রক্ষে করো মা! বাবু বলে, আমার এখনও ভার্জিনিট অক্ষত। তোমার হাতে তার মৃতু্য চাই না। মার্জি চ্যাচায়, আজিব কিসিম! তোর সাথে আমি ঘুমাইতে যামু নি! আমার মা হলি ফ্যামিলিতে। তার শেষ অবস্থা। আমার সেখানে একা থাকতে হয়। তোরা আজকে আমার সাথে থাকবি। কনেভেনশনাল কাস্টের বাবু - লজ্জায় জরো সরো। যদিও শরীর তাতায় - তবুও সিঁদেল চুরিতে সে অপরাগ; তাই ভেবেছিল কার্তিকদা তাদের তেমন ইংগিত করেছেন। কিন্তু সে যে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য মাথায় ঢোকেনি। কার্তিক বোধহয় ভেবেছিল - ওরাতো জানবেই মার্জির মা যে মর মর। এক বাক্যে রাজী হয়ে যায় হাসপাতালে থাকতে।
দু্ই বন্ধু একটা ফ্লাট নিয়ে থাকে। ইস্কাটন গার্ডেনের নৌবাহিনী প্রধানের বাসার পেছনে। মার্জি বলে, কার্তিকদা জানিয়েছিলেন - তোদের বাসা এইখানে। তাই একটু সুবিধা নেয়ার জন্য তোদের সাথে এলাম। পিয়াস ঢোক গেলে। বলে অবস্থা কেমন? মার্জি ফট করে সিগারেট ধরায়। হলি ফ্যামিলির গেটের সামনে দাড়িয়ে ধুয়োর কুন্ডলী ছেড়ে বলে, আজকে মনে হয় পরপারে রওয়ান দেবে! এমন নির্লিপ্ত ভংগি মৃতু্য পথযাত্রীর মায়ের ব্যাপারে দেখে, পিয়াস ও বাবু হতাশ হয়। ফোন বাজে। কার্তিকের ফোন। বলেন বস। কার্তিক বলে, মার্জিরে একটু দেইখা শুইনা রাখিস। তোরা তো কিছু জানিস না। অর মা ছাড়া আর কেউ নাই। দু'জন আরো ধান্দার মধ্যে পরে। জীবন, মৃতু্য, কস্ট পাশ কাটিয়ে চলতে চাইলেও চোখের সামনে এসে দাড়ায়। একটা মৃতু্য দেখতে হবে! এত নিশ্চিত হয় কিভাবে মার্জি!
তোর মার কি হয়েছে? শরীরের যাবতীয় অর্গান ফেইল করেছে দুপুরেই। এখনও ক্লিনিকালি বেঁচে আছে। তবে সব সাহায্যকারী যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলবে রাত্রেই।
কাউকে খবর দিয়েছিস?
দিয়েছিতো। গোরস্থানেই জানাজা হবে। হাসপাতালের লোকজনই ঠিক করে দিয়েছে। সাত আটা হাজার টাকা খরচ হবে।
না - সেকথা না। আত্মীয় স্বজন?
ফাজলামি রাখ তো! আত্মীয় স্বজন থাকলে তো খবর দেব!
বিমর্ষ হয়ে পরে বাবু। জৈবিকতার উন্মেষে রক্ষণশীল ঢাকঢোল পেটানো শিক্ষা এখানে মেলে না। কিভাবে হয়, কেউ না থাকে কিভাবে! দোতালার সিড়ি বেয়ে উঠতেই ডাক্তারের সাথে দেখা। জানিয়ে দেয় ু আপনার মাকে আমরা ফ্রি করে দিয়েছি। লোকজনকে বলেন - ডিসপোসাল করতে। স্ট্যাচুর মত দাড়িয়ে থাকে - কপট বন্ধু দু'জন। লোকজন আসে। এ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে চলে মিরপুর। জানাজায় পাঁচজন। পিয়াস ও সনাতনী বাবু, ইমাম সাহেব আর কবর খুরতে আসা দুইজন লেবার। ড্রাইভার আর হাসপাতালের এক বয় অজু নেই বলে অংশ নেয় না। শার্ট - প্যান্ট পড়া বলে হুজুর আটকিয়ে দেয় মার্জিকে। কবরস্থানে যাওয়া যাবে না। মার্জি যে এই কবরযাত্রীর মেয়ে তা জানানো হয়নি তাকে।
সুনসান রাত্রি। দুইটা বেজে গেছে। মার্জি দূরের চায়ের দোকানে বসে সিগারেট টানে। আধাভৌতিক রাত্রির সাথে গহীন একটা একাকীত্ব ভর করে আছে তার চেহাড়ায়। পিয়াস ও বাবু বেড়িয়ে আসে। কবর খোরা লেবার, হুজুর আর এম্বুলেন্সের লেনদেন শেষ করে মার্জি বলে চল তোদের ফ্লাটে। আজকে সারারাত মদ খাবো। দু'জন ছেলের সাথে একজন রমণী রিঙ্া জার্নি যেমন কাতুকতাময় হয়, তেমন লাগছে না। মার্জি হেড়ে গলায় গাইছ্ মে;াথামুন্ডুহীন গান
একটা কুকুরের বাচ্চা আজ আমাকে কষ্ট দিয়েছে
ভীষণ কস্ট - আমার হৃদয়টা দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে
আমি এখন কিছু করতে পারছি না
আমার নিশ্বাস নিতে কস্ট হচ্ছে
আমি কুকুরের বাচ্চাটাকে একটা শিক্ষা দিতে চাই!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




