somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হাইডের জেগে ওঠা ...

১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫৪ জন মানুষসহ ৫২ সিটের বাসটি নিয়ে টার্মিনাল থেকে বেরোতেই সামনে পড়লো একটা প্লাস্টিক। “ধুস শালা !” - গালি আওড়ে এগিয়ে যাই প্লাস্টিকটিকে গুড়িয়ে দিতে। বাগড়া দিলো যান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সল্প বেতনের সরকারের চাকরটি। আর এক প্রস্থ গালি দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাই। মোড় ঘুরতেই একটা লাল রঙের তেলাপোকার মুখোমুখি হলাম। প্রথম শিকারটাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। এটাকে তো আর ছাড়া যায় না। তেলাপোকাটাও সেয়ানা বটে। শুঁড় বাঁকিয়ে তেড়ে আসে। পালটা আক্রমনের প্রস্তুতি নিতেই হঠাৎ ভেংচি দেখিয়ে ব্যাটা কেটে পড়ে সামনে থেকে।

সাত সকালে ২টা শিকার নাগালে পেয়েও ছেড়ে দিতে হলো। মেজাজটা সপ্তমে চড়েছে। সুযোগ-সন্ধানী চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছে পরবর্তী শিকারকে। নাহ্‌! আজকাল সবাই বড্ড বেশি সাবধানী হয়ে উঠেছে।

বিমানবন্দরের সামনে পৌঁছুতেই চোখ চক চক করে উঠলো। ঐ তো ! পিঁপড়ার মত সারিবেঁধে রাস্তা পেরোনোর অপেক্ষায় মানুষগুলো। আবারো শুরু করি খিস্তি-খেউড় – “হারামজাদা ! ওভারব্রীজ কি তর বাপে সাজায়ে রাখনের লাইগ্যা বানায়ে থুইসে ?” ভাবি, দেই পিষে ক’টাকে। অনেকই আছে তো। এগুলোর মাঝ থেকে ২/৪টা কমলে কি এমন ক্ষতি হবে। নাহ্‌! এবারও ব্যর্থ হতে হলো।

টঙ্গী পৌঁছুতেই বাস আর ট্রাকের ভিড়ে প্রায় গতিহীন হয়ে পড়ি। সামনে আবারো একটু ফাঁকা পেয়ে যেই না গতি বাড়িয়েছি হঠাৎ দেখি উঁচু আইল্যান্ডের ফাঁক গলে এক মধ্যবয়সী রিক্সাটা নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায়। আমার রুদ্র মূর্তি দেখে পিছিয়ে গেল কয়েক ধাপ। ছুটে চলেছি আবারো।

এক সময় ব্যস্ত শহর পিছনে ফেলে হাইওয়েতে গিয়ে উঠি। উল্টো দিক থেকে প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে আসছে এক একটি বাস। মাঝে মধ্যে একটা দু’টা ট্রাক। এরই ফাঁকে ফাঁকে ছুটছে অল্প কিছু রিক্সা আর ভ্যান।

আহ্‌! ঐ তো; সামনে আরেকটা শিকারের সম্ভাবনা দেখা যায়। দুইটা বাস একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টায় ব্যস্ত। আমারও করা চাই। গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যাই। বেশ কিছুক্ষণ আমরা একে অপরকে পিছনে ফেলার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। ঐ দূরে উলটো দিকে ওটা কি দেখছি? দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে একটি সাদা মাইক্রোবাস। দূরত্ব কমে আসছে আস্তে আস্তে। ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে চালকের আসনে বসা তরুণটি। নিজের ক্ষুদ্রতায় কি অসহায় বোধ করছে? নিশ্চয়ই আশায় আছে শেষ মূহুর্তে সরে যাব। হা হা হা ! ভুল ভাবছো ছেলে। ভেবো না। আমাদের সারিতে জায়গা করে নিতে না পারলেও তুমি জায়গা পেয়ে যাবে পাশের ঐ নিচু খাদটিতে। যাহ্‌! শেষ পর্যন্ত বেঁচেই গেলে। বামপাশের বাসদুটো শেষ মূহুর্তে গতি কমিয়ে আমাকে এগিয়ে না দিলে এতক্ষণে পৌঁছেই যেতে যথাস্থানে।

আবারো একটা মোড়। ঘুরতে না ঘুরতেই দানবীয় একটা ট্রাক। মুখোমুখি আসতেই অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিলো চালক। ঠোকা-ঠুকির শেষ চেষ্টাটিও ব্যর্থ হলো। কারন, পৌঁছে গেছি গন্তব্যে। চালকের আসনটি এবার ছেড়ে দিতে হবে। স্টিয়ারিং ধরবে অন্য কেউ।
নতুন কোনও শিকারের নেশায় ? হয়ত হ্যাঁ অথবা না।




*প্লাস্টিক - প্রাইভেট কার (লোকাল বাসের হেল্পার , ড্রাইভারের ভাষায়)
তেলাপোকা - ছোটবেলায় ভক্সওয়াগন গাড়িগুলোকে তেলাপোকা বলতাম :P




ভেবেছিলাম আর লিখবো না। আজকে হঠাৎ আবার লিখতে ইচ্ছা হলো। হয়ত হাবি-জাবি হবে। সাহিত্যের ছিটেফোঁটাও থাকবে না । নাই বা থাকলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩৫
৮৩টি মন্তব্য ৮৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×