ব্লাকক্যাবের সিটে পিঠ এলিয়ে দিয়ে সবেমাত্র একটা সিগারেট ধরিয়েছি। দুটো টান দিয়ে আয়েশে সিগারেট ধরা হাতটা রেখেছি পেছনের সিটের উপরের তলে। হাতটা একটু ঝুলে পেছনে চলে গেলো, শক্ত কিছুর সাথে লাগলো মনে করে পেছনে তাকিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেলো। একটা সিএনজি সিলিন্ডার, গ্যাস ক্যানিস্টার। ঢাকার রাস্তার সব ক্যাব এখন সিএনজিতে চলে। আশ্চর্য্য হবার কিছু নেই। তবে জলন্ত সিগারেটের স্ফুলিংগ সিলিন্ডারের যেকোন একটা গ্যাস এক্সিট পয়েন্টে লেগে যেতে পারতো। আর সেখানের ফয়েল যদি দুর্বল হতো তবে মুহুর্তের মধ্যে পুরো ট্যাক্সিটা হতে পারতো একটা কার বোম। আমি ও ড্রাইভারসহ ভবলীলা সাংগ হতে পারতো রাস্তার আরো অনেক যাত্রীর।
গতকাল লন্ডনে দুটো কারবোম ডিফিউজ করা হয়েছে যার মধ্যে অনেক এক্সপ্লোসিভের মধ্যে গ্যাস ক্যানিস্টারও ছিল। ঢাকার রাস্তায় অর্ধলক্ষ গাড়ী, ট্যাক্সি আর সিএনজিতে এই একই বস্তু থাকে জ্বালানী ধারক হিসাবে। ভুক্তভোগীরা মাত্রই জানেন ঢাকার ট্রাফিকের অবস্থা, প্রায়ই গাড়ীগুলো ঢোকাঠুকি করে জ্যামের মধ্যে, নির্দিধায় সিলিন্ডার চিন্থিত জায়গাটাতেও অন্য গাড়ী মাথা বাড়িয়ে ঠুকে দিয়ে চলে। এমন সিএনজি সমৃদ্ধ প্রতিটি গাড়ী হতে পারে এক একটা বিধ্বংষী কারবোম। গ্যাস সিলিন্ডারগুলো পড়ে থাকে অবহেলায়, অনিরাপদে, ছাদে, পেছনে, সিটের নীচে। যাত্রীরা মাড়িয়ে যায়, নির্ভয়ে বিড়ি ফোঁকে, ছুকা ফেলে।
দুটো এক্সপ্লোসিভ গাড়ী নিয়ে লন্ডনসহ সারাবিশ্ব শংকিত হয়ে পড়েছে আর ঢাকার রাস্তায় অর্ধলক্ষ সম্ভাব্য কারবোম নিয়ে আমরা দিব্যি দাপিয়ে বেরাচ্ছি!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



