somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেটানো ভার্সেস বেঢপ - 1

২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনিরুল আহসান ভেবে পান না কাজের ছেলে সালামের এত চমৎকার ফিট শরীর থাকে কিভাবে। ছোটলোকের বাচ্চা তো তাদের তিনজনের সমান খায় তারপরেও তার পেটানো ফিগার কেমনে হয়। আর ওদিকে নিজে সকালে দুইটা রুটি, দুপুরে হালকা খাবার আর রাত্রে পার্টিফার্টিতে সব সুষম ক্যালরীসমৃদ্ধ খাবার মেপেসেপে খেয়েও এখন বেঢপ একটা ভুরি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যার জন্য ইদানীং টিভিতে নিজেকে দেখে নিজের কাছেই কুৎসিত লাগে। মালটি ন্যশনাল একটা কোম্পানীর মার্কেটিং এর প্রধান হওয়াতে, টকশো, কালচারাল শো, ব্রান্ড উন্মোচন, ক্রিকেট মাঠ কোথায় নেই তার বিচরণ! কেরিয়ার শো পরিচালনা করে এমন একটা মেয়ে এসে যখন তাকে একটু মেকাপ নিতে বলেছিলেন সেইদিন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এপিলিং আউটলুক রাখাটা এখন কত জরুরী হয়ে পড়েছে। তারপরে নিজের চেহারা দেশজুরে মানুষ চিনছে যখন তখন একজন সুদর্শন পুরুষ হিসাবেই না হয় তার পরিচিতি বাড়ুক!

আজকে সে সালামের কাছে দীক্ষা নেবে, তার এই পেটানো শরীরের গুঢ়রহস্যখানি কি! সালামের কাজের মধ্যে তো আছে কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা, এজন্য তো মপ আছে, বুয়াদের মত বালতিতে পানি নিয়ে ঘর মুছতে হয় না। রান্না করা, বাজার করা আর কাপড় চোপড় আয়রন করা। প্রতু্যষে একবার মাত্র বাজারে যেতে হয়। তাও তো বাসার সামনের রাস্তাটা গিয়ে পড়েছে গুলশান দুইয়ের ডিসিসি মার্কেটের সামনে। 5 মিনিটের পথ। রাস্তা পার হলেই কাচাবাজার। বাজারের ব্যাগগুলো টেনে রাস্তা পার হয়েই আবার ফিরতি রিকশা নিতে পারে। তেমন হাঁটতেও হয় না। আর তিনি! প্রতিদিন কমপক্ষ হলেও 60 কিলোমিটার জার্নি করেন ঢাকার মধ্যেই। অফিসে বসে পৃথিবী ঘুরে আসেন ফোনে ফোনে। হংকং এ কয়েকটা প্রোডাক্ট বাংলাদেশের মার্কেটে ছাড়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সাথে সাথে সাপ্তাহিক মার্কেটিং স্টাটাসটা ভিডিও কনফারেনসে জানিয়ে দিচ্ছেন নিউইয়র্কে। চায়নার সাথে জয়েন্ট ভেনচারে একটা প্রোডাক্টের কথা বলে শেষ হতে না হতেই ইন্ডিয়ার কয়েকটা রাজ্যের সাথে যৌথ অংশীদারীভিত্তিতে ইন্ডিয়ান অংশের সাথে চুক্তি। সাউথ এশিয়া হেডকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করে র্যাডিশনে ছেড়ে দিয়ে একটা টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার, কত দৌড়, কত পরিশ্রম! ঘেমে নেয়ে অস্থির অবস্থা। কাজেই মেকাপটাও লাগে বেশী।

আহসান সাহেবের খাবার কথা মনেই পড়ে না। আবার কখন কি খান তার কথাও তার মনে থাকে না। খেয়েই ভুলে যান অথবা না খেয়েও মনে করেন খেয়ে আছেন। আর খানই বা কি! 6 ইঞ্চির একটা পিজা অথবা ছোট্ট একটা আইসক্রীম। তবে ঘনদুধের কফিটা তার সাথে থাকে সর্বত্রই, কি অফিস কি গাড়ী। এই একটা কাজে সালামকে তার ভীষন ভাল লাগে, দুধটা যেভাবে ঘন করে দেয় এটা একদম সালাম স্পেশাল, রীতিমত ট্যালেন্টেড!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:৫৪
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×