somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাল ছেড়োনা বন্ধু

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখের সামনে যখন কাওকে হতাশায় ডুবতে দেখি এবং আপ্রান চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে উদ্ধার করতে পারিনা তখন আসলেই নিজের অসহায়ত্বের উপর রাগ হয়, ভীষণ রাগ। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যখন একজন মানুষ শুধুমাত্র তার শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তি মাদ্রাসায় শুরু বলে তাকে সব জায়গায় অবহেলা এবং অপমানের শিকার হতে হয় তখন আসলেই বলতে "ছিঃ, আমরা এতোই মেকী??" খুব কাছের একজন মানুষ কে প্রতিদিন দেখছি বিবিএ, এমবিএ থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন বেকার জীবন কাটাচ্ছে, হাজার টা সিভি ড্রপ করেও কোন জায়গা থেকে ডাক আসছেনা, শুধুমাত্র তার স্কুল, কলেজ জীবন মাদ্রাসায় কেটেছে বলে (যদিও তার গোল্ডেন এ + ছিল), যদিওবা কালে ভাদ্রে কেও পরীক্ষা নেয়ার জন্য ডাকে সেখানেও শুধু রিটেন পর্যন্তই তার দৌড়, ভাইভা তে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে --- "আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড তো মাদ্রাসার, আপনি কি মনে করেন আপনি পারবেন?" সে যতই বলুক না কেন পারবে তাকে সে সুযোগ আর দেয়া হয়না!!!

"আরে মিয়া, আপনি মাদ্রাসায় পড়া শুরু করে আবার বিবিএ, এমবিএ করসেন ক্যান? আপনি হইবেন মাদ্রাসার টিচার নাইলে ইমাম টিমাম(!) আপনি কি এইসব কর্পোরেট লাইনে পারবেন ??"

" জি, আমি পারবো, আমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলাম বলে কি আমি মেইনস্ট্রিমে ঢুকতে পারবো না?"

"নাহ পারবেন না, আরে মিয়া নরমাল এডুকেশনে এমনিতেই দেশে বেকারের অভাব নাই তার উপর আপনি মিয়া মাদ্রাসার!!!"

ছেলেটি হাল ছাড়েনা। প্রতিদিন তাও সিভি দিয়ে যাচ্ছে নানান জায়গায়। যদি কেও কখনো ডেকে বলে "আরে আপনার রেজাল্ট তো অনেক ভালো, অনেক ধরনের কোর্সও করেছেন, আগামী মাস থেকে জয়েন করতে পারবেন তো?"

সেইদিন আর আসেনা। ছেলেটি হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। প্রতিদিন একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে। আর আমি চোখের সামনে তা দেখছি। কিচ্ছু করতে পারছিনা। প্রতিদিন অফিসে আসার আগে বলি "আরে, চিন্তা করোনা, ছেলে মানুষ আজ না হয় কাল একটা কিছু হবেই, সময় মত খেয়ে নিয়ো, আর কালকের ডেড লাইনে যেই জবগুলো আছে সেগুলো তে আপ্লাই কর কিন্তু। আমি তারাতারি চলে আসবো।"
সে হাসে, কিছু বলেনা। তার চোখে আমি এক আশ্চর্য শুন্যতা দেখি, তাই বেশিক্ষন সেই চোখের দিকে তাকাতেও পারিনা। মাঝে মাঝে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বলি "একদিন এই রেস্টুরেন্টে খেতে আসব আচ্ছা?" সে বলে "আগে একটা চাকরী পেয়ে নিই" আমি তাড়াতাড়ি বলে ফেলি "কিন্তু এদের দাম যদি বেশি হয় খাবনা কিন্তু" সেও তাড়াতাড়ি জবাব দেয় "আহ, একদিন নাহয় খেলাম কি হবে তাতে?"

আমি জানি আমার জন্য কিছু করতে না পারার হতাশা তাকে কিভাবে দিনের পর দিন আস্টে পৃষ্টে খাচ্ছে, জানি সারাদিন সে মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকে। আজকাল হয়ত কোথাও আপ্লাই করতেও তার ভালো লাগেনা। হয়তো বসে বসে অনলাইনে নানান রকম পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিদিন বলে ----"আচ্ছা এই রকম বা ঐ রকম একটা ব্যবসা করলে কেমন হয়?"
----"বছর খানেক আগে তো দেখলে একবার, ব্যবসা তোমাকে দিয়ে হবেনা তা বলছিনা, তুমি অনেক বেশি নম্র লোকজন তাই তোমাকে এক্সপ্লোয়েট করার চেস্টা করে।"
সে চুপ করে যায়। মাঝে মাঝে অনলাইনে ইনকাম করার চেস্টা করে। সারারাত বসে বসে ডাটা এন্ট্রি করে। ভোর বেলায় যখন আমি বের হব তখন তার চোখ আমাকে জিজ্ঞেস করে "আমি কি করি বলতো? এই ডাটা এন্ট্রি করার জন্যই কি এতো পড়াশোনা করলাম?"
আমার চোখ তাকে আশ্বাস দেয় "সব ঠিক হয়ে যাবে"
তার চোখ আবার জিজ্ঞেস করে " আর কত বছর পর? সময় যে শেষ হয়ে আসছে!!"
আমি তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হয়ে আসি।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ভাবি "নিশ্চয় একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। নিশ্চয় একদিন কেও না কেও তার যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে একটি চাকরী দিবে। সেদিন সে বলবে ----"জানিমুনি আজ আমরা চাইনিজ খাব, আমাদের পরী মেয়েটাকে সুন্দর করে একটু তৈরী করতো, আজ কিন্তু তুমি কিপ্টামি করে খাবেনা। সারাবছর তো নিজে না খেয়ে আমাদের খাওয়াও। আজ তুমি খাবে আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো, হয়ছে হয়ছে আবার কান্নাকাটি শুরু করোনা, তোমাদের মেয়েদের এই এক সমস্যা যে কোন ব্যপারেই চোখের পানিটা লাগবেই, যাও যাও রেডি হও, নইলে কিন্তু আমি খেলা দেখতে বসে যাব।"

আমিও তখন মেকি রাগ দেখিয়ে বলব "তবে রে, আজ আমি টিভিটাই ভেঙ্গে ফেলবো।"

জানিনা সেই দিন কখনো আসবে কিনা, আমি আশা ছাড়িনা আর ছেলেটিকেও আশা ছাড়তে দেইনা। কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছিনা কতদিন তার আত্নবিস্বাস কে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো!!! প্রতিদিন তার মাথায় হাত দিয়ে একটা লাইনই বলি "হাল ছেড়োনা, দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে..."
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×