বিদু্যত বন্ধ হয়ে গেল দোকানে 7 টায়।
ঝাপ পড়তে পড়তে সেধিয়ে ভিতরে ঢুকে গিয়ে মোমের আলোতে উদ্ধার করলাম মিনিকে।
হোম এপারেলসের শোরুমে অনেকদিন যাবৎ পড়ে আছে টিভিটা। সারানো ঝামেলার মনে হওয়াতে একটা নতুন টিভি কিনে ফেলেছি। পুরাতনটাকে বিক্রি করার জন্য দর দেখতে এসেছি।
মিনি মোমের আলোতে রিসিট দেখে নিয়ে হ্যান্ডব্যাগে ঢুকালো। পেছন ফিরতেই ভুত দেখার মত চমকে উঠলো, তুমি!
তিনবছর পরে কথা। মাঝখানে দুইবার দেখা হয়েছে। ভুল বললাম একবার ফোনে কথা ও একবার দেখা। ফোনে তার ভাইকে খোঁজ করতে গিয়ে কেমন আছেন, ভাল আছি, সেজান ফিরলে আমি ফোন করেছিলাম টাইপের কথা। দ্্বিতীয়বার তার সেই ভাইয়ের বিয়েতে। সাথে আমার বউ। ভুলেও মিনির চোখে চোখ ফেলিনি। চোরা চোখে দেখেছি। নিশ্চিত সেও দেখেছে। না দেখেও কারো দৃষ্টি যেভাবে দেখা যায় তেমন দৃষ্টিতে।
এবার আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। তার সাথে হাজবেন্ড নেই। দোকান মালিক সোহেল আমার পরিচিত। সে বলে কৌশিক ভাই, 1 হাজারের বেশী দিতে চাচ্ছে না মেকানিক, জানেনই তো আমরা এসব কিনিনা, অনেক সময় মেকানিকরা কিনে নিয়ে যায়। সে বললো, পিকচারটিউবেও নাকি সমস্যা আর মাদারবোর্ডও তো গ্যাছেই!
আমার কাছে টিভির মূল্য আগেই শেষ হয়ে গেছে। 14 হাজার টাকায় তিন বছরে আমার স্ত্রী যত সনি আর স্টারপ্লাসের সিরিয়ালগুলোর মূল্যবান গহনা, ড্রেস দেখেছে তাতে টিভিটা অনেক বেশী তাকে তৃপ্ত করেছে বলেই মনে হয়। সে তৃপ্তি 14 হাজার টাকার তুলনায় নস্যি।
মিনিকে কিছু বলার আগে আমি তার স্ফীত হয়ে ওঠা পেট দেখি। প্রেগনেন্ট। আমার ঘরেও প্রেগনেনসির চেষ্টা চলছে। মিনি আর আমি মুখোমুখি দাড়িয়ে থাকি। সোহেল একবার আমাকে দেখে, একবার মিনিকে দেখে! আমি টের পাচ্ছি মিনির চেহারা লাল হয়ে গেছে। গলার স্বর কাঁপছে, চোখ ঘুরছে অস্বস্তিতে এদিক সেদিক। বারবার হ্যান্ডব্যাকের চেইনটা টানাটানি করছে।
আমি মাথার মধ্যে একটা শূণ্যতা বোধ করছি। সোহেলের সাথে টিভির বিষয়ে কথা বলতে ভাল লাগছে না। তাকে বলি, ভাই, কালকে এসে টিভির বিষয়টা ফয়সালা করবোনে! সোহেল ভাই বলে তথাস্তু।
আমি মিনির দিকে তাকাই গাঢ় চোখে। মিনির চোখ আমার দিকে। হাঁটতে ভুলে যাই। সোহেল ভাই তাড়া দেয়, দোকান বন্ধ করতে হবে।
আমি অর্ধনমিত ঝাপের দিকে এগুতে থাকি। মিনি পাশে। ফুটপথে এসে দুজনে দাড়াই। মিনির কালো নোয়া গাড়িটা সামনে পার্ক করা। সামনাসামনি দাড়িয়ে থাকি। কি বলবো বুঝতে পারছি না। কিছু বলতেও ইচ্ছে করছে না। মিনি কেমন যেন অস্থির, মনে হচ্ছে তার মাথাটাও ফাকা হয়ে গেছে। আমি স্বগতভাবে বলি, কিছু মাথায় আসছে না!
মিনির অস্ফুট উচ্চারণ, আমারও!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




