somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টুকলি কথা

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যথেষ্ঠ হইয়াছে,
বরঞ্চ তাহারও বেশিই হইয়াছে। আর নহে। না, না, এভাবে আর চলিতে দেয়া যায় না। সার্বজণীন ব্লগোৎসবের এখানেই সমাপ্তি। লেখালেখি কূলীনকূলের কাজ। যাকে তাকে দিয়া যে সে হয়না তাহা বিগত প্রায় সোয়াযুগে পাঠককূল কেবল হাড়ে-হাড্ডিতেই নহে এমনকি রক্তের কণায় কণায় জ্বলিয়া পুড়িয়া বিনে মশলার বার-বি-কিউ হইতে হইতে উপলদ্ধি করিয়াছেন। সামুর প্রথম পাতায় চোখ বুলাইলে আজকাল আমার মতন অগা ব্লগশিশুরও গা রি রি করিয়া উঠে! ভাবা যায়? ব্লগের জাত-কূল-মান এতই নামিয়াছে এতই নামিয়াছে যে আজকাল শায়মাও এতটা ম্রিয় আর কড়া দু'ইঞ্চি মেকাপের ফর্সা মুখখানিও এতই কালা হইয়া থাকে যে কে কহিবে এই ঢঙিরাণীর পেখনামির সুনামিতে কভু সামু থৈ থৈ করিতো, উপচাইয়া যাইতো! সকলেই উদাস। ব্লগ থমথমে। জানা'পু কোথায় কাহারো জানা নাই। কি করি কি করি আজ কেহ ভাবিয়া পাইতেছে না।

অবশেষে আরশ কাঁপিলো, রহমতের দ্বোয়ার খুলিলো আর 'কাভা'র সুমতি হইলো।

নবোদ্যমে নয়া এক উদ্যোগ গৃহীত হইলো। সাব্যস্ত হইলো সামু'র 'কূলীনকূল' বলিয়া এক নয়া ক্যাটাগরি যুক্ত হইবে। যাহারা 'পেইড' ব্লগার হইবে এবং নিয়মিত লিখিবার মুচলেকা দিয়াই তাহাদিগকে নিয়োগ দেয়া হইবে। এখন প্রশ্ন হইলো সেই 'কূলীণকূল' কেমোনে নির্ধারিত হইবে? ঠিক হইলো পরীক্ষার মাধ্যমেই তাহা নির্ধারণ করা হইবে এবং কাভা স্বয়ং নিজেই সেই প্রশ্নপত্র তৈয়ার করিবে 'বিসিএস গাইড' আর 'কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স' ঘাঁটিয়া। (যদিও সেই গাইডবুক সমূহের সাপ্লাইয়ের টেন্ডার লইয়া রাবেয়া রাহীম আর কাকুর মধ্যে এক বিরাট কেলেঙ্কারি হইয়া গিয়াছিলো। সে অবশ্যি ভিন্ন প্রসঙ্গ, সময় আর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকিলে আর বলিবার মুডটি হইলে আলবাৎ বলিবো'খন।)
আগ্রহী পরিক্ষার্থীগণকে ইমেইল মারফত রেজিস্ট্রেশন করিতে হইবে। তো যেই ভাবা ঠিক তেমনি তেমনিই সব কিছু ঘটিতেছিলো। তরিকা লইয়া খোকাকবি জাহিদ অনিক আর রাজীব নূর থোড়া খিটিমিটি হল্লা করিয়াছিলো সেও আরেক ভিন কিসসা বটে। অবশেষে আসিলো সেই মাহেন্দ্রক্ষন। কাভা'র শশুরালয়ের ছাদে ইতি সামিয়া'র অফিসের টুল-বেঞ্চি পাতিয়া পরীক্ষার আয়োজন করা হইলো।(হল ভাড়া করার অতিরিক্ত খরচা করিতে কাভা যে কেবল নিমরাজি নহে নারাজই হইবে সে জানা কথা কিন্তু ইতি'র অফিসে টুল/বেঞ্চি ক্যান সে কেবল তাহার সদ্য হাজী বস আর পরম করুনাময়ই ভালো জানেন। তবে সকল পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা শেষে তিনি অতি উপাদেয় সুস্বাদু 'মরিয়ম' খোরমা দ্বারা আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখিয়াছেন মা শা আল্লাহ।)

শাইখ সিরাজের ওয়াসওয়াসায় উদ্বুদ্ধ শশুরকূলের ছাদ কৃষির কারণে ছাদের অর্ধেকই টব-ড্রাম আর ভাঙ্গা কলসি'র গাছগাছালীর দখলে। বাকী অর্ধেকের অর্ধেকটা কাভা'র আদরের কনিষ্ঠ শ্যালিকা'র কুতকুতের কোর্ট কাটা আছে বলিয়া ভাবীজানের চোখরাঙ্গানো কড়া হুমকি 'খবরদার, কোর্টের উপড়ে কোনো দিক্দারি নহে, চিপায় সারিতে পারিলে সারো'।
‌অগত্যা বিশাল ছাদের সেই দুই ছটাকি অংশেই পরীক্ষার যাহা যেটুকুন আয়োজন মাইরি! সঙ্গত কারণেই জায়গার অপ্রতুলতায় এত ঘিঞ্জি এত ঘিঞ্জি হইয়াছে যে এক এক বেঞ্চিতে ৫/৬জন ঠেলাঠেলি করিয়া কোনমতে পশ্চাৎদেশ কাঠে ঠেক দেবার যা ব্যবস্থা! বেলবয় গেমু ঘন্টা বাজাইলো, মিথী মারজান প্রশ্নপত্র বাটিলো আর কাভা স্বয়ং বেত হাতে ত্রস্ত পায়ে নিজাম মন্ডল আর প্রামানিককে সাথে লইয়া পরীক্ষার মহল অবলোকন করিতে লাগিলো। ( কাভা যে এই ফাঁকে ফেসবুকে একখানা 'হাজির বিরিয়ানীর একাল-সেকাল' আর একখানা 'রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব সচেতনতা' লইয়া দু'দুখান স্টেটাস দিয়া ফেলিয়াছে চামে চামে সেও আরেক ভিন কিসসা মাইরি।)

প্রথম প্রশ্নই হইলো 'চার-ইয়ারি কথা' আর 'বীরবলের হালখাতা' কে রচনা করিয়াছেন?

ছাত্র জীবনের তূখোর মেধাবী আর টনটনা ছাত্রী সামুর কবিতার রাণী ও রঙবাজ কবি 'শিখা রহমান' ফটাফট খাতায় লিখিয়া ফেলিলেন ''প্রমথ চৌধূরী''
পাশেই বসা ব্লগার সোহানী আড়চোখে উত্তরখানি দেখিয়া মুচকি হাসিয়া মনে মনে কহিলেন আহারে বেকুব, মুর্খ কি গাছে ধরে? এই গিয়ান লইয়া চাঁদু তুমি ইঞ্জিনিয়ার হইয়াছো আর দিব্যি প্রফেসরি করিয়া বেড়াইতেছো আম্রিকায়! কি আশ্চর্য!!
শিখা রহমানের ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত লইয়া অজানা আশঙ্কায় শিউরিয়া তিনি সংশোধন করিয়া উত্তরপত্রে লিখিলেন
''প্রথম চৌধূরী''
তাহার পাশেই চৌকষ শায়মাপু যে আগেই গলা বাড়াইয়া রাখিয়াছিলেন সে কি আর সোহানীপু জানিতেন? কে না জানে শায়মা'পু স্বকিয়তায় অদ্বিতীয়া, অনন্যা আর নিরুপমা থুরি অনুপমা। তিনি তার ট্রেডমার্ক কিম্ভুতি খাস আপনা আর সৃজণী মননে লিখিলেন,
''১ম চৌধূরী'' ভাইয়ুওওওওওওও
''১ম চৌধূরী''
নেহায়েত টিঙটিঙা আর ছিপছিপে বলিয়াই তাহার পার্শ্বে কোনমতে বসিয়াছিলেন 'প্রিন্স অব রম্য' গিয়াস উদ্দীন লিটন। রম্যে যাহাকে আজকাল বাংলার 'সামারসেট মম'' বলা হইতেছে। উত্তরটা আসি আসি করিয়াও মনে তাহার আসিতেছিলো না। হঠাৎই শায়মাপু'র হাতের কিম্ভুত সব রঙাচঙা প্লাস্টিকের চুরির ঠকাঠক আওয়াজে চোখ গেলো তাহার হাতের দিকে। তখনি সেকেন্ডেরও কম সময়ে সু-পর্যবেক্ষক গিয়াস লিটন দেখিয়া ফেলিয়াছেন শায়মা'র উত্তরখানি। রম্যের প্রিন্সই বা কম যাইবেন কেনো? তিনিও তাহার শব্দ সম্ভারের মুন্সিয়ানার ঝলক দেখাইতে লিখিলেন,
''এক'ম চোধূরী''
তাহার পার্শ্বে চাপাচাপিতে বেঞ্চির কিনারে প্রায়ই পরিয়াই যাইতে ছিলেন সামুর বুলবুল বিদ্রোহী ভৃগু। বসিবেন না লিখিবেন সেই দ্বন্দ্বেই তাহার ঠিক পূর্ণ মনসংযোগ ঘটিতেছিলো না, লিখিবেন আর কি? ভাগ্যিস তাহার ঝুঁটি বাধা চুল সমগ্র ঝুঁটিহীন এলো হইয়া ছিলো। বাবরি চুলের ফাঁকেই তিনি গিয়াস লিটনের উত্তরখানি দেখিয়া তীব্র মনোকষ্টে ভুগিলেন! এত বড় রম্য লেখক হইয়া আরেকজন ঐতিহাসিক লেখকের নামের বানান তিনি কেমন করিয়া ভুল করিলেন! না, না, একজন লেখকের কাছ হইতে এমনতরো খামখেয়ালীপনা কিছুতেই মানিয়া লওয়া যায় না। উন্নত মম শিরে দৃঢ় চিত্তে তিনি লিখিলেন,
''একরাম চৌধূরী''

টুকলিফাইংএর ক্রম বিবর্তন হিন্দু বামন প্রমথবাবুকে মুসলমানই বানাইয়াই ছাড়িলো শ্যাষম্যাষ!!

আর বাদবাকীদের কি ঘটিয়াছিলো কিংবা পরীক্ষার ফলাফল কিইবা হইয়াছিলো সে কাভাই ভালো জানেন। ফলাফল প্রকাশ হইলো বলিয়া। তাহা আমার মতন আদার ব্যপারীর জুনিয়র এ্যাসিট্যান্টের বিষয়ও নহে। আমি তো কেবল ইতিহাসলদ্ধ শিক্ষেখানিই শেয়ার করিতে চাহিয়াছিলেম সামুর নবীন পিঁড়ির কাছে,

''টুকলি অমর শিল্পই বটে
প্রতিভা খোদারই দান;
অতি কেরামতে জাত খুয়ে শেষে
বামনও মুসলমান''!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২২
১৮টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×