somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

লেখক হতে কি লাগে!

০৯ ই মে, ২০১৭ রাত ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"A blank piece of paper is God’s way of telling us how hard it to be God."
– Sidney Sheldon

একজন লেখক কিছুটা হলেও স্রষ্টার সৃষ্টির আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।সেদিক থেকে একজন লেখকের সম্মান অনেক উপরে।আমাদের আশেপাশের পরিচিত মানুষগুলোর ভিতর খুঁজলে এমন এক দুইজনকে পাওয়া অসম্ভব হবে না যে জীবনের কোন না কোন সময়ে একটু আধটু লেখার চেষ্টা করেননি।
কেউ হয়তো দুই চার লাইন লিখে হঠাৎ করে আবিষ্কার করলেন লেখালেখি কাজটা যথেষ্ট ধৈর্যসাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য একটা বিষয়।

আবার কেউ কিছুক্ষণ কয়েক পাতা ভর্তি ইচ্ছামত লেখা লেখি করে অবাক হয়ে দেখলেন জীবনে প্রথমবারের মত একটা গল্প কিংবা কবিতা লিখে ফেলেছেন।যদি তাই হয় এর মানে হলো তিনি একজন লেখক হিসেবে পুনর্জন্ম নিলেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো সত্যিকারর্থে একজন লেখক হতে গেলে আসলে কি করতে হয়?এই প্রশ্নটা বোধহয় এইভাবে করলে আরো সহজে উত্তরটা দেওয়া যায়-"লেখক কাকে বলে?"

যে কেউ হয়তো চট করে বলে দেবেন-"যিনি লিখেন তিনিই লেখক।একজন লেখকের অবশ্যই জগতের প্রতি একটা উদার দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।"

প্রাচীন গ্রীসে এবং মিসরীয় সভ্যতায় সম্রাটের নিজস্ব লেখক থাকতো।যাদের কাজ ছিলো সম্রাটের জীবদ্দশায় তার জীবনী লেখা।(যাতে সম্রাট জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেন তার নামে কি লেখা হচ্ছে।)এনাদের কিন্তু তেমন কল্পনা শক্তি প্রয়োজন ছিলো না।যেটা প্রয়োজন ছিলো সেটা হলো ভাষাজ্ঞান এবং লেখার ধৈর্য।আবার ফেরদৌসি সুলতান মাহমুদকে উৎসর্গ করে "শাহনামা" লিখেছিলেন।বিশ্বসাহিত্যের এক অমর সাহিত্য যা একই সাথে রূপকথা আর বাস্তব জগতের সমষ্টি।দুটোই ইতিহাসের প্রয়োজনে সৃষ্টি,কিন্তু এখানে দুই ধরণের লেখকদের ভিতর বৈচিত্র‍্য দেখা যাচ্ছে।

কারো মতে একজন লেখককে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের সাথে মিশতে হবে।সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকতে হবে,মানুষকে বুঝতে হবে।

এই মতের পিছনে যুক্তিও আছে।লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা,জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তার লেখার ভিতর তিনি না চাইলেও চলে আসতে বাধ্য।সেটা গল্প,উপন্যাস কিংবা প্রবন্ধ সাহিত্যের যে শাখাই হোক।ওয়েস্টার্ন লেখকরা ব্যাগ ভর্তি জিনিসপত্র আর একটা নোটবুক নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়ান অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য।।আমাদের দেশের লেখকরাও এই কাজ করেছেন।হুমায়ূন আহমেদ একটা মাইক্রোবাস নিয়ে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছেন।তারমানে লেখক হতে গেলে বাইরের জগতে প্রবেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ধরা যাক ঘটনা যদি এরকম হয়--হঠাৎ এক গভীর রাতে আপনার ওয়ারড্রবের ভিতর দিয়ে অদ্ভুত আওয়াজ আসছে।আপনি খুব আগ্রহ নিয়ে ওয়ারড্রবটা খুললেন এবং আবিষ্কার করলেন সবসময়ের জামাকাপড়ে ঠাসা হ য ব র ল ওয়ারড্রবের ভিতর একটা বিরাট কালো ওয়ার্ম হোল বসে আছে।আপনি হয়তো ঝুঁকে পড়ে দেখতে গেলেন ঘটনা কি?আর অমনি ওয়ার্ম হোলটা আপনাকে টেনে নিয়ে ফেলল এমন জগতে যার সাথে আপনার বাস্তব জগতের কোন মিলই নাই(কারো কারো মনে চট করে চলে আসতে পারে সি এস লুইসের দি লায়ন,দি উইচ এন্ড দি ওয়ার্ড্রব এর কথা।যদিও এই বর্ণনার সাথে তার সামান্যই মিল আছে।)

একজন লেখকের পক্ষে তার নিজের ঘরের চার দেওয়ালে ভিতর বসে এরকম সম্পূর্ণ একটা জগত সৃষ্টি করা সম্ভব।যেখানে বাস্তবতার কোন ভিত্তি থাকার দরকার নাই।যেখানে আপনার পড়ার টেবিলটা বিনা কারণে আকাশে ভাসতে পারে।কাঠবিড়ালিটা গম্ভীর গলায় উপদেশ দিতে পারে।হ্যারির পটারের জাদুর জগতের কথা বলা ছবি,হোগওয়ার্টসের কুইডিচ ম্যাচ,এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের জাদুর বিড়াল,ম্যাড হ্যাটার,চিরতরুণ পিটার প্যান কিংবা জুল ভার্নের মিস্টেরিয়াস আইল্যান্ড কোন বিরাট তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাহিত্য নয় আমাদের অতিপরিচিত জগতের সাথে শুধু কল্পনার রঙ মিশানো মাত্র।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে ব্যক্তিজীবনে একজন গর্তজীবী মানুষের জন্যেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে।তার পক্ষেও লেখক হওয়া সম্ভব।

সবশেষে যাই হোক,ইতোমধ্যে কেউ যদি সম্পূর্ণ লেখাটা পড়ে ফেলেন এবং লেখক হবার কোন সত্যিকারের উপায় আবিষ্কার করতে পারেন তাহলে আপনাকে অভিনন্দন।আপনি সত্যিকারের একজন আশাবাদী মানুষ।আর যারা লেখাটা পড়ে এর কূল কিনারা করতে পারেননি তাদের বলবো ভাই চিন্তার কিছুই নাই।আপনিও ঠিক পথেই আছেন।

এই লেখাতে প্রচ্ছন্নভাবে এইটাই বুঝাতে চেয়েছি এই মহাবিশ্ব যেমন অসীম।একজনের লেখকের লেখার বিষয়বস্তুও অসীম।তাই কোন নির্দিষ্ট ছকে লেখকের সংজ্ঞা নির্ধারণ সম্ভব নয়।এই লেখার আদ্যপ্রান্ত একান্তই আমার মত আনাড়ি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত।আর এই লেখাটিও আনাড়ি লেখকদের উদ্দেশ্যেই লেখা।এখানে কেউ দ্বিমত পোষণ করলেও করতে পারেন।আর গুরুজনদের উপদেশ তো সবসময় শিরোধার্য বটে।

// খাগের কলম,থেকে ফাউন্টেনপেন;টাইপ রাইটার থেকে এন্ড্রয়েড সব যুগের লেখকরা অমর থাকুক নিজ নিজ লেখনীর মাঝে।অতীত গেছে দূরে,বর্তমান বেঁচে থাকুক সুন্দর ভবিষ্যতের আনন্দে।//
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৭ ভোর ৪:০৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×