তলায়) ব্যাচেলর থাকি। বারান্দায় দাঁড়ালে রাজশাহী কলেজের সবুজ মাঠ, শাহ মখদুম মাজারের মিনার, পদ্মার বুকে সীমাহীন জলরাশি আর বহুদুরে নদীর বুকে সাদা চর দেখা যায়।
সেই সময় শিখা (তখন প্রেমিকা, এখন স্ত্রী) থাকতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন নাহার হলে। কোন এক ছুটিতে শিখা ঢাকা থেকে পার্বতীপুর যাবে, তাই সে বিকেল ৫.০০ টার (ঢাকা-পার্বতীপুর) বাসের টিকিট কেটে ছিল। শিখার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল যে, সে পার্বতীপুর রওনা হবার আগেই আমি ঢাকা পৌছাবো। আমাদের দেখা হবে চারুকলায়।
আমি যথারীতি অফিস শেষ করতে চাইলাম সন্ধ্যায় কিন্তু আফিস শেষ হল গভীর রাতে। রাজশাহী-ঢাকা রুটের বাসের টিকিট কিনতে অনেক রাত পর্যন্ত চেষ্টা করলাম। অবশেষে রাতের কোন টিকিট না পেয়ে, দিনের-বাসের একটা টিকিট কিনে ঘুম ঘুম চোখে বাসায় ফিরলাম।
তারপর, যথারীতি দিনের বেলা গ্রিন-লাইন বাসে রওনা হলাম রাজশাহী থেকে ঢাকার দিকে। আমার পথ আর ফুরায় না...। এদিকে শিখার সাথে দেখা করার জন্য একটা দিন হাতে ছিল কিন্তু সেই দিনটা শেষ হতে বাকি থাকলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা...।
ঢাকা থেকে শিখা বার-বার ফোন দিচ্ছিল, আমি কখন ঢাকা পৌছাবো, আমি বার-বার বলছিলাম, আমি আসছি...। অবশেষে ৫.০০ টায় শিখা ঢাকা থেকে পার্বতীপুর রওনা হলো।
এদিকে ৫.০০ টায় আমাদের বাস আশুলিয়ার কাছা-কাছি আসলো। আমি শিখা কে বললাম, তোমার বাসের নাম বলো, সে বলল। তারপর বললাম, এবার বল বাসের কোন পাশে কোন সিটে বসেছ। সে বলল, সে ঢাকা-পার্বতীপুর বাসের মাঝা মাঝি ডান-দিকের জানালার-পাশের একটা সিটে বসেছে। এদিকে, আমি রাজশাহী-ঢাকা বাসের মাঝা মাঝি ডান-দিকের জানালার-পাশেরই একটা সিটেই বসেছি, মানে আমি শিখার একদম বিপরীত দিকের সিটেই আছি।
এবার বার-বার ফোন চলল, আমি কোথায়, আমি বললাম, তুমি কোথায়? তারপর আমাদের বাস, মানে শিখার ঢাকা-পার্বতীপুর বাস আর আমার রাজশাহী-ঢাকা বাস সাভারে এসে পৌছালো এবং একটা ১০ মিনিট ব্যাপী জ্যামে পড়ল। এক সময় আমাদের দুইটা বাস পাশাপাশি দাঁড়াল। আমার পাশের বাসের জানালায় আমি শিখাকে দেখলাম, শিখা আমাকে দেখলো। আমি আর শিখা প্রথমে ফোনে, তারপর ইশারায়, সবশেষে পাশাপাশি বসে কথা বললাম। কি অসম্ভব একটা সম্ভাবনা!!!
বাসের এক যাত্রী আমাকে বলল, কি ব্যাপার? আমি বললাম, ওই মেয়েটা আমার প্রেমিকা...।
সে তো অবাক, তাকে বোঝাতে পারলাম না আজকের ব্যাপারটা একটা কাকতালীয় ঘটনা।
আজ দীর্ঘ ৮ বছর যাবত, যে ব্যক্তি আমাদের এই ঘটনা শুনে, সেই বলে তোমরা দু’জন (আমি আর শিখা) এতো সুন্দর গল্প বানাতে পারো যে, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে কিন্তু কেন জানি পারি না। আমরা শুধু হাসি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


