আড়াই বছর বিয়ের বয়স। আমার লাইফ পার্টনার বিয়ের পর থেকেই চাকুরীর জন্য আকুঁপাকু করছিল। পছন্দের সেক্টর এডুকেশন। কলেজে বাংলা পড়ানো। কিন্তু এমএ কমপ্লিট না হওয়াতে ওয়েট করতে হলো এতদিন। যে দিন এমএ'র রেজাল্ট বেড়ুলো সেদিন থেকে স্কুল, কলেজে সিভি ড্রপ করতে শুরু করেছে - একাই দৌড়ে দৌড়ে। মাস ঘুরতে চারটে চাকুরী। শেষটাতে এইচএসসির বাংলা পড়াতে হবে জেনে সে সেটাই বেছে নিল। দিনে দুটো ক্লাস।
জয়েনিং এর আগের দিন রাতে আমি জিজ্ঞেস করলাম - চাকুরীতে জয়েন করার আগে কার সাথে কথা বলতে চাইবে! সে বললো - অবশ্যই বাবার সাথে। তার বাবাও বাংলার শিক্ষক। মেয়েকে চাইতেন যেন তার মত শিক্ষক হয়। আজ সে আশা পূর্ণ হতে যাচ্ছে; কাজেই ফোনটা তাকেই তো করতে হবে। সে বললো - বুঝতে পেরেছি তুমি এটা হয়তো আশা করো নি! কিন্তু কি করবো বলো - বাবা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছেন - কাজেই প্রথম ফোন তাকেই! অবশ্য আমি কিঞ্চিত বিষন্ন হয়েছিলাম ঠিকই তবে তা হেসেই উড়িয়ে দিলাম। বললাম অবশ্যই তোমার বাবাকে প্রথম ফোনটা করবে।
পরেরদিন পোনে বারোটা। নতুন ক্লাস শুর হবার আগে সে আমাকে ফোন করল। জানাল বাবাকে ফোন করতে গিয়েও পারলাম না। তোমাকেই করতে হলো। বাবাকে পরাজিত করার একটা আনন্দ বোধ হলো। ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। আমি গতকাল থেকেই জানতাম, সে পারবে না; আমিও পারি নি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




