somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খোরশেদ খোকন
আমার জন্ম টাঙ্গাইলের হামজানি গ্রামে। শৈশব, কৈশোরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ছিলাম; বাবার সরকারী চাকুরীর জন্যে। কলেজ ছিল টাঙ্গাইল জেলায়। তারপর পড়াশুনা ঢাবি'র ফিন্যান্স বিভাগ। গত নয় বছর যাবত প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মজীবন চলছে। www.facebook.com/khokonz

গল্পঃ মেঘলা আকাশ (পর্ব-০১)

০৩ রা জুলাই, ২০১৫ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসুন গল্পটা শুরু করার আগে একটু ভুমিকা করে নেই। গত কয়দিন যাবত আমার মাথার ভেতর একটা শূন্যতা বোধ কাজ করছে। আর সে শূন্যতা বোধের বিষয়টা হল, এই শহুরের জীবনযাপন নিয়ে ব্যাস্ত মানুষগুলো একান্ত নিজের কথাগুলো কি আসলেই একে অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারছে? পরিবেশ পরিস্থিতির চাপে কেউ কি মিথ্যে বলছে না? অথবা অভিনয় করছে না? যাই হোক, এই গল্পের মধ্যে দিয়েই আমরা সেটা আবিষ্কার করবো, চলুন এগিয়ে যাই।

এই গল্পের মেয়েটির নাম মেঘলা, সে অসম্ভব মেধাবী, সাহসী আর আত্মবিশ্বাসী। সে একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে। আর ছেলেটির নাম আকাশ, সে মাঝারী মানের মেধাবী, ভাবুক আর কিছুটা আত্মভোলা স্বভাবের। সেও চাকরী করে।

যাই হোক, ওদের দু’নের একটাই মিল আর সেটা হল, ওরা দু’জন জীবনের একটা সময় একটি স্কুলে পাশাপাশি বেঞ্চে বসে পড়াশুনা করেছে মাত্র দুইটা বছর। মজার বিষয় হলো, সেই ৮ম/৯ম শ্রেণীর ক্লাসে পড়তে স্কুলের কেউ কোনদিন তাদের দু’জনকে কথা বলতে দেখেনি!

ওরা দুজন কথা বলেছিল কিনা তা তারাই ভুলে গেছে!? যাই হোক, আজ ২০ বছর পর তাদের কথা হবে। কি শুনতে ইচ্ছে করছে? তাহলে ভূমিকাটা এইবার শেষ করেই দেই, কি বলেন?

মেয়েটি একদিন আবিষ্কার করে, তার বান্ধবীর স্বামীর ফেইসবুক লিস্টে একটি পরিচিত মুখ, ছেলেটা আকাশ। বান্ধবী’র কোন একটা সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবির ট্যাগের কারনে বান্ধবী, সাথে বান্ধবী’র স্বামী আর স্বামীর বন্ধু আকাশ পাশাপাশি এসে যায়। যাই হোক, মেঘলা খুব ভাল ভাবে দুদিন ভাবে তারপর সে সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর। সাহস করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় তারপর অপেক্ষা করে। দেখা যায় দু’দিন পর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ক্যান্সেল দেখাচ্ছে। ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায় তার। তার নিজের ফেইসবুক লিস্টে ২০০+ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আছে, আর সে কিনা পাত্তা পেলো না!?

যাই হোক, তার মাস খানেক পর আবার একটা ছবির ট্যাগ পেলো মেঘলা। এবার সে কমেন্ট করে বসলো আকাশের ছবিতে। কি চেনা যায়?

আকাশঃ কমেন্ট করলো “চেনা যায়...!?”। তারপর সে একটা ইনবক্স করল মেথলাকে, “তুমি মেঘলা তাই না, আমাকে মনে আছে?

মেঘলা মেসেনজারে লাইভ ছিল, সে বলল, তুমিই তো আমাকে মনে রাখনি! এখন খুব চেনার ভান করছ?

আকাশঃ এই বুঝতে পারছি না কিন্তু!?

মেঘলাঃ আমি তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম, তুমি রিকোয়েস্ট ক্যান্সেল করছ ;(

আকাশঃ ও মনে পড়ছে, প্লিজ মন খারাপ করো না, এই নাও আমিই তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিলাম, কি একসেপ্ট করো?

মেঘলাঃ এই, এখন অনেক রাত! এখন ঘুমাতে যাও। কাল অফিস আছে না!?

আকাশঃ আচ্ছা ঘুমাতে যাচ্ছি, তার আগে তোমাকে একটা লেখা পড়তে বলছি, লেখাটা কাট পেস্ট দিলাম, পরে জানিয়ো কিন্তু!

মেঘলাঃ আমি কাট পেস্ট পড়ি না। আর তোমার সাথে আমার কথা নাই। আড়ি।

(তারপর মেসেনজারের মেঘলা ডিসকানেক্ট....)

এবার আপনারাই ভাবুন, মেঘলা কি আকাশের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করবে? নাকি করবে না?
আর ইছে হলে আকাশের কাট/পেস্ট পড়তে থাকুনঃ

''একদা কলকাতা নামের এই শহরে শুভঙ্কর নামে ৪৫ বছর বয়সী এক সদ্যজাত যুবক ভালবেসে ফেলেছিল নন্দিনী নামের এক বিদ্যুৎ-শিখাকে। গেরিলা-যুদ্ধের মতো তাদের গোপন ভালবাসাবাসির নিত্যসঙ্গী ছিলাম আমি। আর নিজের খাতায় রোজ টুকে রাখতুম তাদের আবীর-মাখানো কথোপকথনগুলো। সেই শুভঙ্করের বয়স এখন ৫০। সেই নন্দিনী হয়তো এখন বন্দিনী নিদারুন-সুখের কোন সোনার পালঙ্কে। ওদের মাঝখানে নদী আর খেয়া দুটোই গেছে হারিয়ে। একবার ভেবেছিলুম ঝড়ের অন্ধকারে উড়িয়ে দিই টুকরো এইসব কাগজ। পরে মনে হলো, যারা ভালবাসে, ভালবেসে জ্বলে, জ্বলে পৃথিবীর দিগন্তকে রাঙিয়ে দেয় ভিন্ন এক গোধূলি-আলোয়, তাদের সকলেরই অনেক আপন-কথা গোপন-কথা রয়ে গেছে এর ভিতরে। এমনকি আমার মৃত্যুর পরেও যাদের রক্তে শুরু হবে তুমুল শ্রাবণের চাষ-বাস, তাদের মুখগুলোও ভেসে উঠলো চোখে। অগত্যা ছিন্ন-ভিন্ন ঐ সব কাগজগুলোকে হেলাফেলায় মরতে দিতে পারলাম না আর। (কবিতার বইয়ের নামঃ “কথোপকথন”, ভূমিকা লিখেছেনঃ পূর্ণেন্দু পত্রী, সেপ্টেম্বর ১৯৮১)''

(বিঃদ্রঃ আপনারা চাইলে, এই গল্প এগিয়ে যাবে, দেখা যাক কত জন চায়!? হা হা হা)

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×