somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ নিয়ে হতাশা কেন?

১৩ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালি আড্ডাগুলো আমার খুবই অপছন্দের। প্রায় একই ধরণের ঘ্যান ঘ্যানে ও ঘিন ঘিনে আলাপের চল সেখানে। শুরুতে দুয়েকটা আড্ডায় আগ্রহ ভরে গিয়েছিলাম, এবং তখনকার অভিজ্ঞতা থেকে মনে মনে কান ধরেছি, বাপু হে, আর নয়। এইবার ক্ষ্যান্ত দাও।

আড্ডাগুলোর যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে অপছন্দ, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এলেই দেখা যায় সবাই চরম হতাশাবাদী হয়ে উঠেছে। নাক কুচকে ভুরু বাঁকিয়ে কাঁধ নাড়িয়ে সবাই উদাস গলায় বলে, নাহ, এই দেশ দিয়ে কিছু হবে না।
আমি তখন গলা নরম করে জিজ্ঞেস করি, কেন হবে না বলুনতো, কি মনে হয় আপনার? কোথায় সমস্যা?
এরকম সরাসরি জিজ্ঞাসায় বক্তা সাধারণত একটু বিহবল হয়ে যান। এদিক ওদিক তাকিয়ে দুয়েকজন সমর্থক খোঁজার চেষ্টা করেন। কারণ সম্ভবত আর কোন আড্ডায় এরকম হতাশ দীর্ঘশ্বাসের পরে তাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নি। অন্য যারা দীর্ঘশ্বাস রেডি করেছিলেন, তারা সম্ভবত আমার আক্রমণাত্মক ভাবভঙ্গি দেখে সেগুলো আর বেরুতে দেন না, আটকে ফেলেন। আর মূল বক্তা তখন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে ওঠেন, না, এই যে দেখেন, চারিদিকে সন্ত্রাস, দূর্নীতি জীবনের নিরাপত্তা নেই, এরকম হলে একটা দেশ কেমন করে উঠবে বলেন? দেখেন আমাদের পাশের দেশ সিঙাপুর, মালয়েশিয়া ওরা কত উন্নতি করে ফেললো তর তর করে...।

অন্য কোন দেশের সাথে তুলনা চলে এলেই আমার রাগ হয় খুব। সিঙাপুর বা মালয়েশিয়ার ইতিহাসের সাথে আমাদের মিল নেই। বাঙালি জাতিই একটা মিশ্র জাতি। যুগে যুগে নানাদেশের নানান রকম মানুষ সম্পদের লোভে এইখানে এসে বসতি গড়েছিলো, তখন থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের রক্তে মিশ্রণ শুরু হয়ে গেছে। আজ এতদিন বাদে যদি তাকাই তো দেখি বাঙালি কারো সাথে কারো চেহারায় মিল নেই। একেকজনের চেহারার গঠন বা বৈশিষ্ঠ একেকরকম। এবং আমি নিশ্চিত যে বাইরের চেহারার সাথে সাথে তাদের মনের গঠনেও রয়েছে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র! ঠিক এরকম একটা মিশ্র ইতিহাস সাথে করে নিয়ে একটা জাতিকে "এক'' হয়ে উঠতেই বিস্তর সময়ের প্রয়োজন। আমরা কি আদৌ সেই সময়টা পেয়েছি? আমার মনে হয় না।

খুব সামপ্রতিক সময়ের মধ্যে অবশ্য নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইস্যুতে আমরা একসাথে গর্জে উঠেছি ঠিক। 52, 69, 71 বা 90- এ সবই সেসবের একেকটা বহি:প্রকাশ। এবং আমি মনে করি, ভেতর ও বাইরের এরকম বিভিন্নতা ভুলে কিছু সময়ের জন্যে এক হয়ে যাবার যে প্রবণতা- তার সুফলও আমরা হাতে নাতেই পেয়েছি- নিজেদের ভূখন্ডের স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা, পেয়েছি নিজেদের ভাষার অধিকার। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে না যে আমাদের "হবে''- বাংলাদেশের কিছুই হবে না নয়, বাংলাদেশের অনেক কিছুই হবে?

সঠিক নেতৃত্ব না আসার দূর্ভাগ্যও আমাদের উন্নতিতে দেরি হবার ( উন্নতি না হবার- কথাটা ভুল বলে মনে করি আমি ) পেছনের একটা বড় কারণ। আমাদের স্বভাবের মাঝেই অসততা বা দূর্ন ীতি ঢুকে বসে আছে- এরকম কোন ধারণাও ভুল। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান সারা দেশের মানুষের সমর্থন পেয়েছে। দূর্ন ীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদের ঢালাও গ্রেফতারেও সাধারণ মানুষ খুশি। যে কোন ভালো উদ্যোগেই দেশের মানুষ নিজের সবটুকু শ্রম দেয়। অমিত নামের ছোট্ট ছেলেটির জন্যে সারা দেশের মানুষের নি:স্বার্থ ভালোবাসার কথা আমরা ভুলে যাই নি। ব্লগের এ ছোট্ট পরিসরেও যখন প্রাপ্তির কথা উঠলো, প্রায় সবাই তার সাধ্যমতোন চেষ্টা করেছে। প্রথম আলোর মঙ্গাপীড়িতদের জন্যে অথবা এসিডদগ্ধদের জন্যে যে তহবিল সেখানে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এবং দেখা যাচ্ছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই সেখানে বড় অংকের টাকা জমা দিচ্ছেন। যার মানে হলো, তাদের অনেকেই মন থেকে সেবা করার উদ্দেশ্যেই দান করছেন।
এসবই আমাদের মনের ভেতরকার ভালোত্বের প্রকাশ। যত দিন যাবে, ছোট ছোট ভালো গুণ মিলিয়ে আমরা আমাদের হৃদয়টাকে অনেক বড় করে তুলবো অবশ্যই, আমাদের বাঙালি হৃদয়ও তখন পরিচিত হবে সৎ ও দূর্ন ীতি বিরোধি হিসেবে।

কিছু সৎ নেতৃত্ব দরকার আমাদের, কিছু শক্ত আইন দরকার, সেই আইন রক্ষার জন্যে দরকার কিছু নিষ্ঠাবান প্রশাসক। এবং আমার ধারণা, এই চাওয়াগুলো আকাশকুসুম কোন কল্পনা নয়। এসবই সম্ভব। পঁয়ত্রিশ বছর গিয়েছে, জানি এটা অনেক সময়, আমরা হয়তো একটু লেট লতিফই হলাম। পঁয়ত্রিশে পারি নি, সত্তরে হোক!

আমি বরং খুব নিকট ভবিষ্যতে খুব সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখতে পাই। আমাদের বয়েসী যারা আছে, আমাদের সমমনা বন্ধুরা, আমি তাদের অনেকের মাঝেই দেশের জন্যে অপরিসীম ভালোবাসা দেখেছি। সৎ জীবন যাপনের অঙ্গীকার দেখেছি। আমি জানি, এরকম মানুষের সংখ্যা হয়তো এখনো অনেক কম, কিন্তু সেটা একসময় বাড়বে নিশ্চয়। আমাদের এ আশাবাদী চিন্তাগুলো যদি আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি সবার মধ্যে, যারা হতাশায় কেবলই মাথা নাড়েন, তাদের মাথাটাকে শক্ত করে চেপে ধরে যদি বলি, দেখুন, বাংলাদেশের উন্নতি হবে, খুব তাড়াতাড়িই হবে যদি আপনি মাথা নাড়ানো থামিয়ে দেশের জন্যে একটা ভালো কিছু করার সংকল্প করেন, তবেই সেটা সম্ভব।

হতাশাবাদীদের মুখে ঝাঁটার বাড়ি, আমি ভাই সারাজীবনই আমার দেশ নিয়ে আশাবাদীদের দলে। আপনি?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:১৯
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×