somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিনিকেট চাউল নিযে প্রতারনা

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এদের বিচার কে করবে, বাংগালীর প্রধার খাবার ভাত আর সেই ভাত হয় চাল থেকে আর সেই চাল নিয়ে চলছে প্রতারনা।

মিনিকেট ধানের চালের ভাত দেখলে জ্বিহবায় পানি আসে। রসনা তৃপ্তির জন্য তাই ব্যকুল হয়ে ওঠে মানুষ। অথচ দেশে ’মিনিকেট’ নামে কোন ধানের জাত না থাকলেও এই নামে প্রতারণার রমরমা বানিজ্য চলছে দীর্ঘকাল ধরে।

এক শ্রেনীর চালকল মালিক মোটা চাল ছেঁটে সরু করে ’মিনিকেট’ বলে বাজারজাত করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা লুটে নিলেও কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই!

কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ জানান, ঝিনাইদহসহ এ অঞ্চলের জেলাগুলোতে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনিষ্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় জাতের ধান চাষ হয়। কিন্তু মিনিকেট নামে কোন ধানের জাত বাংলাদেশ কিংবা পার্শ্ববতী দেশ ভারতেও নেই। মিনিকেট নামে চাল বাজারে মানুষের মাঝে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মিনিকেট নামের উৎপত্তি নিয়ে আরেক কৃষিবিদ খোন্দকার সিরাজুল করিম চমৎকার তথ্য দেন। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালের দিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ভারতের কৃষকদের মাঝে সেদেশের ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট নতুন জাতের চিকন ‘শতাব্দী’ ধানের বীজ বিতরণ করে। তিনি আরো জানান, মাঠ পর্যায়ে চাষের জন্য কৃষকদেরকে এ ধান বীজের সঙ্গে আরো কিছু কৃষি উপকরণসহ একটি ‘মিনিপ্যাকেট’ প্রদান করে ভারতীয় সরকার। মিনিপ্যাকেটে করে দেওয়ায় ভারতীয় কৃষকদের কাছে এ ধান শেষমেষ ‘মিনিকেট’ বলে পরিচিতি লাভ করে। কৃষকরা মিনিপ্যাকেট শব্দটির মধ্য থেকে ‘প্যা’ অক্ষরটি বাদ দিয়ে মিনিকেট বলে পরিচয় দিতে শুরু করে। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে বোরো মৌসুমে চাষ যোগ্য এ ধানের বীজ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের হাতে পৌছে যায়। দেশে ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার চাষিরা এনে সর্ব প্রথম এ ধানের চাষ শুরু করেন। আমাদের দেশে আগে নাজির শাইল, পাজাম ও বালাম ধানের চাষ হতো। এ সকল দেশি সরু ধানের চালের ব্যাপক চাহিদা ছিল। বরিশালে বালামের সুনাম ছিল সারা ভারত উপমহাদেশ ব্যাপি। কালের বিবর্তনে সকল সরু জাতের ধান চাষ উঠে যায়। সরু চালের সন্ধান করতে থাকে ক্রেতারা। এসময় বাজারে কথিত মিনিকেটের আর্বিভাব ঘটে। ক্রেতারা লুফে নেয় এ সরু জাতের চাল। সুযোগ বুঝে এক শ্রেনীর মিল মালিক মাজারি সরু বি আর- ২৮, বিআর- ২৯ ও বি আর-৩৯ জাতের ধান ছেঁটে ’মিনিকেট’ বলে বাজার জাত করতে শুরু করে। বর্তমানে সারা দেশে চিকন চাল বলতে এখন ’মিনিকেট’ ই বোঝায়, যার দামও চড়া।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে একমাত্র পশ্চিমের জেলা যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলাতে কথিত ‘মিনিকেট’ ধানের চাষ হয়। গত রোবো মৌসুমে যশোর জেলায় ৩০ হাজার হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৮ হাজার হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩ হাজার হেক্টরে ও মাগুরা জেলায় ১ হাজার হেক্টর কথিত এ মিনিকেট ধানের চাষ হয়। সর্বমোট এ অঞ্চলে ৫৫ হাজার হাজার হেক্টরে মিনিকেট চাষ হয়েছিল। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ছিল ৩ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন। ঝিনাইদহের ডাকবাংলা বাজারের চালকল ব্যাবসায়ীরা জানান, পশ্চিমের সীমান্তবর্তী যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও মাগুরা জেলা ছাড়া অন্য কোন জেলায় ’মিনিকেট’ ধান উৎপাদন হয় না। তাদের ভাষ্যমতে গত বোরো মৌসুমে ধান উঠার পর প্রতিমণ (৪০ কেজি) ’মিনিকেট” ধানের দাম ছিল সাড়ে সাতশ’ থেকে ৮শ’ টাকা। আর সে সময় প্রতি কেজি ’মিনিকেট’ চাল পাইকিারি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়।

এক শ্রেনীর অসাধু চালকল মালিক বিআর-২৯ ও বিআর-৩৯ জাতের চাল ফিনিশিং করে মিনিকেট বলে বাজার জাত করছে বলে অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়ার খাজানগর, পাবনা, নওগাঁ প্রভৃতি স্থানের চাল কল থেকে সারা দেশে কথিত ‘মিনিকেট’ চালের সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই লাখ লাখ মন ’মিনিকেট’ চালের যোগান কোথা থেকে আসছে। কারণ গত বছর যে ধান উৎপাদন হয়েছে তাতে এক লাখ ৩২ হাজার মেট্রিকটন চাল হওয়ার কথা। ফলে ‘মিনিকেট’ নিয়ে প্রতারণার রমরমা বানিজ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে চাল ব্যবসায়ীদের মাঝে। ঝিনাইদহ মেছুয়া বাজারের আড়তদাররা জানান, অটো রাইচ মিল মালিকরা কথিত ‘মিনিকেট’ বলে যে চাল সরবরাহ করছে তারা তাই মিনিকেট বলে বাজারে বিক্রি করছেন। তারা স্বীকার করেন ‘মিনিকেট’ নামে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত কোন জাতের ধান নেই। বিআর ২৮, কল্যানী, স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা আইঅর-৫০, জাম্বু ও কাজল লতা জাতের ধান ছেটে মিনিকেট বলে বাস্তায় ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে এ চালের ব্যাপক চাহিদার জন্য এ ‘মিনিকেট’ প্রতারনার ব্যবসা চলছে বলেও তিনি মনে করেন। কৃষি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা আহম্মেদ হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগে সুপার ফাষ্ট নামে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য ভারতের ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট একটি সরু জাতের ধান অবমুক্ত করে। এ ধানের চাল এক শ্রেনীর মিল মালিক সুপার মিনিকেট বলে এখন বাজারে বিক্রি করছে। এ চাল কথিত মিনিকেটের চেয়ে আরো বেশি চিকন। তিনি আরো জানান, দেশ ব্যাপী মিনিকেট চালের নামে যে প্রতারণা চলছে তা কেবল ক্রেতাদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি হলেই নিরসন সম্ভব হবে। বিষয়টি নিয়ে কৃষিবিদ ড. মোঃ শমসের আলী জানান মিনিকেট নামে কোন জাতের ধান বাংলাদেশে নেই। এটা প্রতারণার সামিল। তিনি জানান এই প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের সৎ হতে হবে। চাল ব্যবসায়ীরা আসল পরিচয়ে চাল বিক্রি করলে ক্রেতারা প্রতারিত হবেন না। তিনি বলেন আমাদের চাল বাজারগুলো ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে। ফলে তারা ইচ্ছা মতো চালের নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

বাংলার মানুষের প্রধান খাবার ভাত ও মাছ, কিছু অসাদু ব্যবসায়ি এই প্রতারনার আশ্রয় নিয়াছেন। ব্যবসা করা হালাল কিন্তু মানুষ ঠকানো হারাম ঠিক সেই কাজটাই মানুষ করতেছে। হায় রে দুনিয়ার অসৎ মানব, আমরা কি একটু সৎ হতে পারি না?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×