ভাব ও লালসা - এদুটোর ব্লেন্ডেড জুস হচ্ছে ভালবাসা। পিয়াসকে ব্যাখ্যা দিলেন কার্তিকদা। সারাদিন কাজ হচ্ছে তার বেইলী রোডে শাড়ীর দোকানের পাশে, ফুটপথে আড্ডা দেয়া। অনেক তার সহচর। একজন নারীচরও আছে। প্যান্ট শার্ট পরে - ধুমসে সিগারেট টানে। এই আড্ডার সবার সাথে তার সহবাস হয়ে গেছে। ওপেন সিক্রেট। কিন্তু এখন কেউ সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। কারণ এর চেয়ে ভয়াবহ সংবাদ হচ্ছে - বহুগামী কাার্তিকদার একটা খাঁিট প্রেম হয়েছে। তার কথা শুনে সেরকমই মনে হলো।
পিয়াস ও বাবু সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ের পাশের গলির জিমনেসিয়ামে ঢোকে। ঘন্টা খানেক আয়রন মেরে টাংগাইলের শাড়ির দোকানের সামনে চারটা করে ডিম ও চারটে করে কলা খায়। মাঝে মাঝে মনে হয় আরো ক্যালরী দরকার। একদিন কার্তিক ওদের দেখে টিপ্পনি কাটে - সালারা কোন মাগীরে লাগাইয়া আইছে! পিয়াসের রক্ত চড়ে। বাবু সাপটে ধরে। ছার না! সেই থেকে প্রতিদিনি রাত্রে ওদের দেখিয়ে আরো দুটো ডিম বেশী খায়। কার্তিক গংরাও ভীষণ মজা পায়। মার্জি - ওদের মেয়ে বন্ধুটাও খ্যাক খ্যাক করে হাসে। প্রথম প্রথম মেয়ে বলে ভ্রম হতো। পরে যখন টিশার্টের উপর দিয়ে চেতিয়ে থাকা নারীর পরিচয় দেখলো - সেথেকে তো আরো মেজাজ চরে থাকে। যে পরিমাণ ক্যালরি খসেছে তা ডিম ও কলাতে পরিপূরণ করে আবার জিম ছাড়া অন্য কোন ওয়েআউট থাকে না।
এমন একটা সময়ে লিমন পরিচয় করিয়ে দেয় কার্তিকদার সাথে; তার পূর্ব পরিচিত পাড়াত দাদা। কার্তিকদা জিভ কেঁটে বলেন- ছি ছি তোমার বন্ধু! আর আমরা এতদিন ওদের অনেক জ্বালিয়েছি! বুকে জরিয়ে যদিও নিলেন কিন্তু পিয়াসের মেজাজ শান্ত হয় না। মনে মনে বলে সালা - একবার সুযোগ পেলে তোমার পেনিস আমি নামিয়ে ফেলবো! কার্তিকদা কিন্তু বেজায় খুশী। মোসাম্বীর জুস খাওয়ায়। বলে অনেক পেইন করে এসেছো, খাওয়া-দাওয়া দেখে বুঝলাম। লিমন বলে ওরা তো জিম করে তাই হেভি ডায়েট লাগে। কার্তিকদা হো হো করে হেসে ওঠে - বলে - ও! তাই বলো! আমরা তো ভাবি অন্যকিছু! মার্জিও হাসে। এখন তাকে আর নারীর মত মনে হয় না। অন্য ছেলে বন্ধু পিন্টুর ঘাড়ে হাত রেখে কথা বলে। হাত মেলায়।
সেই থেকে পিয়াস ও বাবু এ আড্ডার অন্যতম সদস্য। কার্তিকদার অভিনব আয়োজনের হিড়িকে জিমের সময় কমতে থাকে। একসময় দু'জনই আড্ডার জন্য জিম ছেড়ে দেয়। ছফিট পিন্টুর একটা দাত নেই - কিন্তু বেইলী রোডে থেকে কিভাবে যে এখনও আড্ডা মারে সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। একে এ জা'গায় দেখে অনেকেই বলে - দ্যাখ দ্যাখ সু্িটং ! মার্জি, বাবু, পিয়াস পাট লয়। মার্জিকে নিয়ে রোমান্টিক দৃশ্য বানায়। পথচারীরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। একদিন কার্তিকদা পিয়াসকে বলে - মার্জিকে তোরা আজ নিয়া যা! তার দিকে তাকিয়ে চোখ টেপে। মার্জি মাথা ঝাকায়। তার পরে বলে - আমার একটা খাঁিট প্রেম হইয়া গ্যাছে!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




