
আমাকে একটি বাঁশি দাও
আমি সুর তুলি, গান গাই,
আমাকে একটি রাইফেল দাও
আমি ধরে রাখি- আমার স্বাধীনতা !!
মা- মাটি- মাতৃভূমি। এই তিনের প্রশ্নে, বাঙালী কখনও ছাড় দেয় নি- কোন কালেই। জীবনের চোখে দেখা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যকে- মায়ের মুখ থেকে শেখা ভাষায়, মুগ্ধ অনুবাদের সুযোগ ছিল না-এ মাটির। এই অসম্মানের বিরুদ্ধে, তার দামাল সন্তানেরা তাই জন্ম দিয়েছিলো- একুশ। বুকের রক্তে রাজপথের কুচকুচে মেঘের শরীরে একে দেয় রক্তের লেলিহান সূর্য। পিঞ্জরের ডগা থেকে ছিনিয়ে নেয়, ভাষার অধিকার। ৭১ এ ত্রিশ লাখ রক্তের স্রোতে ভাসিয়েছে পদ্মা মেঘনা যমুনা করতোয়া ধলেশ্বরী শীতলক্ষ্যার বিস্তীর্ণ প্রান্তর। ২ লাখ মা, বোনের সম্ভ্রম বিসর্জন- সে বিরান পিঞ্জরের বিস্তৃত বুক- বেদনার আর্তনাদ, সাত কোটি বাঙালির ১৪ কোটি চোখে জ্বালিয়েছে দ্রোহের বারুদ। তার লেলিহান শিখা পুড়ে নিঃশেষ করেছে জালিমের বিনাশী হাত। সবুজের স্নিগ্ধ বুকে লালের চুম্বন সূর্যকে একে, মাতৃভূমির মানচিত্রের অবয়ব চিহ্নিত করেছে, পৃথিবীর বুকে। মহিমান্বিত করেছে মাটির মর্যাদা- স্বাধীন বাংলাদেশ হয়ে।
মাতৃভূমি- মায়ের অবয়ব তাই, পৃথিবীর অন্য সব জাতীর চেয়ে- আমাদের কাছে অধিক আবেগের। এ কারনে, মায়ের মুখের মলিন ছায়া- বার বার বিক্ষুব্ধ করেছে বাঙালিকে। ন্যাড়া হয়েও বেলতলায় যাওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়েছে সে। শোষক-স্বৈরাচারের হিংস্র থাবার উন্মক্ততাকে রুখে, উজ্জ্বল করেছে মায়ের সে মলিন মুখ- নিবিড় মমতায়।
সামুর আঙুল ধরেই, আমরা যারা এই আঙিনায় পা বাড়িয়েছি- সুন্দরের তৃষ্ণায়। এ পথের আলোর মশাল হয়ে, যারা অন্ধকার তাড়িয়েছেন, সেই সব নক্ষত্র বদনের, প্রজ্ঞার পরশ-পাথর হৃদয়ে মেখেছি- পরম তৃপ্তির বিশুদ্ধতায়! উৎসব থেকে ফিরে আসা- আমার মতো অজস্র নতমুখ, আবার উপর দিকে তাকানোর সাহস খুঁজেছি- যার আকাশের দিকে চেয়ে, সেই সামু আমাদের কাছেও- মায়ের প্রশান্ত আঁচল। তাই তার মলিন বদন, আমাদের চেতনার অতলে বান ডাকে- জলে ভাসায়!!
ইদানিং দেখছি কোন কোন অগ্রজ, তাদের পোস্ট- মন্তব্য, প্রতিত্তরে বেশ লাগামহীন। যা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শ্রদ্ধা, সহনশীলতা তথা তাদের মর্যাদা ও যোগ্যতার সাথে- বড় বেমানান। কখনও তা যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে, অশালীনতাকেও লজ্জা দেয়। মঙ্গলকে তাড়িয়ে, ছড়ায় হিংসা আর বিভেদের বিষ। যার বিষাক্ত বেদনা, মায়ের মুখকে মলিন করে। আমাদের ভাসায় নয়ন জলে। সামুর গর্বিত সন্তান হয়ে আমরা তাই তার মলিন বদনের কারন হবো না, আসুন অঙ্গীকার করি। তার জন্য কি করা উচিৎ- সেটা আমরা সকলে ভালোকরেই জানি। ভাই হয়ে ভাইকে ছাড় দিলে- ছোট নয়, তা সম্পর্কের মর্যাদাকেই মহিমান্বিত করবে।
নতুন বছরের স্নিগ্ধ ভোরের কাছে, এই হোক সামু পরিবারের- সকলের, কাংখিত প্রার্থনা। সব পংকিলতা তাড়িয়ে, ঝেটিয়ে- বিদায়, হে পুরাতন!! স্বাগতম ২০১৬, সামুর স্পর্ধিত আঙিনায়- ভ্রাতৃত্বের নব-বন্ধনের প্রত্যাশায়!!
পরিশেষে -
" মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি- সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি "... .. .
ছবিঃ নেট থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




