হঠাৎ দরজা আছড়ে পড়ার বিকট শব্দ হলো। তার মানে বাইরে ঝড়ো বাতাস বইছে থার্ড গিয়ারে। দরজার খিলটা দেয়ার জন্য টিভিতে নায়িকার গোছলের দৃশ্য ছেড়ে উঠে যেতে হলো। শুক্রবার নায়িকা মারা যাবে। অবিশ্বাসী নায়ক প্রিয়ার ছলছল আঁিখ দেখে আংগুল কেঁটে রক্ত ঝড়াল। নায়িকার ললাটে রক্ত-সিদুঁর পড়িয়ে সংগমে-সোহাগে জলে ভেজা দুটো শরীরের ভালোবাসার স্নান হচ্ছিল বিশাল বাথটাবে। এমন দৃশ্য দেখে আমরাও ভেজা শরীরেই আটকে গেলাম, টিভিতে এমন চিত্রায়ন নিছক কাকতালমাত্র কিন্তু দরজার বিকট চিৎকার আমাকে স্মরণ করিয়ে দিল কিছু লিখতেও তো হবে। কারণ দরজার পাশে লেখার যন্ত্রখানি। কম্পিউটারের সাদা পৃষ্ঠা তাকিয়ে আছে। আমাকে টেনে নিয়ে এসে বসায়। আমি আঁিক আমার দিনেগুলোর পেন্সিল স্কেচ। কেন শুধু সাদা আর কালোতে সাজানো থাকবে এর গাথুঁনি - লাগিয়ে দেই ভিন্ন গাঢ় কোন রঙের প্রলেপ। জীবনের ছোপছোপ মনরঙ মাখিয়ে নেই তুলিতে । আজকে আমার যে শতক গুণতে হবে। জীবনের সনির্বন্ধ অনুরোধ আমার শতায়ুকে বরাদ্দ দেয় কিনা জানি না বুকটা কিন্তু ঠিকই কাঁপছে, তার ভেতরের মন এবং সেখানে লালিত আশার ঘরও। ঐ যে গানের মত বুক-মন-আশা সমান্তরালে ভালোবাসার দাবী - কত ভালই না বেসে ফেলেছি এ ব্লগ পরিজনদের।
And all must love the human form,
In heathen, Turk, or Jew.
Where Mercy, Love, and Pity dwell,
There God is dwelling too.
(The Divine Image, William Blake)
আমার সংক্রমিত ব্যধির নাম ভালোবাসা। বউ থেকে শুরু করে সকল প্রানময় জীবনে আমার ভালোবাসা। ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গে। বউয়ের মূল্যায়ন ভালোবাসা তোমার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। আমার মনে হয় ফাঁসীর রায় পাওয়া আসামীর মত, কে বাচিতে চায় ঘৃনায়।
একটা তীর্থযাত্রায় আমরা সামিল হয়েছি। গল্প বলছি জীবনের , ক্যান্টারবারি ্েটলস। বৈষয়িক, কৌতুক, জীবনমূখী, ধর্ম সব মিশেল - কেউ রাঁেধ খিচুড়ী, কেউ দেয় খিচুঁনি - আমি খুঁিজ বিরোধের উৎস। ক্ষমতাহীন জিমি কার্টার - সমালোচনায় মূখর তার সমগোত্রীয়দের। অথচ একসময়ে আমি পক্ষ নেই, বিপক্ষ হই অথবা সপক্ষ তুলে ধরি। এ এক নতুন যাত্রা; আমি ইতিহাস হতে দেখি লেখার মাধ্যম, বিষয় ও ক্যানভাস। কি চমৎকার মিঠে বর্ণনা প্রতিটা রাজ্যে; কেউ বলে আজ
আমি ক্লান্ত, কেউ আমাকে লিখে দিক্।
আমি বলে দিচ্ছি কী লিখতে হব্।ে
লিখতে হবে - 'আমি আনন্দিত' - ব্যস।
(নির্মলেন্দু গুন)
আমি তাকিয়ে থাকি কারো লেখার দিকে, মুক্তিযুদ্ধ দেখি প্রতিদিন। হঠাৎ মনিটর চোখের সামনে থেকে হাওয়া হয়ে যায়। বিশাল এক মাঠে গণগনে রোদের মাঝে এক পশলা বৃষ্টিতে দুলছে খেয়ালী বুনোঘাস। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে
তুমি আমার ভিতর বাহির চেনো
তাই সহজেই প্রবেশ করো মূলে
যারা আসে সুখের স্মৃতি নিয়ে
হারায় তারা পথের হুলস্থুলে
(নির্মলেন্দু গুন)
কারো নিরলস মরমী প্রচেষ্টা আমাকে অভিভূত করে। ইশ্বরে তার প্রগাঢ় আস্থা। ব্যক্তিবিশেষের কাছে ইশ্বরের রূপটি তিনি তুলে ধরেন, অথচ দেখেন তিনি প্রতুত্তরকারীর চোখে ইশ্বর নেই, আছে অন্ধতা যা দিয়ে দেখা চলে না, কেবল তাকানো যায়। আমার বন্ধু বলেন
চতুর্দিকে বইছে যখন বৈরী হাওয়া
তোমার কাছেই তখন আমার প্রবল চাওয়া
আমি সমীক্ষায় অংশ নেই। একজন দু্'জন করে পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায় মনত্দব্যে। মানুষ ইশ্বরকে সৃষ্টি করে ইশ্বরের ভূমিকায় আবিভর্ূত হয়েছে। কোন জিয়নকাঠির স্পর্শে পালিত এ জীবন মেতে ওঠে উচ্ছাসে। সবার লেখাগুলো মনে হয় প্রবাহমান ঝর্ণাধারা
Collecting, projecting,
Receding and speeding,
And shocking and rocking,
And darting and parting,
And threading and spreading,
And whizzing and hissing,
And dripping and skipping,
And hitting and splitting,
And shining and twining,
And rattling and battling,
And shaking and quaking,
And pouring and roaring,
And waving and raving,
And tossing and crossing,
And flowing and going,
And running and stunning,
And foaming and roaming,
And dinning and spinning,
And dropping and hopping,
And working and jerking,
And guggling and struggling,
And heaving and cleaving,
And moaning and groaning;
And glittering and frittering,
And gathering and feathering,
And whitening and brightening,
And quivering and shivering,
And hurrying and scurrying,
(The Cataract of Lodore, Robert Southey)
আমার বেবুনের জাত। একদিন সব অহংকারের সাথে ছেড়ে এসেছিলাম মানচিত্র। যেখানে আঁকা থাকে নদী, সবুজ, ঘাস, লতা পাতা। কংক্রিট দেয়ালে শপথ করেছিলাম ভালোবাসতে এসেছি, ভালোবেসে নয়। আজ আমি ভালবাসি পেট্রোল, বিদ্রোহ, টিয়ার গ্যাস - হরতাল প্রতিদিনের খবরে, ভিজুয়াল মিডিয়ায়। সেখানে অক্ষর থাকে রঙহীন উচ্চারণে - মনে হয় এও শিল্প - দর্শক হওয়ার। একজন প্রিয় ঢাকার টানে বারবার ছুটে আসেন কিন্তু পথ হাড়ান শৌচাগারে গিয়ে। কি মমতার চোখে দেখা এ শহর আমি নতুন করে দেখি তার চোখে। প্রবাসী লেখাগুলো আমাকে বিপদগ্রস্থ করে, দেশের কোন একটা কিছুর সাথে স্পর্শিত থাকার জন্য প্রতিদিন লগঅন - এই ব্লগের বাংলা চেহাড়া দেখার জন্য হৃদয় আকুঁপাকু করা সংলাপ। আমি ভেটাসাসে এসেসমেন্ট টেস্ট করার কথা আর মনে করি না। প্রতিদিন যে বাংলা খাচ্ছি স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ মিশিয়ে - তা যে আমার চোখেও ফোটে চারিপাশের বাংলার চলমান বৃক্ষগুলো দেখে। এ শানত্দি - ওম শানত্দি - হৃদয়ে মিস্টি হাওয়ার দোলা দেয়
আমার পেটে তোমার আঙ্গুল বোলালে নিজেকে গর্ভবতী মনে হয়
আমার শিশ্নে তোমার চুল ছোঁয়ালে ছন্দময় বেণী বলে মনে হয়
আমার মধ্যমায় তোমার ঠোট ছোঁয়ালে উদ্যত স্তন বলে ভুল হয়
আমার চুলে তোমার নাক ঘষলে কোমল উরু বলে ভ্রম হয়
আমার বাহুতে তুমি আঁচড় কাটলে পিচ্ছিল পিঠ বলে মনে হয়
আমার শয্যা ছেড়ে তুমি চলে গেলে নিজেকে ক্লিব বলে ভয় হয়
আমার নিতম্বে তুমি আঘাত করলে শিরশিরে বালিশ বলে সুখ হয়
আমার পিঠে তুমি চড়ে বসলে শ্রান্ত নদী বলে শান্তি হয়
আমার মগজে তুমি বিষ ছড়ালে কবিতা লিখছি ভেবে আনন্দ হয়
(আনন্দ, শরৎ - তোমার অনুমতি ছাড়া জুরে দিলাম)
ছোটবেলায় যখন বুদ্ধদেব গুহ পড়তাম তখন শুধু নামগুলো মনে থাকতো। একদম আনকোড়া নাম। ভাবতাম বড় হলে এমন চরিত্রগুলোর মত হয়ে যাবো আমিও। জাতে বাংগালী পুরুষ, স্বভাবে আতেল, জীবন-যাপনে এলোমেলো, পেশায় শিল্পী যেন এক জীবনত্দ চরিত্র বুদ্ধদেবের। আমি টান বোধ করি। তদ্রুপ হিমালয়ের চুড়া, কখনের কথা কন, শংকরের আগের না পরের।
শূন্য নও, পূর্ণও নও
একটা কেবল কৃত্ত
শুরুতে নও শেষেও নও
রয়েছো তো নিত্য।
এখনো নিশ্চিত নই,তবে আমি বোধহয় মনোবিকলনগ্রস্থ কেউ (ধার শরৎ থেকে)। কাল পর্যনত্দ আমার নির্জিত শরীরে অজস্র যোগ-বিয়োগের গন্ডগোল ছিল। মাঝে মাঝে জটিল মনোরোগে হৃদপিন্ডের সংকুচিত আতঙ্কের একটা ঠেউ প্রত্যাহিক স্রোতে বিষাদের করুন ভায়োলিন ছাড়া আর কোন সুর তোলেনি। আজকের দষ্ট দিনের পিঙ্গল দেহে এশরাশ মোহময়তা আমাকে কৌলিণ করেছে। এখন দরজা খুলে সোজা নেমে যাই শূন্যের ছাই ভরা বিশাল পৃথিবীতে। হেঁটে হেঁটে যাই বিছানো পথে। দপকেটের মুঠোতে জীবনকে ভরে দুধারের ফুটপথ ছেড়ে পুরো পথ কখন ছেড়ে আসে সাধের সুখের নগর। নির্বোধ জীবনের চারিপাশে বিবর্ণ ঔষধ। কাঠের মত শরীরে চেয়ে দেখি আমার আরোগ্য হয়েছে।
এখনো যখন তার মৃতু্য সংবাদ
রটেনি কাগজে,
সবাই জানে সে বেশ বেঁচে আছে!
একথা সত্যি, সে দু'বেলাই দাঁতে কাটে রুটি।
কিন্তু তারা এ জানে না তার পদ্যে
কেন রুক্ষ শব্দেরা গর্জায়
(কবি, রফিক আজাদ)
রাজনীতি ও কবিতা আমার প্রতিদিনের খাদ্য। তিন ওয়াক্ত খবর দেখি। ব্লগবইখানির পৃষ্ঠা উল্টাই। অজস্র নামের কার্নিশে ঝুলে থাকে প্রোফাইলে কাউকে চিনে নেই, কারো কথা ভুলে যাই। কখনও কারো টুকরো একটা মনত্দব্যের পরে টুকরো টুকরো ডিমের পুডিং - বড় মজাদার। সবার সাথে মিশে যাই নকশা কাঁটা লেখার উৎসবে, প্রতিযোগিতা - একজন প্রিয়জন ফোন করে বলেন - একশতম লেখাটা লিখুন। আমি তার মাঝে দেশ দেখি - দেশের মানুষ দেখি। লিখতে বসে লিখে ফেলি -
মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্ম দুটোই সমান্তরাল উড়ছে ব্লগে
আর বাংলাদেশ ধুকঁছে পানি ও বিদু্যত মড়কে
ধর্মের পরে ধর্মের লড়াই মাঝখানে রক্তের বীমা
ক্ষুধাক্লিস্ট মানুষের ললাটে খাচকাঁটা দাগের সীমা
চিটচিটে শানত্দির বানী আর ধর্মবীজ হাতে খুনেরা
হিংস্র বানায় শানত্দ মানুষ আর মজা লোটে বুনেরা !
আমার সময় হয়েছে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর। যারা মন্তবে আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন তাদের সাথে আমার আত্মার আত্মীয়তা। লেখা যাদের ভালো লাগে সেখানে আমি প্রতিনিয়ত মন্তব্য করি। ভালোলাগে বলেই মন্তব্য করি। কিভাবে বলি -
আজ আমার ভাষাতে শুদ্ধ কান্না অনুবাদ করেছি
সিঁথির সিদুঁরের মত
একদম সহংত কয়েক আচড় অশ্রু এঁকে
বিলাসী লেখার শতক পূরণে উন্মত্ত মেতেছি।
বারবার সংবহনে আমার দিনগুলি
হাড়াচ্ছে জেনলুস, নিবাত স্যাঁতসেঁতে বয়েস
আমার কেশ-গুল্ফে দিয়েছে পৌঢ়ত্বের তুষার
বরগা দেয়া গৃহস্থালী বেদখল হয়ে গেছে বহুকাল আগে।
কতদিনে বড়ো হয় মানুষ, অথবা বুড়ো?
কতদিনে হয় একটা জীবন? কত মাসে অবসান
কতটা বাটোয়ারা করে কষ্টেরা ছাড় দেয় অট্টহাসি?
প্রানখোলা চিৎকার, হৈ-চৈ, হেরেফেরে ছোটাছুটি?
আমার উঠনে এক ফালি চাঁদ লাউয়ের মাচান জুরে
দীঘির জলে সাতরায় লম্বা ছায়া নবমীর রাতে
টইটম্বুর ভালোবাসার এমন ব্লগে বেশ আড়ম্বরে
দিয়াড়ী জ্বালিয়ে আমি শ্রাদ্ধ্য করি শতেক পোস্টের!
special thanks to pial, sadiq & shamit
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



