somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নদী রক্ষার আন্দোলন জরুরী নয় কি??

২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“নদী” - ছোট্ট একটি নাম। অথচ এর সাথে মিশে আছে আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। এই নদীর সাথেই জড়িয়ে আছে এ দেশের হাজারো সংস্কৃতি। কিন্তু আমরা আজ সেই নদীগুলোকে গলা টিপে হত্যা করছি। কিন্তু কেন???
এর উত্তর কি আছে কারও কাছে??



সেই ছোট বেলা থেকেই বই পুস্তকে পড়ে এসেছি যে, “নদীমাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ।” ছোট বড় অসংখ্য নদী জালের মত ছড়িয়ে আছে আমাদের এই দেশে। যার মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, তিস্তা হচ্ছে প্রধান এবং বড় নদী। এছাড়াও রয়েছে আত্রাই, ধরলা, ধলেশ্বরী, কপোতাক্ষ, ইছামতি, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, করতোয়া, বড়াল, তুরাগ, সুরমা, মহান্দা, আড়িয়াল খা, বংশী, শালতা, কর্ণফুলী সহ নাম না জানা অসংখ্য নদী। এ নদীগুলো বাংলাদেশের সমস্ত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। এই নদীগুলো ছিল আমাদের অহংকার এবং আল্লাহর দেয়া রহমত।
কারণ এক সময় এই নদীর উপর নির্ভর করেই জীবীকা নির্বাহ করত জেলে, মাঝি, বেদে সহ অসংখ্য জাতী। যাদের ছিল আলাদা আলাদা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
এছাড়াও বিদেশী বনিক বেনিয়ারাও এদেশে নদী পথে ব্যবসা করতে আসত। নদীর সাথে সাথে আজ তারাও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। নদী গুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারনে এখন আর কোথাও বেদে বহর দেখা যায় না, সেই সাথে সাপ খেলাও।
এছাড়াও বাংলাদেশের নদ-নদীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে এদেশের লাখো-কোটি বাঙ্গালী কৃষক। নদীর পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হতো হাজার হাজার হেক্টর জমি। নদী শুকিয়ে যাওয়াতে আজ পানির অভাবে ভালো ফসলও ফলানো যাচ্ছে না। ফলে দেশের খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা সবসময় থেকেই যাচ্ছে। এছাড়াও নদীতে পাওয়া যেত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ যা আমাদের আমিষের চাহিদা পুরন করত এবং অনেকে মাছ শিকার করে জীবন চালাত।

সবকিছু মিলে বলতে হয় নদী হল আমাদের ও এদেশের প্রাণ। এদেশকে চির সবুজের দেশ বলা হয়। তাই দেশকে চিরসবুজ রাখতে গেলে নদীকে বাচাঁতে হবে। অর্থাৎ নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব দেশও বাঁচবে।
কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের সেই প্রাণকে আজ আমরা নিজ হাতেই হত্যা করছি। দেশের অভ্যন্তরীন নদী গুলোকে দেশের কিছু স্বার্থান্বেসী, বিবেকহীন ঘাতক দল অবৈধ ভাবে দখল করছে। ভরাট করে অথবা বালু উত্তোলন করে নদীগুলোকে ধ্বংস করছে।



নদীর তীরে অবস্থিত শিল্প- কারখানার বর্জ্য দিয়ে শহরের নদীগুলোর পানিকে বিষাক্ত করা হয় যার ফলে নদীর তীরে জনসাধারনের বসবাস করা অসহনীয় হয়ে উঠছে। নির্মল ও সুন্দর বাতাসের পরিবর্তে বইছে দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস যা পরিবেশকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। এছাড়াও আমাদের কথিত প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র (যদিও শক্রর মত আচরণ) ভারত পরিকল্পিতভাবে এদেশকে মরুভুমিতে পরিণত করার জন্য নদীগুলোকে ধ্বংস করছে। তারা উজানে বাধ দিয়ে তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র, পদ্মা ও যমুনা নদীকে হত্যা করেছে।
অর্থাৎ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে এদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ বাংলাদেশের শতশত নদীর মধ্যে একটি নদীতেও পানি নেই। সকল নদীতেই এখন চাষাবাদ হচ্ছে, ঘরবাড়ি উঠছে। যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় দেখা যায় সেতুর নিচে ঘরবাড়ি ও গাছ-গাছালি দাড়িয়ে আছে অথচ সে জায়গায় থাকার কথা ছিল শুধু পানি আর পানি।



দেশের এই পরিস্থিতিতেও আমাদের সরকার একদমই নিশ্চুপ। এ ব্যাপারে তারা কোন পদক্ষেপই গ্রহন করছেন না। মনে হয় তারা কিছু জানেন না। অথচ একমাত্র সরকারই পারে দেশকে ও দেশের নদীগুলোকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে।
আর এই পরিস্থিতিতে আমাদের মত সাধারণ সচেতন জনগনের কি করনীয়?? আমরাতো নিজেদেরকে বীরের জাতী হিসেবে বলে থাকি। আন্দোলন করেতো অনেক কিছ্ইু আদায় করে নিয়েছি। তাহলে এখন কি নদী ও দেশকে বাঁচাতে পুনরায় আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে পারিনা?? আমরা কি পারি না ভারতের নিকট থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে??
আমি মনে করি আমরা অবশ্যই পারব। আর এ জন্য আমাদেরকে জাতী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বিভিন্ন মতপার্থক্যকে ভুলে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করতে হবে। তাহলেই নদী রক্ষা করা সম্ভব নচেৎ নহে।।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×