আমি বাসায় গেলাম, সিমেন্সের বদলে নোকিয়া ব্যবহার করছি বলে ভুলে সিমেন্সের ইয়েস বাটন মনে করে নোকিয়ার কেটে দেয়ার বাটন চেপে সরূপতার ফোন হারালাম। সে রাগ করে আর আমার ফোন ধরলো না। নাম জিজ্ঞেস করলে যেমন এখনও মুখ ফসকে বলে ফেলি নিকনেইম অথচ এ নামে চেনা লোকের সংখ্যা দিনদিন কমে গেছে। টিএন্ডটি নম্বর, বাসার নম্বর চাইলে সবসময় পুরাতনটা দিয়ে দেই অবলীলায়। যাইহোক বাসায় গিয়ে প্রধান কাজ হচ্ছে রান্না করা। দরজা খুলে পকেটের মালজিনিস টেবিলে রাখাও বড় কষ্টকর মনে হয়, তারপরে সন্ধ্যাবাতীর মন্তব্যে জ্বলছি কয়েকদিন যাবত - আমাকে রান্না করতেই হবে। ঘরের আবর্জনা সব বিনস্থ করতেই হবে। দাড়ি কাঁটতে হবে, নখ কাটতে হবে। ভদ্রস্থ হতে হবে।
কাঁচা গরুর মাংস জীবনেও হাত দিয়ে ধরে দেখিনি। ডিপফ্রীজের গোস পানিতে রেখে দিতে হবে কিছুক্ষণ। তারপরে যখন নরম হলো, তখন সে গোশত কেটে কেটে টুকরো করতে হবে। থলথলে গোশতে হাত দিয়েই শরীর শিউরে উঠলো, কি ঠান্ডা আর কেমন কেমন! নাকমুখ চেপে কেটে টুকরো করে ধুঁয়ে রেখে দেই। তারপরে মশলা, তেল, পিয়াজ, হলুদ, মরিচ কতটুকু এবং কি কি দিতে হবে তাই জানার জন্য রাধুঁনীদের কাছে ফোন। একজন বলে, লবন আরেকটু দাও তো, আরেকজন বলে কমাতে। শেষে নিজের মত দিয়ে প্রেশার কুকারে চড়িয়ে দিলাম।
মেজাজ এখনও চড়াও। ঘরে খালি পায়ে হাঁটা যায় না। ঝাট দিয়ে, মপিং করে মোটামুটি চেহারাসুরৎ ঠিক করা গেল। ঘন্টাখানেকের মধ্যে খাবারও রেডি, ঘরও পরিষ্কার। শেষ মুহূর্তে অবশ্য বনবাতাসী ফোন করে বিপদে ফেলে দিল, এলাচ, দারুচিনি দিয়েছো? আমি বললাম, না, না দিলে হবে না!
তার বক্তব্য, এগুলো ছাড়া গরুর গোশত খাওয়া যায় নাকি!
আমি জানি না এলাচ, দারুচিনি কোথায় আছে, কিন্তু অলরেডি যে সুগন্ধ বের হয়েছে, তাতে আর খুঁজে দেখার দরকার নেই। খেতে খেতে মনে হলো সন্ধ্যাবাতীকে কড়া করে কিছু কথা শোনাই, দেখো, ঠিকই পেরেছি! হুম!!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



