somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'হাওয়া' এবং অথির চক্রবর্তীর লেখা ছোটগল্প 'দ্রোপদী ও পঞ্চপাণ্ডবের অলিখিত জীবনী'র গল্পের প্লট প্রসঙ্গে কিছু কথা

০৩ রা আগস্ট, ২০২২ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কবি, গল্পকার 'অথির চক্রবর্তী'র লেখা "দ্রোপদী ও পঞ্চপাণ্ডবের অলিখিত জীবনী" গল্পের প্লটের সাথে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত "হাওয়া" সিমেমার প্লটের বা মূল গল্পের কিছুটা মিল আছে। কিংবা যদি বলা হয় 'অথির চক্রবর্তীর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত বা প্রভাবিত হয়ে পরিচালক 'হাওয়া'র স্ক্রিপ্ট লিখেছেন তাহলে ভুল হবেনা।
'দ্রোপদী ও পঞ্চপাণ্ডবের অলিখিত জীবনী' গল্পের লেখক অথির চক্রবর্তী জেলেপাড়ার একটা মেয়ের কথা বলেছেন যার নাম দ্রোপদী। দ্রোপদীর রূপে পাড়ার ছেলেছোকরা রীতিমতো পাগল। কিন্তু হঠাৎ একদিন দ্রোপদীর বিয়ে হয়ে যায় রেলে চাকুরী করা কৃষ্ণেন্দুর সাথে। এই দুঃখে দ্রোপদীর প্রেমিক বাবুল, মহসিন, হাসমত, নিখিলের মতো পাড়ার অনেক ছেলেছোকরা সুইসাইড করার চিন্তাভাবনা করলেও শেষপর্যন্ত কেউই সুইসাইড করেনা।
বাবুল, মহসিন, হাসমত ও নিখিল.... তারা চারজন গাজার স্টিক নিয়ে নৌকায় রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরের ঘটনা গল্পকার অথির চক্রবর্তীর যেভাবে বলেছেন হুবহু ক্যোট করে দিলাম-
"তারা কপালের ঘাম মোছে। নদীতে ওইদিন ছিল উথালপাথাল জোছনা। যেন চাঁদের ঠাণ্ডা আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুন ছলকে ছলকে পড়ছে। জোছনার আলোয় তাদের চোখে সন্দেহ না ভয় ঠিক কী বোঝা যায় না। ওদের কাছে হঠাৎ মনে হয় এটা জাল নয়, এটা দ্রৌপদীর শাড়ি। এই জালে কোনোদিন মাছ উঠলেও এক-দুটির বেশি উঠে না। সেই এক-দুটি মাছ যেন হাভাতে জেলেদের কিছুটা দুঃখ প্রশমনে।"

এবার আসি 'হাওয়া' সিনেমার গল্পে। হাওয়া সিনেমার গল্প মূলত উপরের ক্যোট করা অংশ থেকে শুরু। জেলে পাড়ার কয়েকজন জেলে চান মাঝির নেতৃত্বে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে জাহাজ বা নৌকা ভাসায়। তারা সমুদ্রে জাল ফেলে, মাছ ধরে, মহাজনের চোখ ফাকি দিয়ে মাছ বিক্রি করে। মাছধরা, চুরি করে বিক্রি করে এক্সট্রা ইনকাম করাই আসলে তাদের জীবনজীবিকা। একরাতে তাদের জালে একটা মেয়ে উঠে আসে, তারা প্রথম দেখায় ভাবে মেয়েটা মৃত; পরে দেখে মেয়েটা জীবিত। তারা মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করে, মেয়েটা কিছুই বলে না। তারা ভাবে মেয়েটা বোবা। এবং সিদ্ধান্ত নেয় পরিচিত নৌকা বা জাহাজ পেলে মেয়েটারে তীরে পাঠিয়ে দেবে। তারপর (একদিন অনেকগুলা জেলে নৌকা সাগরে একসাথে জড়ো হলে সবাইমিলে 'সাদা সাদা কালা কালা, রঙ্গ জমেছে কালা কালা গানটা গায়, গাজাটাজা খায়';)
মেয়েটাকে ঘিরে চানমাঝিসহ কয়েকজন জেলের যৌনচিন্তা বা যৌনচেতনার উদ্রেক হয়। চানমাঝি একদিন কুপ্রস্তাব দিলে মেয়েটা (দা দিয়ে) ভয় দেখায়....
এইসব ঘটনার ফাকে ইব্রাহীম মাঝির সাথে মেয়েটার ভাব জমে উঠে। ইব্রাহিম আবিষ্কার করে মেয়েটা কথা বলতে পারে। মেয়েটা বোবা নয়। মেয়েটা এসেছে 'পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে'। বহুদিন বহুদিন আগে, মেয়েটা যখন ছোট তখন চানমাঝি মেয়েটার পিতাকে হত্যা করেছিলো। মেয়েটা এসেছে চানমাঝিরে হত্যা করে পিতাহত্যার প্রতিশোধ নিতে।
এদিকে নৌকায় বা জাহাজে জালে মাছ না-ওঠা, নোঙর ছিড়ে যাওয়াজাতীয় কিছু অপার্থিব বা পরাবাস্তব ঘটনা ঘটতে থাকে... এজন্য অনেকেই মেয়েটারে দায়ী করে। শেষে চানমাঝি সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটারে জলে ফেলে দিবে বা হত্যা করবে।
ইব্রাহীম বাধা দিলে শুরু হয় কোপাকুপি, মারামারি।
ইব্রাহিমকে মেরে বেধে রাখা হয়। মেয়েটা গায়েব হয়ে যায়। কুপাকুপি বমি টমি করে সবাই মারা যায়, বেঁচে থাকে স্রেফ চানমাঝি ও নাগু। শেষে সাপের কামড়ে তারাও মারা যায়।
মুভি শেষ হতে হতে আবারো দেখা যায় জলে পাওয়া মেয়েটাকে....

মুভির শেষেরদিকের অপার্থিব অংশের সাথেও আমি গল্পকার অথির চক্রবর্তীর গল্পের নিচের ক্যোট করা অংশের মিল পাচ্ছি-
"মিথ আছে এই দ্রৌপদীকে একবার একজন জোর করে চুমু খেতে চেয়েছিল, তার পরদিন থেকেই তার মুখে কুলুপ। সে আর কথা বলতে পারে না। আরেকবার কোনো দুর্বৃত্ত দ্রৌপদীকে মওকামতো পেয়ে খড়ের গম্বুজের আড়ালে শাড়ি খুলতে তৎপর হয়েছিল, তার পরদিন থেকে সবাই দেখল তার দু-হাতই অবশ। আরেকবার কেউ গোপনে দ্রৌপদীর স্নান দেখতে গিয়ে হারালো চোখ। তারপর থেকে কেউ দ্রৌপদীকে আর ঘাঁটানোর সাহস পেতো না। দ্রৌপদী তার তানপুরার মতো নিতম্ব দুলিয়ে দুলিয়ে পথের বাঁকে মিলিয়ে যায়।"
এনিওয়ে,
'হাওয়া সিমেমা' এবং গল্পকার কবি অথির চক্রবর্তীর 'দ্রোপদী ও পঞ্চপাণ্ডবের অলিখিত জীবনী' গল্প দুইটার প্লটেই জেলেজীবন, জাল, নৌকা, গাজা, সুন্দরী নায়িকা, অপার্থিব কিছু দৃশ্যচিত্র, কামচিন্তা চরিতার্থ করার চেষ্টা, লাশ.... ইত্যাদি ইত্যাদি দৃশ্যচিত্র আছে। পার্থক্য স্রেফ.... একটা গল্পে ইশারায় বা অল্পকথায় ব্যার্থ কিছু প্রেমিক জেলের স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণার গল্প এবং একটা মেয়ের আত্মহত্যা বা হত্যার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; অন্যটায় ডিটেইলসে জেলেদের জীবন, এবং পিতাহত্যার প্রতিশোধের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুতরাং গল্পকার অথির চক্রবর্তী যদি বলেন 'হাওয়া' গল্পের প্লট তার গল্প থেকে নেওয়া বা কিঞ্চিৎ অনুকরণ করা হয়েছে তাহলে মোটেও ভুল হবেনা।
অথির চচক্রবর্তীঃ দ্রোপদী ও পঞ্চপাণ্ডবের অলিখিত জীবনী
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২২ রাত ২:২১
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×