somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ণালী শীল

১১ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিবছর এস এস সি এইচ এস সি পরীক্ষা হয়, সংবাদপত্রে কৃতিছাত্রছাত্রিদের সংবাদ ছাপানো হয়, আগে নিয়ম ছিলো বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্র-ছাত্রিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতো, তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে নিজেদের মন্তব্য জানাতো, এবং একটা পর্যায়ে প্রশ্ন আসতো তারা ছাত্র রাজনীতি কিভাবে দেখে?
রাজনীতি সচেতনতা থাকতেই পারে, একজন 1200 মার্কের পরীক্ষায় 1100 পেলেই তার একটা পরিচ্ছন্ন ধারনা জন্মায় না রাজনীতি সম্পর্কে এ বিষয়টা প্রশ্নকর্তা বেমালুম ভুলে যেতো, আরও মজার বিষয় হলো আমরা যখন এসএসসি দেই আমাদের সদ্য কৌশোর কাল, এই সময়ে জীবনবোধ পোক্ত হয়ে উঠে না, জীবনের সংগ্রামটার স্বরূপ বোঝাও সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে, এমন জীবন সম্পর্কে অপরিপকক মানুষ কিভাবে রাজনীতির মতো ব্যাপক একটা বিষয় সম্পর্কে বিজ্ঞ মতামত দিবে আমি বুঝি না। এবং তারা রাজনীতি বলতে পেপারে পড়া খবর বুঝলেও বিপদ( যদিও আমি নিশ্চিত না সেই সময়ে কতজন মানুষ পেপার পড়ে নিয়মিত) এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করেই সামনে যাই,
আমাদের সমাজে ভালো ছাত্রের কদর আছে, পরীক্ষায় ভালো মার্ক পাওয়ার একটা মূল্য আছে, এই ভালো ছাত্র হওয়ার মূলা ঝুলানো আছে সবার সামনে-
এখন গ্রেডিং পদ্ধতি হয়ে একটা সুবিধা হয়েছে, পেপারে এখন এই সব ইঁছরে পাকা পোলাপাইনদের মতামত পড়তে হয় না, শুনতে হয় না আিগ কোনো প্রািভেট টিউটরের কাছে পড়ি নি, আমি দিনে 5 ঘন্টা পড়তাম। আমার প্রিয় খাবার এই, আমার প্রিয় লেখক এই, অনেক রকম কথাবার্তা শুনতে হয় না।

দেশে থাকতে পেপারে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিতো, উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমন, **** বৃত্তি পেয়েছে, এখন সময় পালটেছে, ভালোই লাগে

কদিন আগে খবরে পড়লাম একজন 5 জিপিএ পেয়েছে সে চায়ের দোকানে কাজ করে, প্রতিবেদক বেশ করুন একটা প্রতিবেদন লিখেছে, অবশ্য সেখানে অসহায়ত্বের প্রকাশটাই বেশী থাকে, একটা সংগ্রামী চরিত্রের প্রতি যেই শ্রদ্ধা প্রকাশের বিষয়টা থাকে তা সেখানে থাকে অনুপস্থিত, পরবর্তি আপডেট হলো সেখানের কোনো বিত্তবান তার কলেজের বেতন দিবেন, কোনো বিত্তবান তার কাগজ কলম কিনে দিবেন, এসব নির্দিষ্ট হয়েছে, সমস্যা হইলো এত দিনের সংগ্রামে এইসব মানুষের অস্তিত্ব ছিলো না, হুট করে এই ুটকো সাহায্য করতে চাওয়ার কারনটা কি সংবাদে স্থান পাওয়া??
মানুষের ভালো কাজকে সন্দেহের চোখে দেখতে নেই,
আমি বোঝার চেষ্টা করি সংবাদ পত্র কোন পয়েন্টটা সামনে আনতে চায়,
একটা পয়েন্ট হতে পারে সবার জন্য শিক্ষা বিষয়টাকে সামনে আনা দরকার মেধাবী মানুষ শুধু সচ্ছল পরিবারেই জন্মায় না, মেধাবী হওয়ার জন্য আর্থিক সচ্ছলতা বড় বিষয় না। তাই সরকারের দায়িত্ব 12 ক্লাশ পর্যন্ত সবার জন্য শিক্ষার ব্যাবস্থা করা রাষ্ট্রিয় ভাবে। যৌক্তিক দাবি, মেয়েদের জন্য 8ম শ্রেনী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যাবস্থাক রতে পারলে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে ফেলানো সম্ভব, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাবস্থাও হয়েছে, একটু নীতিনির্ধারকরা আন্তরিক হলে সবার জন্যই ক্ষিার ব্যাবস্থা করা সম্ভব, অবকাঠামো পরিবর্তনেরও প্রয়োজন নেই, শিফট করলেই হয়, বরং আরও কিছু মানুষকে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত করা যাবে, একটা কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।
তবে আমার মনে হয় না সংবাপ্পত্রের কারারই এি ইচ্ছাটা বিদ্যমান, তারা কয়েকটা স্কুলকে সেরা স্কুল হিসেবে পরিচয় দিতে আগ্রহি, রেজালটের দিন সেসব স্কুলে ঘাপটি মেরে বসে থাকবে সাংবাদিকরা, এবং এসব সাংবাদিকদের সাথে অধ্যক্ষের সম্পর্ক থাকবে ভালো, তাদের ছেলে মেয়েরা হয় ইংলিশ মিডিয়াম কিংবা এইসব প্রতিষ্ঠিত স্কুল কলেজের ছাত্র হবে, তারা এই অনন্যতা রাখতে সচেষ্ট হবেই।

কিছু কিছু কলেজ ভালো হবে কিন্তু আন্তরিকতা থাকলে সব কলেজেই ভালো ছাত্র তৈরি করা সম্ভব। আর তারা কখনই কোনো সময়েই এই বিষয়টাকে ইসু্য করছে না।ভালো কলেজে পড়াটা এখন অনেকটা পারিবারিক সামর্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, অনেক মেধাবী ছাত্রই সেসব কলেজে ট্যাকের জোড় নেই বলে পড়তে পারে না।
তবে আজ ভালো লাগলো অন্য একটা খবর পড়ে, আরও একজন সাহসী কন্যার কথা পড়লাম, যারা শাররীক প্রতিবন্ধত্ব তার লেখাপড়া শেখার আগ্রহকে নষ্ট করতে পারে নাই, প্রায় 16 বছর ধরে সে এই প্রতিকূলতার বিরূদ্ধে সংগ্রাম করে ডিগ্রি পাশ করেছে। সেই বর্ণালী শীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এত কিছুর অবতারনা।
তার জানার আগ্রহ তাকে সামনে নিয়ে গেছে, সে আরও পড়তে চায়, হয়তো এম এ পর্যন্ত পড়তে পারবে, এরপর উচ্চতর গবেষণা হয়তো করতে পারবে না। দেশে এমন সুযোগ নেই , কিংবা যে সীমিত সুযোগ আছে তার কোনোটাই ডিগ্রি পাশ করা একজনের পক্ষে নেওয়া সম্ভব না।
আমরা দরিদ্্র তবে দারিদ্্র আগাদের কল্পনাও হত্যা করেছে, আমাদের সৃষ্টিশীলতা হত্যা করে আমাদের হতদরিদ্্র করে ফেলছে, আমাদের চেতনায় কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা লড়াইয়ের কোনো স্পৃহা নেই, এমন বন্ধ্যা সময়ে এমন কয়েকজন মানুষ মানুষের অদম্যতার কথা জানিয়ে দিয়ে যায়।
আমাদের জানায় আমরা মানুষ হিসেবে অসাধারন অস্তিত্ব আমরা চেষ্টা করলে শত প্রতিকূলতা জয় করে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষে যেতে পারি।
ইসলামিক ছাত্র সংঘ মুম্বাইয়ে বোমা মেরে প্রায় 150 জনকে হত্যা করলো এবং আরও কয়েকশত জনকে আহত করলো,এটাও সেই সব অন্ধ মানুষদের অভীষ্ট লক্ষ ছিলো, তারাও সফল।
তবে একজন বর্ণালী শীলের অর্জন এই অমানবিক সংবাদটার প্রভাববলয় থেকে বের করে আমাকে প্রশান্তি দিচ্ছে এটাই আজকের বড় পাওয়া।




সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×