মনিরুল আহসান ভেবে পান না কাজের ছেলে সালামের এত চমৎকার ফিট শরীর থাকে কিভাবে। ছোটলোকের বাচ্চা তো তাদের তিনজনের সমান খায় তারপরেও তার পেটানো ফিগার কেমনে হয়। আর ওদিকে নিজে সকালে দুইটা রুটি, দুপুরে হালকা খাবার আর রাত্রে পার্টিফার্টিতে সব সুষম ক্যালরীসমৃদ্ধ খাবার মেপেসেপে খেয়েও এখন বেঢপ একটা ভুরি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যার জন্য ইদানীং টিভিতে নিজেকে দেখে নিজের কাছেই কুৎসিত লাগে। মালটি ন্যশনাল একটা কোম্পানীর মার্কেটিং এর প্রধান হওয়াতে, টকশো, কালচারাল শো, ব্রান্ড উন্মোচন, ক্রিকেট মাঠ কোথায় নেই তার বিচরণ! কেরিয়ার শো পরিচালনা করে এমন একটা মেয়ে এসে যখন তাকে একটু মেকাপ নিতে বলেছিলেন সেইদিন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এপিলিং আউটলুক রাখাটা এখন কত জরুরী হয়ে পড়েছে। তারপরে নিজের চেহারা দেশজুরে মানুষ চিনছে যখন তখন একজন সুদর্শন পুরুষ হিসাবেই না হয় তার পরিচিতি বাড়ুক!
আজকে সে সালামের কাছে দীক্ষা নেবে, তার এই পেটানো শরীরের গুঢ়রহস্যখানি কি! সালামের কাজের মধ্যে তো আছে কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা, এজন্য তো মপ আছে, বুয়াদের মত বালতিতে পানি নিয়ে ঘর মুছতে হয় না। রান্না করা, বাজার করা আর কাপড় চোপড় আয়রন করা। প্রতু্যষে একবার মাত্র বাজারে যেতে হয়। তাও তো বাসার সামনের রাস্তাটা গিয়ে পড়েছে গুলশান দুইয়ের ডিসিসি মার্কেটের সামনে। 5 মিনিটের পথ। রাস্তা পার হলেই কাচাবাজার। বাজারের ব্যাগগুলো টেনে রাস্তা পার হয়েই আবার ফিরতি রিকশা নিতে পারে। তেমন হাঁটতেও হয় না। আর তিনি! প্রতিদিন কমপক্ষ হলেও 60 কিলোমিটার জার্নি করেন ঢাকার মধ্যেই। অফিসে বসে পৃথিবী ঘুরে আসেন ফোনে ফোনে। হংকং এ কয়েকটা প্রোডাক্ট বাংলাদেশের মার্কেটে ছাড়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সাথে সাথে সাপ্তাহিক মার্কেটিং স্টাটাসটা ভিডিও কনফারেনসে জানিয়ে দিচ্ছেন নিউইয়র্কে। চায়নার সাথে জয়েন্ট ভেনচারে একটা প্রোডাক্টের কথা বলে শেষ হতে না হতেই ইন্ডিয়ার কয়েকটা রাজ্যের সাথে যৌথ অংশীদারীভিত্তিতে ইন্ডিয়ান অংশের সাথে চুক্তি। সাউথ এশিয়া হেডকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করে র্যাডিশনে ছেড়ে দিয়ে একটা টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার, কত দৌড়, কত পরিশ্রম! ঘেমে নেয়ে অস্থির অবস্থা। কাজেই মেকাপটাও লাগে বেশী।
আহসান সাহেবের খাবার কথা মনেই পড়ে না। আবার কখন কি খান তার কথাও তার মনে থাকে না। খেয়েই ভুলে যান অথবা না খেয়েও মনে করেন খেয়ে আছেন। আর খানই বা কি! 6 ইঞ্চির একটা পিজা অথবা ছোট্ট একটা আইসক্রীম। তবে ঘনদুধের কফিটা তার সাথে থাকে সর্বত্রই, কি অফিস কি গাড়ী। এই একটা কাজে সালামকে তার ভীষন ভাল লাগে, দুধটা যেভাবে ঘন করে দেয় এটা একদম সালাম স্পেশাল, রীতিমত ট্যালেন্টেড!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



