
বাসে চড়িয়া ভেড়া হাঁটিয়া চলিলো....
ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিলো... সেই ছেলেবেলায় শুনা প্রচলিত প্রবচনের অর্থ মধ্য বয়সে এসে অবশেষে খুঁজিয়া পেলাম। যুগের এই ডিজিটালায়নে আমাদের ষোল কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ- এখন আট কোটি মহিলা আর আট কোটি ভেড়ার বসবাস। ডিজিটাল ভেড়ারা এখানে ভ্যা ভ্যা করার শক্তিও খুঁইয়েছে।
যন্ত্রের বাধ্যগত উফশী ভেড়ার দল সত্বাকে বন্ধক দিয়ে চাচা আপন প্রাণ বাঁচার উচ্ছ্বাসে এক একটা রোবটে রুপ নিয়েছে। আবেগ, বিবেক, অহম আর আত্নমর্যাদা এদের আর কাছে টানে না। নয়টা- ছয়টা আদেশের খাঁচায় বন্দী বিবেকহীন বধির ভেড়ার দল, জী হুজুর বাণীকে তাই আত্বস্থ করেছে মন মগজ রক্ত ধমনী- শিরায় শিরায়।
নাকে- মুখে স্কচটেপ আটকিয়ে গনতন্ত্রের পেটে পারা দিয়ে পশ্চাদদেশ দিয়ে শ্বাস নেয়ালে তার ভয়াবহ পরিনতি কি হয়, এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ডিজিটালাইজড ভেড়ার দল। তাই আজ নিশ্বাসে, বাতাসের বদলে নোংড়া বর্জ্যের আধিক্য। দশটাকা সের চাল খাওয়ার সাধ এরা সাত কেজির দাম দিয়ে এক কেজি খেয়ে বাধ্যগত ফরমায়েসী তৃপ্তির ঢেঁকুর দিচ্ছে। পাঁচটাকা পিস পেঁয়াজ, টাকায় এক হালি কাঁচা মরিচ, নুন, তেল,গরুর মাংস, বিদ্যুত ব্যাংক, ভ্যাট, শেয়ার বাজার, রিজার্ভ খুন গুম, সংবিধান, বৈষম্য, বিচারহীনতা এখন ভালো ভাবেই শিখে ফেলেছে।
বেপরোয়া উন্নয়নের প্রবল প্লাবন রাজধানী ঢাকাকে বস্তিতে পরিনত করেছে। এর তিনতলা জ্যাম এদের শুধু ধৈর্য সমিতির আজীবন সদস্যই করেনি, আমাদের ছেলেবেলার সকলের না বুঝা সেই প্রবাদটাও শিখিয়ে ফেলেছে। তিনতলা জ্যামের মাইনক্যা চিপায় পড়ে রাজধানীর নাগরিক নামধারী আমরা ভেড়ার দল বাসে উঠে কোনমতে ভাড়াটা দিয়েই নেমে গন্তব্যে হাঁটা শুরু করি। তখন ঠিকই বুঝি, "ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ, কেমনে হাঁটিয়া চলিলো....?"
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




