somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুনাফেকি

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন বাসে উঠেছি, পাশের দুটি মেয়ের কথোপকথন কানে এলো, দুজনেই বুরকা পরিহিতা নিকাবি বোন।

১ম জন- “এই তুই কালকের কনসার্টে যাবি?”
২য় জন- “যাব না মানে!! অবশ্যই যাব”
১ম জন- “বাসায় বলসিশ? রাত হবে কিন্তু অনেক। কোন জামাটা পড়বি তুই?”
২য় জন- “আরে পাগল! বাসায় বললে যেতে দিবে নাকি?বলব পরীক্ষার কাজে যেতে দেরী হবে। আর কি পড়ব মানে? ঐ যে জিন্স আর টি শার্ট কিনলাম আমরা ওগুলোই পড়ব। ওপর দিয়ে বুরকা পড়ে নিব ওখানে যেয়েই খুলে ফেলব”
১ম জন-“দারুন মজা হবে রে! শোন ছবিগুলা কিন্তু ভুলেও আমার আগের অ্যাকাউন্ট টে দিবি না! ওখানে সব আত্নীয় আর পুরানো দিনের লোকজন! নতুন এফবি অ্যাকাউন্ট এ পোস্ট করবি, বুজছোস?”
২য়- “হ ভালা বলছিস। তুইও মনে রাখিস, আমারগুলাও ফেক অ্যাকাউন্টেই দিস দোস্ত, আগেরটা তে তো সবাই আমারে অন্য রকম মনে করে...হিহিহিহি”

বোন দুজনের কথাবার্তা শুনে ছোটবেলায় পড়া একটা শব্দই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আর আর তা হল-“মুনাফিক”

সংজ্ঞাটা বেশ সহজ -যার ভিতরের অবস্থা প্রকাশ্যের বিপরীত তাকে নিফাক বলে আর যার মধ্যে নিফাক রয়েছে সে ব্যক্তিই মুনাফিক।
তবে এর ব্যাখ্যাখানা মোটেও সহজ নয়।

প্রথমেই মুনাফিকদের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার জানা থাকা দরকার। এনারা দুই ধরণের হয় – ১) যারা নিজেরা জানে যে তারা মুসলিম নয় এবং তারা মুসলিম সেজে গুপ্তচরের কাজ করে, ২) যারা মুসলিম, কিন্তু তারা নিজেরা বোঝে না যে তারা আসলে মুনাফিক।

দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিকদের ব্যাপারে আপনি-আমি কখনই বলতে পারবো না তারা মুনাফিক কিনা। ইসলাম কাউকে অধিকার দেয় না অন্য কাউকে মুনাফিক ঘোষণা দেওয়ার। শুধুমাত্র গুপ্তচর ধরণের মুনাফিকরা যদি কখনও ধরা পড়ে যায়, শুধু তাদেরকেই তখন মুনাফিক ঘোষণা দেওয়া যাবে। কিন্তু যারা মুসলিম, যারা এই ধরণের গুপ্তচর নয়, তাদেরকে কখনই মুনাফিক বলার অধিকার ইসলাম আমাদেরকে দেয় না। কারণ এই দ্বিতীয় প্রকারের মুনাফিক কারা, সেটা কেউ বলতে পারে না। আমিও এই দ্বিতীয় প্রকারের মুনাফিক হতে পারি, আপনিও হতে পারেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে আমাদের মধ্যে কে এই দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিক সেটা জানার ক্ষমতা আমাদের কারো নেই। শুধুমাত্র আমাদের আল্লাহ্ যিনি আমাদের মনের ভিতরে কি আছে তা ঠিকভাবে জানেন, শুধু তিনিই বলতে পারেন কারা এই দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিক। তবে কিনা যারাই মনে করেন যে তাদের পক্ষে মুনাফিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না, তারা একজন পাক্কা মুসল্লি, তারাই আসলে এক ধরণের মুনাফিক।

এধরণের মানুষ নিজেদেরকে সবসময় বোঝায় যে – তারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করে যাচ্ছে – কিন্তু আসলে তাদের কাজের আসল উদ্দেশ্য থাকে অন্য কিছু। এধরণের মানুষরা প্রায়ই নিজেদের মনে মনে বলে, “আল্লাহ, আপনার জন্যই এটা করলাম কিন্তু। আমাকে আখিরাতে এর প্রতিদান দিয়েন।” শুধু তাই না, তারা মানুষকেও এধরণের কথা বলে বেড়ায়, “ভাই, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি, নামাজ পড়েছি, হজ্জে যাচ্ছি কিংবা আল্লাহর ওয়াস্তে মসজিদে টাকা দান করলাম, আমার জন্য বেশি বেশি করে দোয়া করবেন, যেন আপনাদের আরও উপকার করতে পারি।”

এদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
“তাদের অন্তরে আছে এক অসুখ, তাই আল্লাহ তাদের অসুখকে বাড়তে দেন। এক অবিরাম কষ্টকর শাস্তি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য, কারণ তারা এক নাগাড়ে মিথ্যা [অস্বীকার, প্রতারণা] বলতো”। [বাকারাহ-১০]

মুনাফেকি হচ্ছে এক কঠিন অন্তরের অসুখ। খুব সাবধানে লক্ষ করে দেখতে হবে আমার আপনার ভেতরেও এই অসুখের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কীনা।
মুনাফেকি একজন মানুষের মধ্যে তখনি আসে, যখন সে কোনো কাজের জন্য আল্লাহ্‌র পাশাপাশি অন্য কারো কাছ থেকে প্রশংসা, সন্মান, বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করে তথাপি সে লুকিয়ে বা গোপনে কিংবা অন্য কোন স্থানে প্রকাশ্যে আল্লাহ বিরোধী কাজকর্ম করে। সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, সে কাজটা করছে আসলে আল্লাহরই উদ্দেশ্যে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা শুধুই লোকদেখানো, আড়ালে সে অন্যকাজেই মশগুল।অথচ সে মনে মনে ভাবছে সে আদর্শ মুসলমান!
হায়রে! আপনি আমি একজন মুসলিম হওয়া তো অনেক দূরের ব্যাপার আগে একজন প্রতারক হওয়া থেকেই বিরত হই, একজন ভালো, সৎ মানুষ হয়েই দেখাইনা তারপর চিন্তা করি নাহয় আমরা মুসলিম কিনা!
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকেই এই Self Delusion থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:১৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×