somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএম কলেজে একটা প্রহর

১০ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পরে বিএমকলেজে গেলাম। বৃষ্টিমুখর শুনশান ক্যাম্পাস। দুপুর গড়িয়েছে। ফটাফট ছবি তুলছি। আমার ডিপার্টমেন্টের গিয়ে দেখি পন্ডিত মশাইয়ের মত টেবিলের উপর পা তুলে সিগারেট ধরাচ্ছেন নাজিম স্যার (ছদ্মনাম)। আমি যখন বিএম কলেজ ছাড়ি তখন তার চুল দেখেছিলাম কাঁচা। এবার দেখে আমি পুরা পাংখা হয়ে গেলাম। সম্পূর্ণ পাকা চুল, খোচাখোচা দাড়ি। একসময় গাজা খেত প্রচুর। একবার এক কলকীর আসরে গিয়ে তার সাথে দেখা। অন্ধকার ঘরের কার্পেটে দশবারোজন গাজাখোর। আমার ডানপাশে দুইজন পরে তিনি ছিলেন, কলকীর টানে যখন লাল স্ফুলিংগ ছড়ায় তাতে ভেসে উঠলো তার চেহারাখানি। এরপরে আমার তো পালাই পালাই অবস্থা। কিন্তু সংগী পাড়াত বড় ভাই টেনে ধরে, যাস কোথায়? এখান থেকে খালি হাতে গেলে কলকীসেবীদের অমংগল হয়!

ডিপার্টমেন্টে আমরা কয়েক বন্ধু মিলে অতীত কালের কিছু মনিষীর ছবি বাধাঁই করে দিয়ে এসেছিলাম। সেই ছবিগুলো দেখে নস্টালজিক হয়ে গেলাম। চুয়ান্নজন ছিলাম। আজকে কেবল ছ'সাত জনের সাথে যোগাযোগ আছে। বাকীরা কে যে কোথায় আছে কোন খবর নাই। আমরা যারা বরিশাল শহরের ছিলাম তাদের সাথেই যোগাযোগটা বেশী হয়েছে। বাকীরা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে এসেছিল, হলে, মেসে থাকতো। কারো বাড়ীর ঠিকানা জানা নাই। এনায়েত, হিমু, মনোজ, রতনা, রুমি, মাধবী, সুরভী, জাকির, মিনু বেশীর ভাগই কলেজের শিক্ষক হয়েছে। তবে একজনকে খুঁজে বের করতে পেরেছি, সে হচ্ছে আমাদের গ্রেট মিলি। এখন এনজিওতে চাকুরী করে। স্বামী প্রথম আলোর বরিশালের স্টাফ রিপোর্টার।

বিএম কলেজের সাথে অনেক দিনের সন্বন্ধ। অনেক মারামারি, দুষ্টমী, ফ্লার্টিং এর দিনগুলি কেমন গিলে খেয়েছে সময়। বাকসু ভবনের সেই জৌলুস নাই, বৃদ্ধ রাজনীতিই টালমাটাল তারপরে আবার ছাত্র রাজনীতি! আমাদের ডিপার্টমেন্টের মোস্তফা স্যার এখন ভাইস প্রিন্সিপল। গেট দিয়ে বের হতেই তার সাথে দেখা। কি জঘন্য যে পড়াতেন এরিওপ‌্যাগেটিকা, মনে পড়তেই ফিক করে হেসে ফেললাম। স্যার দেখে বললেন, চলো রুমে চলো, চা খাবে!

স্যারদের সামনে জীবনেও চেয়ারে বসিনি। এখন দিব্যি তার অফিসে চেয়ারে বসে চা খেয়ে চিনি বড় কড়া মনে হলো!
৩৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×