ছয়তলার ছাদে উঠলে সাত তলায় ওঠা হয়। একপাশে দুইরুমের ফ্লাট আর বাকীটা খোলা ছাদ। সুশানের বাসা সেই ফ্লাটটিতে। বাকীবিল্লাহ, সাখাওয়াৎ, সুমন, সুশান, মিনারের বন্ধু নিয়াজের বিয়ে নাসরিনের সাথে। সেখানে বাকী আমাকে যেতে বলেছে। আমি ছাদে উঠে পাংখা, পূব আকাশে রাত্রি নটায় তখন পূর্নিমার দূর্দান্ত চাঁদ, বনবাতাসীর চাঁদমুখো যেন, সেই সাথে উত্তাল হাওয়া, যেন বনবাতাসীর পরশ! ছুয়ে দিলেই শরীর কেঁেপ ওঠে, মনে হয় ছাদ থেকে লাফিয়ে মাটিতে নামি আর পুরো অবতরণকাল হবে অনন্ত, হাওয়ায় ভেসে ভেসে! ফোন করলাম বনবাতাসীকে, তার কানে বাতাস পৌছে যায়, বলে এত বাতাসে দাড়িয়ে তুমি! আমি তাকে ধরে দাড়াই ছাদের রেলিঙে, মনে হয় চাঁদের সাথে কনফারেনস হয় আমার ও বনবাতাসীর!
দুই পরিবারের অসম্মতির বিয়ে। ঘরকর্তা সুশানের 4 মাসের বাচ্চা নিয়ে তার স্ত্রী জুইয়ের সঙ্গীন অবস্থা। আয়োজনে হাত লাগায় বন্ধুরা। বর কনের প্রথম রাত্রি। দুধভাত খাওয়াতে হবে। তারপরে রাতের খাবার। দুপুরে বাকী হয়েছিল মেয়ের উকিল বাপ, কোর্টের পার্মিশন নিয়ে বিয়ে হয়েছে কাজী অফিসে। কনে শাড়ী পড়ে বসে আছে, আর বরকে চেপে পড়ানো হলো পাঞ্জাবী। সামনে এলো দুধ ভাত। একজন খাইয়ে দেবে অন্যজনকে। কি যেন হঠাৎ দেখলাম আমি, দুটো মানুষের গাঁটবাধার আনন্দে বিভর দুজোড়া চোখ। কোন আয়োজনের অতিরিক্ততা নেই, নিখাঁদ ভালোবাসার সংবদ্ধতা, আমি মুগ্ধ চোখে দেখি দুটি মানব-মানবীর দুধ ভাত যাত্রা!
আনুষ্ঠানিকতার একটা অংশ ছিল দুজনকে খুরমা খাওয়ানো। তারপরে সুশানের দরাজ গলায় শ্যামল মিত্রের কালজয়ী গান। আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে, সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে! গান শুনে আমি তন্ময়, চমৎকার সুশানের গলা, চমৎকার তার গায়কী। লাইট বন্ধ করে চাঁদের আলোতে যখন সুশান গাইছিল তখন একদিকের জানালা দিয়ে বোটাটিক্যাল গার্ডেনের বৃক্ষরাজি থেকে হালকা ঠান্ডা বাতাস এসে ছুয়ে যাচ্ছিল আমাদের সবাইকে - আমি যেন বাতাস দেখছিলাম, অন্য পাশের জানালা দিয়ে যৌবনবতী চাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম তেপান্তরের ওপাড়ের রাজকন্যাকে - বনবাতাসী সেখানে বুদ হয়ে আছে ময়ুরপঙ্খীর জন্য!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


