somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু মজার হাদিস

০৩ রা মে, ২০০৬ রাত ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে মানুষের বিশ্বাস আমাকে অবাক করে, কি রকম অবলীলায় মানুষ নিজের বিবেচনাবোধ বন্ধক রেখে উপাসনা করে এবং ঈমানের কথা বলে সব কিছুকেই বাস্তব বিবেচনা করে।
আজ হাতে সামান্য অবসর ছিলো তাই হাদিস ঘাটলাম কিছু, যদিও মানুষজন আমাকে ঘৃনা করতে পারে এ কথা বলার জন্য আমি মনে করি মি'রাজের বিষয়টা সম্পুর্ন মিথ্যা, একটা গল্প বানিয়ে বলেছে, এই গল্প বানানোর পিছনে কোনো উদ্দেশ্য হয়তো ছিলো, কিন্তু আগেই বলেছি বিশ্বাসি মন কখনই যাচাই করে সত্য খুঁজে না, মানুষ যেভাবে গুজব রটাতে পছন্দ করে তেমনই সাবলীল বিশ্বাসে মানুষকে ভ্রান্ত করা সম্ভব।
আমাদের প্রিয় মুসলমান ভাই বোনেরা কতটুকু মুসলিম? তারা কতটুকু সুন্নাহ এবং আল্লাহর নিয়ম মান্য করে এটা জানতে ইচ্ছা করে।
আয়েশা বর্নিত একটা হাদিস পেশ করি- যার বক্তব্য-
কোনো জীবন্ত প্রানীর ছবি কোনো বাসায় থাকলে সেই বাসায় ফেরশতাগন প্রবেশ করবে না, এই জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে মানুষও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মানুষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ কাজ, হাদিসের মতে যে ছবি তোলার কাজটা করবে তাকে নিশ্চিত নরকবাস করতে হবে, সে হিসাবে বর্তমান যুগের সব ক্যামেরা এবং ফটোগ্রাফার নিশ্চিত জাহান্নামে বসবাস করবে। আমার প্রিয় সাদিকও আমার পাশে নরকে বসে থাকবে, আমরা হয়তো হালকরা আগুনের আঁচে বন ফায়ার করতে করতে 2 /4 কাপ কফি খেয়ে সেই মৌতাতে পরবর্তি আলোচনা চালিয়ে যাবো।
এমন কি কুকুর বাসায় থাকলে সে বাসায় ফেরেশতা প্রবেশ করে না, কুকুরের সাথে ফেরশতার দন্দ্ব কেনো? কোনো কারন নেই, একটা কারন হতে পারে মুহাম্মদ বিড়ালপ্রেমী ছিলো এবং বিড়াল এবং কুকুরের মধ্যে প্রেম বিষয়টা নেই, কিংবা কুকুর প্রভুভক্ত বিড়াল আদর চায় কিন্তু হাগলে সেই হাগা ঢেকে ফেলে এই শালীনতা বোধের জন্য বিড়ালওয়ালা গৃহে ফেরেশতা প্রবেশ করে, কুকুরের এক ঠ্যাং তুলে প্রসাব করা দেখে ফেরশতা বিরাগ হতে পারে ।
আয়েশা বর্নিত অন্য একটা হাদিস- এটাও মজাদার হাদিস, কোনো এক দিন মুহাম্মদের মন খারাপ ছিলো, বিষন্ন মনে তিনি পথ চলিতেছিলেন, এমন সময় হতাশায় তিনি ধুলিশয্যা নেন, তৎক্ষনাত এক খন্ড মেঘ তাকে ছায়া দিতে ভেসে আছে, সেই মেঘের উপরে বসা ছিলো জিব্রাঈল, তার সাথে মুহাম্মদের কথাবার্তা হয়,এবং পর্বতের অধিকারী ফেরেশতা এসে মুহাম্মদকে বলে যদি আপনি চাহেন তবে আমি এই পর্বত দিয়ে পিষ্ঠ করে দিতে পারি সে সব নাফরমান বান্দাদের, মুহাম্মদের করূনাভরা হৃদয়, মুহাম্মদ পর্বত ভেঙে ফেলতে চান নি নাফরমান বান্দাদের উপরে ,
কথা হলো পর্বত তো আর প্যাকেটে রাখা বিস্কুট নয় তুললাম আর মাথার উপর ভেঙে দিলাম, কিন্তু বিশ্বাসী মন এই প্রশ্ন করবে না এই বিষয়টা যৌক্তিক কি না, তার কথা আল্লাহ চাহেন তো পর্বত কেনো গোটা পর্বত মালা হাওয়ায় নাচতে নাচতে ভেঙে পড়তে পারে, এখন কথা হলো যদি এই সব অবাস্তব বিষয় বলে মুহাম্মদ তার অনুসারীদের সম্ভ্রম আদায় করতে চায় তাহলে তাকে শঠ বলা যাবে কি না।
যাই হোক মেরাজের ঘটনাটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করা শোভন নয়, কয়েকটা তথ্য- পৃথিবী থেকে 20000 ফুট উপরে মানুষের পক্ষে কোনো রমন যান্ত্রিক সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয়,
বায়ুমন্ডলের বাইরে কোনো অক্সিজেন নেই সুতরাং কোনো রকম প্রক্রিয়ার অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারলে মৃতু্য হবেই, এবং এ ছাড়াও সে খানে তাপমাত্রা -270 ডিগ্রি সেলসিয়াস, অধিকাংশ জীব কোষই -25 ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃতু্য বরন করে। প্রথম আসমান 2য় আসমান এই ভাবে যেতে যেতে 7ম আসমানে আল্লাহর বাসা, সেখানে প্রতিদিন 70000 ফেরেশতা মানাজ পরে, ফেরশতার সংখ্যা এত বেশি যে এই 70000 ফেরশতা অনন্ত কাল পরেও 2য় বার সেখানে আসার সুযোগ পাবে না, কথা হলো এই সব অলীক বিষয়ের পরও কিভাবে এই কেতাব যা কি না মহাবিশ্ব সৃষ্টি হওয়ার পর সপ্তম দিনের অবসরে লিখিত এবং যেটা আল্লাহর আসনে অসীন ছিলো এবং অতঃপর থাকে লাওহে মাহফুজে রাখা হয় এবং যেটার একটা কাছাকাছি সংস্করন আমরা পড়ি, সেটার ভিত্তিতে দেশ শাসনের কামনা করা কতটুকু যৌক্তিক, সম্পুর্ন কোরান কেউ দেখে নাই, হয়তো যেই অংশটুকুক্বারদের বুকের ভিতরে থেকই কবরবাসী হয়েছে সেই অংশটুকুতেই বর্তমান যুগের পড়য়োজনীয় সব আইন ছিলো, ওটা যখন কবরে চলে গেছে আমরা মনুষ্যসৃষ্ট অন্য ব্যাবস্থাগুলো বিবেচনা করি, গনতন্ত্র বিষয়টা খারাপ নয়, যদিও একটা সমস্যা থেকেই যায়, বাছাই করার জন্য যখন শুধু কিছু অপরাধী থাকে তখন তাদের ভেতর থেকে বাছাই করে নেওয়া কঠিন, কিন্তু এই পরিবেশটা আমরা বদলাতে পারি, আমরা নিজেরা সচেতন হলেই যেকোনো পদ্ধতি বদলাতে বাধ্য, যদি মানুষ না চায় তবে স্বয়ং আল্লাহ এসেও কোনো কিছু বদলাতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×