somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গানের কথাগুলো হৃদয় স্পর্শ করে।।

০৩ রা জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পর অফিস ছুটি তাই স্ত্রীর সাথে গল্প করছিলাম, এমন সময় দীপ্ত চ্যানেলে একটি সাদা কালো সিনেমা দেখলাম। গানের কথা গুলো আমার হৃদয়ে সরাসরি আঘাত হানলো-

তুমি কি দেখেছ কভু , জীবনের পরাজয়
দুঃখের দহনে করুন রোধনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়।।
তিলে তিলে তার ক্ষয়।।

আমি তো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকুলেই ঝড়ে যায়,
শুকনো পাতার মরমড়ে বাজে কত সুর বেদনায়,
আকাশে বাতাসে নিষ্ফল আশা হাহাকার হয়ে রয়।।

প্রতি দিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে
জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে
কেউ তো জানেনা প্রাণের আকুতি বারে বারে সে কি চায়
স্বার্থে টানে প্রিয়জন কেন দুরে সড়ে চলে যায়।
ধরনির বুকে পাশা-পাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়।।

দুঃখের দহনে করুন রোধনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়।।

অনেক আগের সিনেমা, একবার সিনেমা হলে দেখে ছিলম, আমি অনেক কেঁদে ছিলাম, যদিও এই সিনেমা টি দেখার পর আর লেখা পড়া করতে পারিনি, তবু আপনজনকে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে ধরে রাখতে পেরে ছিলাম। আমরা সবাই গান শুনি কিন্তু এর কথা গুলো যদি একবার বিচার বিশ্লেষন করি তবে নিজেকে সঠিক যায়গায় দাড় করানোটা বেশী একটা কষ্ট হবে না। শুধু একজন লোকের আত্মত্যাগই দিতে পারে শান্তি একটি পরিবারের। আমি দেখেছি, একটি লোকের জন্য একটি পরিবার তার সুখ, শান্তি চির তরে হারিয়ে যায়। আমি তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমান পেয়েছি।

আমি আমার পরিবারের সুখ দেখেছি, সমৃদ্ধি দেখেছি, আমাদের গোলায় ভর্তি ধান ছিল, গোয়ালে গরু ছিল, কাজের লোক ছিল, কোন কিছুরই অভাব ছিল না। চাওয়ার আগেই পেয়ে গেছি। আমাকে দেখাশুনা করার জন্য একটি মেয়েকে আনা হয়েছিল, সেই মেয়েটা ডায়রিয়া আক্রান্ত হলো, সে সময় চিকিৎসার তেমন কোন ভাল ব্যবস্থা ছিল না। গ্রামের ডাক্তার ডাকা হলো তিনি কিছুই করতে পারলো না, মেয়েটি মারা গেল এবং আমাদের প্রতিবেশী দুষ্ট লোক গুলো মামলা করে, আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিল, বাবার অনেক টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু মেয়েটি বাবা-মা কিছুই করতে চায়নি। সে বৎসর ডায়রিয়ার প্রকোপে প্রচুর লোক মারা গিয়াছিল।

আমার বাবা খুবই অসুস্থ্য ছিলেন, তার মধ্যে সংসার টি মোটামুটি বড় ছিল, গ্রামো রাজনীতি ও সততার জন্য অনেক শত্রু তৈরি হয়ে ছিল। কিছু জমি জমা বিত্রুয় করে, আমাদের লেখা পড়া, বাবার চিকিৎসা, তার উপর প্রায়ই আমাদের এলাকায় বন্যা দেখা দিত। প্রায় নিরুপায় হয়ে এসেছি। আমাদের নানা ভাই প্রায়ই আমাদেরকে সাহায্য করে থাকতো। তাই তেমন কষ্ট হতো না বলেই চলে, ইতিমধ্যে নানাভাই মারা গেলেন, মামারা অতোটা ভাল জানতেন না্।

বড় দুই ভাইকে বিয়ে দিল, কিছু দিন পরে তার তাদের স্ত্রীদের কে নিয়ে আলাদা হয়ে গেল, এখন সংসারে আয় করার আর কেউ থকলো না। ঘরে খাবার কিছুই অবশিষ্ট থাকলো না। সবে মাত্র এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছি মাত্র। রাতের অন্ধকারে ছুটলাম কাজের সন্ধানে, গলাচিপা নামক একটি জেলে নৌকাতে কাজ নিলাম, পায়সার পরিমানটা একটু বেশীই দিবে, কথা ছিল প্রতি সপ্তাহে আমাকে একদিন ছুটি দিবে। ছুটির দিন বেতনের টাকা নিয়া বাড়িতে দিয়া আবার নৌকাতে ফিরে গেলাম। এমনি করে তিন মাস অতিবাহিত হলো, পরীক্ষার ফল বাহির হলো ভাল রেজাল্ট করলাম কিন্ত কলেজে ভর্তি হতে হবে, টাকা নাই । বড় ভাই ও মেঝ ভা্ইর কাছে টাকা চাইলাম তারা আমার সাথে যথেষ্ট খারাপ আচারন করলো এমন কি আমাকে পিটাতেও দিধা করলো না।

কষ্টে মন ভরে গেল রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বাহির হলাম এবং ছোট বোনের বাড়ীতে গেলাম, ওকে বুঝতে দিলাম না যে আমি বাড়ী থেকে পালিয়ে এসেছি, ভোর হতে না হতেই আবার রওয়ানা দিলাম, অজানার উদ্যেশে, গন্তব্যহীন যাত্রা। বরিশাল আসলাম, একজন রিক্সাওয়ালা আমাকে পথ দেখালেন, আমি মনে করি ঐ রিক্সাওয়ালা আমার জীবনের পথ প্রদর্শক হিসাবে কাজ করেছে। সে তার কাছে থাককে দিল এবং খাইতে দিল, কাজ শিখতে সাহায্য করলো। আমি আমার এই ছোট্ট জীবনে, তার কাছে চির ঋৃণী। বাস্তবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি মোটেও কৃপণ্য করেননি। মা-বাবাকে কি ভাবে ভালবাসতে হয় আমি তার কাছে শিখেছি।

তাই এই গানটি আমি যত বার শুনি ততবারই আমার অতিত কে মনে করিয়ে দেয়।

আমি আমার বাবাকে কখনো কষ্ট পাইতে দেই নি, না আমার ছোট্ট ভাইবোনকে । জরিয়ে রেখেছি অক্টোপাসের মতো, এটা আল্লাহুর মেহেরবানী ছাড়া আর কিছুই না। তাই আমি আমার আল্লাহুর কাছে হাজারো শোকরানা আদায় করছি। আজ আমি জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসেছি। কিন্তু অতীতকে ভূলতে পারি নাই। আজ আমার সবই আছে, কিন্তু আমার বাবা নাই, তাই নিজেকে বড়ই অসহায় এবং এতিম মনে হয়। আমার ছোট্ট ভাই বোনকে আজও বুঝতে দেই না, যে আমরা সবাই বুড়ো হয়ে গেছি। মাকে জড়াইয়া আজও একটি পরিবার হিসাবে বসবাস করিয়া আসিতেছি।

আমি এই কাহিনীর পাঠকের কাছে দোয়া চাই, যত দিন বেঁচে থাকবো যেন এমনি করে বেঁচে থাকতে পারি।
(নিজ জীবনের কাহিনী)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×