somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহিংসতা কি ধর্ম না অধর্ম!

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে নিরঞ্জন স্যার নামক এক স্যারের কাছে ইংরেজি পড়তাম। স্যার আদর্শের দিক দিয়ে ছিলেন খুবই সচেতন। স্যার তখন বলতেন, আমার বাসায় ভারতের কোন চ্যানেল চলে না। অন্য দেশের মানুষের জন্য বানানো অন্য দেশের কোন চ্যানেল আমি কেন দেখবো? এইটুকু দৃঢ়তা কয়জনে দেখাতে পারে! (তোমরা যারা ভাব হিন্দু মানেই ভারতপ্রেমী)

ভারতের সাথে বাংলাদেশের খেলায় দেখি অনেকে, 'শালা মালাউন, মালুর বাচ্চা' বলে স্লেজিং করে। ভারতে কি শুধু হিন্দু ধর্মালম্বী লোক বাস করে? নাকি মুসলমানরাও বাস করে। আপনি ভারতীয়দের গালি দেন, কিন্তু ধর্মীয় আক্রোশ কেন? আর হিন্দু বলেই যদি গালি দিবেন, তাহলে জেনে রাখুন বাংলাদেশেও এই ধর্মের লোক আছে, আপনি কি তাদেরও গালি দিলেন না? হ্যাঁ, সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এই আক্রোশ আমাদের দেশের লোকের উপরও বিদ্যমান।

পুরো পৃথিবী জুড়েই মুসলমানদের উপর সহিংসতায় আমরা ব্যথিত হই। যেসব দেশে এসব হয়, সেখানে হয় মুসলিমরা সংখ্যালঘু অথবা অন্য কোন দেশ দ্বারা ইনভেশনের শিকার। এসব ঘটনা কি আমাদের শিক্ষা দেয় শুধু মুসলিমদের জন্য ব্যথিত হতে? নাকি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার নিয়ে বাঁচার কথা শিক্ষা দেয়! অন্য একটি দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য আমাদের মন যতটুকু কাঁদে, আমাদের দেশের তাদের জন্য ততটুকু ব্যথিত হয়? আমরা কি তাদের জন্য একটি সিকিউরড সমাজ দিতে পেরেছি? আমাদের কারোরই জীবনের নিরাপত্তা নেই, খুন- ধর্ষণ- দুর্ঘটনা- নির্যাতন- নিপীড়ন এখানে নিত্য দিনের ঘটনা, সবার ক্ষেত্রেই খাটে। কিন্তু কেউ যদি ধর্মের কারণে এর শিকার হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারেনা।

যারা এরকম ঘৃণা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা দেখবেন একজন অন্য ধর্মের কারো সাথে সেভাবে মিশেনি, কাছ থেকে দেখেনি। দেখলে বুঝতো, শুধু ধর্মই মানুষকে আলাদা করে না। হ্যাঁ, ইসলাম ধর্ম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কয়জন ধর্ম ঠিকমতো মেনে চলি? সবাই যদি এতই ভাল হতাম তাহলে কি এত দুর্নীতি, অন্যায় থাকতো? কোন ধর্মে কি সহিংসতার কথা বলা আছে? কিন্তু আমরা ঠিকই ভুলে যাই, ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। তাই সমাজের প্রতিনিয়ত অন্যায় তাদের ভাবিত করে না, ঠিকমতো হয়তো নামাজও পড়ে না, তবে ভিন্ন ধর্মের উপর অত্যাচার করে ঠিকই ইসলাম কায়েম করে। একটা মানুষ ভাল হতেই পারে, খারাপ হতেই পারে, কিন্তু তাকে ধর্ম দিয়ে জেনারালাইজেশন করা ভুল, অন্তত এই যুগে। আমি একবার খুব ছোটবেলায় আমার বাবার সাথে ভিন্ন ধর্মের একজনের বাসায় গিয়েছিলাম, খুব ছোট ছিলাম, তেমন কিছু বুঝতাম না। শিশুসুলভ কৌতূহল নিয়ে দেখলাম আমরা যা খাই, তারাও তাই খায়। তাদের ঘৃণা করবো কেন? তাদের ধর্ম তারা পালন করবে, আমাদের ধর্ম আমরা। যারা রামু, বি বাড়ীয়াতে এসব কাজ করেছে, অন্য জায়গায়ও করে, গিয়ে দেখেন সে হয়তো অন্য ধর্মের কারো সাথে মিশেনি, তার হয়তো সেই ধর্মের কোন বন্ধু নেই, হয়তো সেই ভিন্ন ধর্মের ছেলেটির বাসায় সে কখনো যায়নি, তার সাথে চলেনি।

লাইফে অনেক বন্ধুই পেয়েছি, শিক্ষক পেয়েছি, সিনয়র-জুনিয়র পেয়েছি, চলেছি, মিশেছি কিন্তু কখনো চিন্তা করিনি একটা হিন্দু ছেলে আমার বন্ধু, এই হিন্দু ভাইটা খুব ভাল, একটা খ্রিস্টান শিক্ষক আমার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার পেশায় কেমন, তার সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং কেমন, পারসোনালিটি কেমন এসবই ছিল মূখ্য। যার সাথে মিলে এমনিতেই মিলে, না মিললে নাই, ধর্ম দিয়া বাছ-বিচার করি নাই।

এই দেশটা যেমন আমাদের, এই দেশটা তাদেরও। আমি বা আমরা এই আলো-হাওয়া-জল-মাটিতে বড় হয়েছি, তারাও তাই। আমাদের মত তারাও এই মাটির সন্তান, দেশটা সবার। আজকে এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে আমরা-তারা বলে বুঝিয়ে দিতে হয়! এই পরিস্থিতির জন্য একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয় নাই। সবাই যার যার মত ধর্ম পালন করবে, এটা নিয়ে এত ঝামেলা কেন? একজনের দোষের জন্য গোটা সম্প্রদায় ভুক্তোভুগী কেন হবে? দোষীর বিচার নিশ্চিত করাটাই কি সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়! সবচেয়ে কম মাথা খাটানো জাতি বোধহয় আমরাই। নিজেদের কর্মের আগে কি সে ব্যাপারে ধর্মের কথা ভাবি? ভাবলে তো এত বিশৃঙ্খলা হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×