রাত গভীর হতেই পৌষের শীত গাঢ় হয়ে নামলো। লেপের আদর গাঁয়ে মেখে কাফকা পড়ছিলাম, পড়তে পড়তে জমে যাচ্ছিলাম, তবুও পড়ছিলাম...।
ভাত-ঘুম ভাঙতেই দেখি, আমি একটা সাপ হয়ে গেছি। সাপ হয়ে যাওয়াতে একটুও অস্বস্তি হচ্ছিল না। কিন্তু কি জাতের সাপ হয়ে গেছি সেটা জানার কৌতূহল নিয়ে আয়নার সামনে গেলাম, নিজেকে এপাশ-ওপাশ করে দেখলাম। না; সাপ হিসেবে নিজের জাতটাই ধরতে পাড়লাম না। সর্প বিদ্যার খোঁজে বইয়ের তাকে গিয়ে হাতে পেলাম "বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর"। নিজেকে সর্পদেবী মনসার বংশধর আবিষ্কার করে তৃপ্তি পেলাম।
গ্রামের সোজাপথে একেবেঁকে এগিয়ে গিয়ে একটা ঝোপের আড়ালে আশ্রয় নিলাম। ঝোপের পাশের বাড়ীর গ্রাম্য বধূটির ফিস ফিস কথায় জানতে পারলাম, সে বাড়ীর বড়ছেলেটি গতরাতে কাল-নাগিনী’র দংশনে মারা গেছে।
একটানা শুদ্ধ সঙ্গীত আমার কানে ভেসে আসা মাত্রই, আমি সেদিকে ছুটে গেলাম, গিয়ে দেখলাম মোহন সুরে বীণ বাজাচ্ছে বুড়ো ওঝা। আমাকে দেখে সেই ওঝা কি একটা ইশারা করলো... আর তার সেই ইশারায় আমাকে কাল-নাগিনী ভেবে সে বাড়ীর দুই জওয়ান ছেলে লাঠি নিয়ে তাড়া করলো...।
আমি আমার ফনা বিস্তৃত করলাম, হিস... হিস... করলাম...। নিজেকে এইবার আমি প্রকৃত সাপ ভেবে অহংকারী হলাম। তারপর সুলতানের আঁকা ছবির মতো পেশিবহুল দুইটা মানুষ আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো...।
আমি মনসা দেবীকে স্মরণ করে চিৎকার দিয়ে বললাম, আমাকে এই নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে বাচাও, ভু-পৃষ্ঠ দুইভাগ করে দাও, আমাকে মৃত্তিকার বুকে ঠাই দাও...। আমার চিৎকারে ভু-পৃষ্ঠ কেঁপে উঠলো...আমি ভু-পৃষ্ঠ কোথায় দুইভাগ হয়ে একটি সাপের গর্ত তৈরি হয়েছে সেটার খোঁজ করলাম...।
...ঘুম ভেঙে দেখলাম, বিল্ডিংটা ভূমিকম্পে কাঁপছে...কাঁপতে কাঁপতে আমি বুকের উপর থেকে কাফকার মেটামরফোসিস ফেলে পালানোর পথ খুঁজলাম...!
...
© খোরশেদ খোকন।০৬/০১/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




