সকাল 7:45 এ বাসা থেকে বের হয়ে আবার প্যাভিলিয়নে ফিরতে রাত্র 8টা বাজে প্রায়শই। অপেক্ষার প্রহর গোনা সহধর্মিনী বিরক্ত, বিক্ষিপ্ত একাকী বাসায় একসময় আবার শান্ত হয়ে আমাকে বুকে তুলে নেয়। জিজ্ঞেস করে সু্যপ করে দেব? আমি বলি না। সে জানে আমি পছন্দ করি না তারপরেও জিজ্ঞেস করে। আচ্ছা তাহলে সেমাই করে দিই! আমি বলি খেতে ইচ্ছে করছে না। তাহলে কি খাবে? বিকেলে কি কিছু খেয়েছো? আমি জানাই কিছু খাই নাই তো! সে বলে তাহলে কি খেতে চাও? আমি ভেবে পাই না কি খেতে চাই! মিস্টি ছাড়া টক, ঝাল, তেতো কোন কিছুতেই আমার রুচী নেই। রসগোল্লা দেখলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। আমার স্ত্রী মিস্টি নিয়ে আসে আর আমার মুখের হাসি দেখে বলে মিস্টি দেখে তোমার চোখ-মুখের এই অভিব্যক্তি আমার ভীষণ ভালো লাগে। শুনে আমার চেহাড়া লাল হয়ে যায়।
রাতের খাবারের সময় লেবু, টমেটো, শশার ছড়াছড়ি। আমি এড়িয়ে চলি। প্লেটে উঠিয়ে দেয়। আমি আবার তুলে রাখি। বলে তুমি যে কেমন মানুষ কিচ্ছু খাও না! আমের আচার, জলপাইয়ের আচার - তাতেও আমার আপত্তি। আমি বলি আমি না খেলে কি হয়েছে - তুমিতো খাচ্ছো - এতেই আমার খাওয়া হয়ে যায়।
আজকাল আমার বউ সু্যপ, সেমাই, আমের আচার, লেবু, টমেটো, শশা কিছু খায় না। আমিও নিশ্চিন্ত। অহেতুক বিড়ম্বনা থেকে বেঁচে যাই। একদিন আমি এমনিতেই কথাচ্ছলে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এখন সু্যপ খাচ্ছ না কেন? আচার, লেবু, টমেটোও দেখি খাও না! কি ব্যাপার বলো তো!
আমার বউ বললো, তোমার যে খাবারটা পছন্দ নয় সেটাতে আমিও আর টেস্ট পাই না আজকাল। আমি কল্পনাও করতে পারি না এমনও হতে পারে। আচমকা একরাশ প্রস্রবনে আমার চোখ ভিজে গেলো । আমি ভেবে পাই না এত ভালোবাসার খাবার কি করে আমি এতদিনে দূরে ঠেলেছি!
আমি এখন গিনি্নর হাতের সব খাবারই অমৃতের মত গলধঃকরণ করি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




