বাচ্চাদের ডিভাইস আসক্তি এখন আর কোনো নতুন বিষয় নয়। ৪/৫ মাসের বাচ্চার হাতেও এখন ফোন দেয় মা বাবা।
কিন্তু ইদানীং অন্য একটা জিনিস ভাবাচ্ছে আমায়। প্রায় দেখছি মা বাবা যখন ফোন হাতে নেয় কোনো কাজে, বাচ্চা এসে হাত হতে ফোন ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। মা বাবা হাসতে হাসতে আবার বলে, "আমার বাচ্চার জন্য হাতে ফোনই রাখতে পারিনা"। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এ আর এমন কি বড় ব্যাপার! বাচ্চারা করতেই পারে। হ্যা, বাচ্চারা অনেক কিছুই করতে পারে, কিন্তু তাকে ভালোমন্দ শেখানোর দায় আপনার।
এই যে, হাত হতে ছোঁ মেরে ফোন নিচ্ছে, এটা একধরনের বেয়াদবি। ও হয়তো বুঝে করছে না এখন, কিন্তু আপনি যদি কিছুই না বলেন, তার মানে এই বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ও শিখছে যে, আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করতে পারি, কারো জিনিস নিতে আমার কোনো পার্মিশন দরকার নেই।
আবার এই বাচ্চা যদি অন্য কারো কাছ হতেও এভাবে জিনিস কেড়ে নেয়, তখন দেখা যায় ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দিচ্ছে মা। অথচ বাচ্চার এখানে দোষ নেই, কারণ সে তো বাসায় উল্টো শিক্ষাই পেয়েছে, তাই সে বুঝেনা তার দোষটা কি? ফলশ্রুতিতে মার খেয়ে আরও জেদি হয়ে উঠে।
মা বাবা (স্পেশালি মায়েরা) বাচ্চার খাওয়া, বাচ্চার পড়াশোনা নিয়ে যতটা চিন্তা করে বাচ্চাকে ম্যানার শেখাতে ততটা চিন্তা করে কি? সেদিন একজন বলছিল, " আপা, মেয়ে ৩টা ফোন ভেঙ্গেছে, তাই এবার কমদামি ফোন নিয়েছি যাতে ভাঙ্গলে বেশি কষ্ট না লাগে। "
মানে, সিরিয়াসলি!! বাচ্চা ফোন ভাংগছে, এটা বুক ফুলিয়ে বলছেন? কি শিক্ষা দিচ্ছেন উনি তার বাচ্চাকে? বাচ্চা বড় হচ্ছে এই শিক্ষা নিয়ে যে, আমি যা ইচ্ছা করতে পারি, যা খুশি নষ্ট করতে পারি, আমায় কেউ কিছুই বলবে না। জিনিসের মূল্য দিতে শিখছে না সে। বড় হয়েও ওরা বুঝবে না যে একটা জিনিস কিনতে যে টাকা লাগে তা কত ঘাম ঝড়িয়ে উপার্জন করতে হয়। এসব সন্তানদের চাহিদা পূরন করতেই মা বাবা ছেড়া জামা জুতা পড়ে হলেও সন্তানের জন্য কেনে ব্রান্ডেড পোশাক, জুতা, লেটেস্ট মোবাইল, মোটরসাইকেল। কোনোদিন ওই সন্তানেরা বোঝেনা মা বাবার কষ্ট।
আমার এক ফ্রেন্ড কিছুদিন আগে বলছিল, তার বরের জন্য বাচ্চাকে কিছুই বলা যায়না। বাচ্চা ৬৫ হাজার টাকার টিভির স্ক্রিনে কাচি দিয়ে গুতিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে, ওর বর কিছুই বলেনি। "ছেলে বাবার নয়নের মণি", গর্ব করে আমার ফ্রেন্ড বলছিল।
আরে, সব বাচ্চাই তার বাবার নয়নের মণি। কিন্তু নয়নের মণি হবার মানে এই নয় যে যা ইচ্ছা করতে পারো তুমি। ওই বাচ্চা নিশ্চয়ই ওইদিনই প্রথম টিভির কাছে যায়নি, আগেও গিয়েছে, হাত দিয়েছে, আঘাত করেছে, কিন্তু বাধা পায়নি।
"কথায় আছে অতি আদরে বাঁদর হয়, তোর ছেলেও সেদিকেই যাচ্ছে", এটা বলেছিলাম ওকে, মনক্ষুন্ন হয়েছে কিছুটা।
বাচ্চা ২/৩ বেলা না খেলে এমন কোনো ক্ষতি হবে না। বাচ্চা একসপ্তাহ না পড়লেও কোনোই সমস্যা নেই। কিন্তু বাচ্চাকে যদি ম্যানার না শেখাতে পারেন, উচিত অনুচিত না শেখাতে পারেন, জিনিসের মূল্য না শেখাতে পারেন, তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার সন্তানের উচ্ছন্নে যাবার পথ আপনিই তৈরি করে দিচ্ছেন।
ফলশ্রুতিতে সারাজীবন আফসোস করেও কোনোই লাভ হবেনা।
Good manners will open doors that the best education cannot.
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২১ ভোর ৫:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




