ব্লগের সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ফ্লাডিং। টার্মটা কিভাবে উদ্ভব হলো ঠিক বলতে পারছি না, তবে একজন ব্লগার যদি পরপর বেশ কয়েকটা পোস্ট উদ্দেশ্যমূলকভাবে পোস্ট করে ব্লগের ফ্রন্টপেইজ দখল করে নেয় সেটাকে বোঝানো হয় ফ্লাডিং টার্মটি দিয়ে। অনেকই প্রথম এখানে নাম লিখিয়ে এমন করেছেন কিছু না বুঝেই। এখন বিখ্যাত ব্লগার হিসাবে পরিচিত এমন একজনের শুরুটাও হয়েছিল এমন ফ্লাডিং দিয়ে। তবে সবচেয়ে মজার যে বিষয়টা ছিল সেটা হচ্ছে মিডনাইট স্প্যাম। ঢাকাতে যখন গভীর রাত তখন যেসব দেশে দিনের আলো থাকে, সেখানের কেউ কেউ পর্নো এলিমেন্টসহ পোস্ট দেয়া শুরু করলো। অতপর প্রথম পেইজ পর্নোর হাত থেকে রক্ষার জন্য শুরু হতো কাউন্টার ফ্লাডিং।
একবার জনৈক বান্দা, নাম ভুলে গেছি, কোন একটা বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে একটা অর্ধনগ্ন পোস্ট দিল। আমি ও সুমন চৌধুরী তখন ফ্লাডিং শুরু করলাম। একটা ধারবাহিক ঘটনা বলার শৈল্পিক মাধ্যমে সুমন চালু করলো তার মুচমুচে সিরিজ। আমি কি যেন একটা শুরু করেছিলাম। কিছুক্ষণ পরে আস্তমেয়ে এসেও যোগ দিল। মহাউৎসাহে ফ্লাডিং চলছে। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সেই পর্নো পোস্টটা সরিয়ে যখন আমরা একটা তৃপ্তির ঢেকুর ছাড়তে যাব, ঠিক তখনই আবার একটা পোস্ট। এবার একেবারে এক্সপোজড বুবস। আমরা কাছাবেধে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী আর বাংলাদেশ থেকে ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়তে শুরু করলাম। মুহূর্তের মধ্যে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সেটা সরে গেল।
এবার নিশ্চিন্ত। কিন্তু না, সেই শয়তানের খালাতো ভাই এবার পুরো উন্মুক্ত যোনীসমৃদ্ধ একটা পোস্ট দিয়েছে। তার একটা পোস্টকে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরাতে আমাদের মিনিটে দশটা পোস্ট ডেলিভারী দিতে হয়। এটা দেখে শয়তান মুচকি মুচকি হেসে অপেক্ষা করছিল। যেই দেখেছে আউট হয়েছে তার পূর্বের পোস্ট তখন টুপ করে আরেকটা পোস্ট ছেড়ে দিয়েছে! আর ওদিকে আমরা রুম পরিষ্কার করতে গড়াগড়ি দিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করে দেই।
শেষে সেই যোনী সমৃদ্ধ পোস্ট দেখে আমি ক্ষ্যান্তো দিলাম। না আর পারি না বাপ! তার চেয়ে এই ছবিটাই দেখি বসে বসে। কিছুক্ষন পরে অবশ্য হাসিন বোধহয় শয়তানের দোসরটার সবপোস্ট ডিলিট করে দিয়েছিল!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




