
তুমি যাবে ভাই - যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
বন্ধুকে নিন্ত্রণে এমন আন্তরিক আহ্বান যাঁর লেখায় প্রকাশ পায় তিনিই বিখ্যাত বাঙালি কবি জসীমউদ্দীন। যুগে যুগে বাংলা সাহিত্যে অনেক উজ্জ্বল প্রতিভার আবির্ভাব হয়েছে। তাঁদের প্রতিভা স্পর্শে বাংলাসাহিত্য আজ বিশ্বমানের। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জীবনানন্দ দাশ তাঁরা সবাই স্বমহিমায় ভাস্বর প্রতিভাবান। কিন্তু এদের সবার মধ্যে যে নামটি উচ্চারিত হলে কাদা মাটির গন্ধে, কৃষকের হাসি ফোটা মুখচ্ছবি, ফসল ঘেরা সবুজ মাঠ এবং প্রেমিকের ছন্দচিত্র আমাদের চেতনায় ফুটে ওঠে তিনি আমাদের প্রিয় পল্লীকবি জসীমউদ্দীন। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, বাংলা কবিতায় যার অবস্থান সাতন্ত্র্যে উজ্জল। কবি জসীমউদ্দীনের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কেটেছে লোকজ ও গ্রামীণ পরিবেশে। জসীমউদ্দীন দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘কবর’ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী- রাঁখালী, নকশীঁ কাঁথার মাঠ, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, সুজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, মাটির কান্না ইত্যাদি। তাঁর নকশীঁ কাঁথার মাঠ ইংরেজী ভাষায় অনূদিত হয়। ১৯৬৯ সালে ‘রবীন্দ্র ভারতী’ থেকে তিনি ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে তাঁকে মনোনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়। তাঁর লেখা কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জসীমউদ্দীন। পল্লী কবির ১১১তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

