somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

> সমান্তরাল গল্প: 3

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূল গল্প: [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িমঁৎঁপযধহফধষর.পড়স/মঁৎঁপযধহফধষর.ঈড়হঃৎড়ষষবৎ?ঢ়ড়ৎঃষবঃওফ=1্ঢ়ড়ৎষবঃচধমব=1্ঢ়ড়ৎষবঃঝঁনচধমব=9]গুরুচন্ডালি[/লিংক]
পার্ট: [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/শড়হভঁংরধংনষড়ম/ঢ়ড়ংঃ/28694893]এক[/লিংক] ও [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/শড়হভঁংরধংনষড়ম/ঢ়ড়ংঃ/28694896]দুই[/লিংক]।

5।

নিউমার্কেটের সামনের বড়ো রাস্তাটা পার হবার জন্যে প্রিয়তি যখন নির্বিঘ্নে আমার হাত ধরে, আমার ইচ্ছে করে এই হাতটা, এই নিউমার্কেটটা, এই সময়, এই জায়গা, সবকিছুকে সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে রাখি!

কিন্তু বাড়ি ফিরলেই আবারও সেই বিচ্ছিরি বোধ। বাবাকে দেখলেই একটা বমি-মতন অনুভূতি দলা পাকিয়ে উঠতো গলার কাছটায়। কখনৈ আমাদের চোখে চোখ পড়তো না। আমি চাইতাম, হয়ত ঠিক যেমন করে মা তাকাতেন আমার দিকে, আমার গোপন কথা জানবার জন্যে, কিন্তু বাবা অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলতেন সবসময়। আমি তীব্র দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করতাম কখন তিনি আমার দিকে তাকাবেন- আর আমি আমার সবটুকু ঘৃণা ঢেলে দিব সেখানে।

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে আমি চলে এলাম আমাদের শহর ছেড়ে। একই বিষয় নিয়ে পড়তে প্রিয়তিও চলে এল। আমরা দুজনেই হলে থাকতাম, একসাথে পড়তাম, ঘুরতাম, ফিল্ম সোসাইটি করতাম। মিছিল, মিটি, ংআন্দোলন আর ভালোবাসাবাসি- সব চলতে লাগলো একসাথে।

ছুটিছাটায়ও বাড়ি যেতে চাইতাম না আর। অনেক দিন বাদে বাদে বাবার সাথে হঠাত্ হঠাত্ ফোনে কথা হতো।

একবার তিনি ভীষন অসুস্থ হয়ে গেলেন। হার্টের অসুখ। বাইপাস করাতে হলো। হাসপাতাল- ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি, সবই একা প্রিয়তি করলো, আমি কেবলই তাকে সঙ্গ দিলাম।
অপারেশনের পরদিন আমি বাবার বিছানার পাশে বসা। প্রিয়তি বাইরে গেছে কিছু একটা কাজে। বাবা ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাত্ করে তিনি চোখ মেলে তাকালেন। এব ংঅনেক অনেকদিন পরে আমাদের চোখাচোখি হলো।

বাবার চোখ দেখে আমি চমকে উঠলাম। কি গভীর ক্লান্তি, লজ্জা আর আকুতি সেখানে! কিছু না বলে তিনি আমার হাত ধরতে চাইলেন, আমি চট করে উঠে দাঁড়ালাম। অনেকদিনের পুষে রাখা ঘৃণাটুকু ঢালতে গিয়ে দেখি- সেটুকু গ্রহন করবার ক্ষমতা আর তার নেই। অঝোরে পানি পড়ছে তাঁর চোখ থেকে।

ঘৃণা করতে না পারার অক্ষমতায় আমি সেখান থেকে ছুটে বের হয়ে এলাম।


6।

আবারও বছর গড়ায়। গড়িয়েই চলে।
প্রিয়তি আর আমার ছোট্ট সংসার। প্রিয়তি এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ায়। আর আমি পুরোপুরি সিনেমাওয়ালা। হলে চলে না- দর্শকে দেখে না- এমন সব ছবি বানাই। বছর বছর নিয়মিতভাবে পুরস্কার এনে দেয় সেসব সিনেমাগুলো, আর আমি সেই আনন্দে প্রতিদিন প্রিয়তিকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি।

এমনি করেই চলছিল আমাদের। গতকাল পর্যন্ত।
কাল রাতেই হঠাত্ ফোন এলো বাড়ি থেকে। জরুরী তলব। আর আমরা আজ সকালে এসে পৌঁছাই আমাদের ছোট্ট শহরে- এক ঝাঁক কালো মেঘ মাথায় নিয়ে।

*

সিগারেটটা শেষমেষ ধরাতে পারি। ওটার মাঝামাঝি আসতে আসতে বৃষ্টির মধ্যে খুঁজে পাই সেই তবলার বোলের ছন্দ। শেষ হবার আগেই দীপু আমার কাঁধ ধরে ইশারা করে। বৃষ্টি থেমে গেছে, আমরা কয়েকজন নিশি পাওয়া মানুষের মতন হেঁটে এসে দাঁড়াই সেখানে।

কবরে লাশ নামানো হয়। বাবাকে মাটি চাপা দেয় সবাই মিলে। দেখি চেনা অচেনা সব লোকজন গভীর মনোযোগে বাবার কবরে মাটি ফেলতে থাকে। আমি এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকি। হঠাত্ বড় চাচা বলে ওঠেন, বাবা রে, মাটি ফেলবি না একটু?

আমি মাথা নাড়ি। হাতের সিগারেটটা শেষ প্রায়। কোথায় ফেলবো বুঝে পাই না। তারপর কি ভেবে ফেলে দেই সেটা কবরের ভেতর। এরপর নিচু হয়ে এক গাদা মাটি মুঠো করে ছড়িয়ে দিতে থাকি সেটার উপরে।

বৃষ্টি গুমোট বেঁধে থাকে আকাশে, মেঘ ডেকে ওঠে। আমার হাত থেকে মুঠো মুঠো মাটি বৃষ্টির মত ঝরে পড়তে থাকে, সেখানে - একটা সিগারেটের সাথে আমার বাবা ক্রমশ চাপা পড়তে থাকেন।


(শেষ)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:২৯
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×