ব্লগের অনেক নাটক ইচ্ছা করে ঘটানো। অপ্রত্যাশিতভাবে ভাল কোন গল্প পেয়ে যাওয়া, একেবারে ভিন্ন রকমের কিছু, সেটা দেখা উদ্দেশ্য ছিল। যারা প্রচলিত সব কিছু একই রকম ধরে রাখতে চান সেই ধারার সমাজসচেতনরা এটাকে বিকৃতমনস্কতা ভেবে নাক সিঁটকেছেন, যারা গন্ডী পেড়ুতে চান তারা ওয়েলকাম করেছেন, যারা অপনেন্ট বা অপছন্দের মানুষকে ধরাসায়ী হতে দেখতে আনন্দ পান তারা উল্লসিত হয়েছেন। পিয়াল, শরৎ ও আমি একদিন এরামে বসে মদ খাচ্ছি। তিনজন মাতাল হয়ে যখন আবোল তাবোল বকছি সে সময়ে জন্ম হলো ত্রিশঙ্কুর। তিনজন মিলে একটা গল্প টেনে নিয়ে যাব যেখানে অনেক রিয়েল লাইফ ড্রামার সাথে ফ্যান্টাসী থাকবে। তখন মাল খেতে খেতে মনে হয়েছিল আমরা অনেক প্রতিভাবান, শুধু আনন্দ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যায় তেমন কোন মজার এলিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না লেখার বিষয় হিসাবে। আমি দেখেছি লেখক তার গল্পের একটা অংশ হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত লেখা এগুতে পারে না। যখন সে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায় তখন সেটা আর শেষ না করে উঠতে পারে না। অনেক লেখককে দেখেছি নিজের সৃষ্ট চরিত্রের দুরাবস্থায় নিজের চোখের জল বিসর্জন দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে কেঁদেছেন।
ত্রিশঙ্কু নিয়ে পোস্টানোর পরে যা হলো সেটা হচ্ছে কারো কারো সাথে মিলে গেল চরিত্র চিত্রণ। লেখায় যে বৈচিত্র এসেছিল তাকে সাধুবাদ জানানোর চেয়ে বড় হয়ে গেল কারো চরিত্রে কালিমা লেগে গেল কিনা সেটা যাচাই। সবচেয়ে আহত হয়েছিলাম আমরা তিনজনই রাসেলের একটা পোস্টে। সম্ভবত সে না বুঝেই আমাদের তিনজনকে ধুয়ে একটা পোস্ট দিল - যেখানে আমরা চিন্থিত হলাম চরমতম অসাধু, বিকৃত ও নিকৃষ্টজন হিসাবে। ভুলে গেল এটা একটা গল্প তৈরীর প্রয়াস ছিল! রাসেলের সাথে এর আগে কখনও এমন কোন ঝগড়াঝাটি হয়নি যে হঠাৎ করে ক্ষেপে যাবে তবে তার সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরী হওয়াতে সে সম্ভবত তখন আমাদের ভিউটা ধরতে পারেনি।
আমার এখনও কষ্ট লাগে ত্রিশঙ্কু নিয়ে আমাদের তিনজনের উচ্ছাস এভাবে মাঠে মারা যাওয়ায়। বুঝি না মানুষ কেন সৃষ্টির আনন্দের চেয়ে নিজের প্রায় মৃত শরীরটাকে টিপে টিপে গর্তে ভরে রাখতে ভালবাসে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




