somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক
প্রভাবপ্রতিপত্তি আজীবন থাকে না। প্রতারকরাও প্রতিরিত হয়। ক্ষমতাচ্যুত হলে ক্ষমতাসীনের কী হবে? কবর অথবা শ্মশানে প্রতিদিন মৃতসৎকার হয়। ©_Mohammed Abdulhaque [www.mohammedabdulhaque.com]

সত্য প্রেম (উপন্যাস) পৃষ্টা ৪-৬

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




নুরি... ‘বুঝতে অবোঝ আমি কেমনে বুঝাব ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছি না।’
অনিল... ‘বাজ না ডেকে আকাশ ভাঙলে সত্যি বন্যা হয়।’
নুরি... ‘বিষয় যেহেতু কারণযুক্ত, সহেতুক সমস্যার সমাধান করতে না পেরে আমি ফলপুষ্পসমৃদ্ধ বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম। বনে বারমাস্যা ফুল আছে, মনে থাকে যেন।’
অনিল... ‘কবিতা বেচে আধ কাপ চা কিনা যায় না, ভাত সালনের চিন্তা বাদ দিয়েছি সেই কবে।’
নুরি... ‘শান্তির চেয়ে স্বস্তি বড়। স্বস্তির জন্য সাধনা করতে হয়। স্বস্তিকাসনে বসলে স্বস্ত্যয়ন হয়। সত্বর সফলতা তোমাকে স্পর্শ করবে, এই কামনা করি।’
অনিল... ‘আমি ঘুমালে কারা যেন চিল্লায়। আমি উঠে বসি। ওরা ঘুমিয়ে পড়ে। এবার নাকে তেল এবং কানে তুলা দিয়ে ঘুমাব। দেখি কে কার ঘুম ভাঙায়?’
নুরি... ‘আমি নিশ্চিত হয়েছি তুই নিজেকে চিনতে পেরেছিস। নিজেকে জানার পর নিজের দিকে তাকাতে ভয় হয়। আত্মশুদ্ধি অনেক বড় বিষয়। তোর মঙ্গল কামনা করি।’
অনিল... ‘হেত্বাভাস শব্দের অর্থ আপাতদৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয় এমন যুক্তি।’
নুরি... ‘তুই আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা। তোর হাত ধরে আমার সফলতা সম্পূর্ণ সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে। তুই বকলে আমি অনুপ্রাণিত হই। তুই আমার আত্মার আত্মীয়। তোর আত্মীয়তায় আমি পরমাত্মীয়া হয়েছি।’
অনিল... ‘নিখরচা জলপাই কামড়ে আজ আমি গ্রহের ফেরে পড়েছি।’
নুরি... ‘নিশ্চয় জানিস, মুরগি যখন এণ্ডা পাড়ে তখন এক-সাথে অনেক গুলো পাওয়া যায়। পীড়াপীড়ি করে এণ্ডা পাড়ানো যায় না।’
অনিল… ‘এণ্ডার জন্য মুরগির সাথে জোরাজোরি করতে হয় না, খামারে গেলে সত্যাসত্য দেখতে পাবে।’
নুরি... ‘এঁটুলের কামড় এবং প্রাজনের বাড়ি যারা খায় ওরা জানে এক কলসি দুধে এক ফোঁটা চোনা পড়লে কী হয় এবং চুকলিখোররা কেন চুনোপুঁটির পছন্দ করে?’
অনিল... ‘আমি এত নগন্য হয়েছি, উত্তম উপদেশের বিনিময়ে মৃদু ভর্ৎসনা পেলাম। আমি মালি হতে চেয়ে ফুলের ক্রেতা হয়েছি। ফুলের হুল খালি পায়ে ফুটলে বিষম যন্ত্রণা হয় জেনে খড়ম পরেছি।’
নুরি... ‘সমস্যা আরকেটা ধরা পরেছে। শহরের জন্ম গ্রামে জেনেও আঞ্চলিক ভাষাকে অবহেলা করে পণ্ডিতরা ব্যকারণ বানিয়েছিল। বিষয় কত মারাত্মক নিশ্চয় আঁচ করতে পেরেছিস?’
অনিল... ‘চক্র চলবে। আমরা চালাক হলে, আমাদের চক্রে ওরা চক্কর দেবে। সমস্যা হলো, এমন কখনো হবে না। গরিব হলে মানুষের মগজ বিকল হয়।’
নুরি... ‘এই সত্যকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে হবে। অবহেলিত আমরা দিনদিন দূর্বল হচ্ছি।’
অনিল... ‘গরিবরা মরে শেষ হয় না। ধনী যখন গরিব হয় তখন গরিবরা তার উপর করুণা করে। মাঝে মাঝে হাসি আর বলি, ধনীরা জনমের কাঙাল, আমাদের লোটা-ঘটি ভাগবাঁটোয়ারা করে ওরা লাট হয়েছে। দয়াময় দয়া না করলে সত্বর ওরা নির্ধন হবে।’
নুরি... ‘নিচে তাকিয়ে নিজের ছায়া দেখলে আমি ভয় পাই। একলা হাঁটলে হাত পা কাঁপে।’
অনিল... ‘সত্য জানতে হলে মরিয়া হতে হয় এবং বেপরোয়ার মতো চলতে হয়।’
নুরি... ‘সাধনা কখনো পণ্ডশ্রম হয় না, হতে পারে না।’
অনিল... ‘নারীর নাড়িতে দুনিয়ার সকল প্যাঁচ। এই প্যাঁচ খুলা মুখের কথা নয়।’
নুরি... ‘কিপটামি করলে নতুন বউ মুখ ভেংচিয়ে বলে, ইয়ে আপনি এত কেপ্পণ কেন?’
অনিল... ‘খামোখা চিন্তা করলে মনের কথা লেখার সময় মন বিমনা হয়।’
‘তুমি নিশ্চয় জানো ভালোবাসা হলো জীবনীশক্তি।’ বলে নুরি অপলকদৃষ্টে তাকালে অনিল বলল, ‘ভালোবাসার অর্থ বুঝার বয়স হয়নি। গবেটরা হাতির মত খায় আর গাধার মত কাজ করে। আমি গবেট হতে চাই।’
নুরি... ‘চাঁদের বাড়ি অমাবস্যা, সূর্যের বাড়ি রাত নিশা জেনে আমি ভরা সাঁঝে উদয় হয়েছি একনজর তোমাকে দেখার জন্য।’
অনিল... ‘মুখ দেখে মনে হচ্ছে, মিষ্টি খেতে চেয়ে আলুর ভর্তা খেয়েছিস।’
নুরি... ‘দুটার দামে তিনটা, দুইটা কিনলে একটা মাগনা।’
অনিল... ‘গ্যাঁড়াকলে পড়লে বেআক্কেলরা চিল্লায়, আনন্দদায়িনীর সাথে স্বপ্নের ভেলায় ভাসাতে মন চায়।’
নুরি... ‘ভুল করে শিখতে হয়, ভুলকে যারা শুদ্ধ করে শুধু তাদের হয় জয়।’
অনিল... ‘সাগরে লবণ আছে, পাপিয়া তা জানে আমি জানি না। খেমটা তালে নাচে বুড়ি কোমর ভাঙে না। শোনপাপড়ি, আনন্দনাড়ু, বালুশাই আর গুড়ের বাতাসা একলা খাব তোকে দেব না।’
নুরি... ‘কৃপণ আর কাহাকে বলে, অকৃতজ্ঞ আর কি?’
অনিল... ‘আমাকে কিছু বলছিস নাকি?’
নুরি... ‘আমার বাতাস বন্ধু তুই এত পাষাণ হলে কেন?’
অনিল... ‘পাষাণরা যখন কাঁদে তখন পাথর গলে। আমি যে আনাড়ি তা প্রমাণ হয়েছে। এখন রেহাই পেয়েছি। তুই বাড়ি যা, আমি ঘোরাঘুরি করব।’
নুরি... ‘আমার মনে বাঁশি বাজে, উদাস হই আমি সুর খোঁজে, কিছু হয়নি বুঝেছি সাঁঝে।’
অনিল... ‘না জেনে না চিনে বিলাতি খাবার খেয়ে ফুলেছে আমার অন্ত্র, হাত কাটার জন্য হাতে নিয়েছি নখ কাটার যন্ত্র।’
নুরি... ‘যান্ত্রিকতায় সমাজতন্ত্রের আন্ত্রিক জ্বর উঠেছে, মন্ত্রতন্ত্রে তান্ত্রিক বেটার নাভিশ্বাস উঠেছে। ।’
অনিল… ‘বুঝেছি, তুম্বি কিনতে যেয়ে মোসম্বি কিনেছি, আঙ্কিক হতে চেয়ে আঙ্গিক হয়েছি।’
নুরি… ‘পাগলকে ধরতে চেয়ে পাগলী হয়েছি, বাতাসকে ভালোবেসে মন হয়েছে বাতাসী।’
অনিল... ‘বনে গিয়েছিলাম হরিণ শিকার করার জন্য, বাঘ দেখে জান কাঁপলে ভুলেছিলাম সৌজন্য।’
নুরি... ‘রাজনিতী না বুঝলেও মানবতার অর্থ বুঝি।’
অনিল... ‘বুঝেছিস, তুই উত্তম এবং আমি অধম।’
নুরি... ‘অবিশ্বাস্য হলেও বিশ্বাস করতে হবে।’
অনিল... ‘আমি তোমাকে কয়েক কোটি টাকা দেব, সংলাপ শুনে লোকাকীর্ণ হলে একজন হাসতে হাসতে বলল, আমাকে কী দেবে? তাকে বকাবকি করে লোকজন চলে যায়। এই হলো বাস্তবতা।’
নুরি... ‘কাম বাড়িয়ে কামরাঙায় কামড় মেরেছিস নাকি?’
অনিল... ‘আমি বিশ্বাস করি খালি পেটে ওষুধ খেলে পেটে অসুখ হয়।’
নুরি... ‘উরে দূরে কারবার, দিনমান মন করে ঘরবার। বাতাস বন্ধু, মন উদাসিন হয়েছে। আমাকে স্পর্শ কর, মন ডানা মেলতে চায়।’
অনিল... ‘মনে রাখিস, তাজা গরুরা বেশি ঘাস খয়ে।’
নুরি… ‘ঠিকাছে, আরো তাজা হওয়ার জন্য গরুকে গোঠে পাঠাব।’
অনিল... ‘ব্যবসার মাত্র একটা উদ্দেশ্য, আর তা হলো খাস্তায় বেচেও লাভ করা। প্রয়োজনে পরের ধনে পোদ্দারি করে পেয়াদা বেয়ারাকে বেতন দিতে হবে, সংসারী হওয়ার জন্য টাকা জমাতে হবে।’
নুরি… ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বড়লোক হতে চাও নাকি?’


প্রথম প্রকোশ ২০/১২/২০১৭
Copyright © 2017 by Mohammed abdulhaque
ISBN-13: 978-1982087326
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৩
১২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×