কর্মজীবী নারী বলতে জীবনে প্রথম যাদের চিনি তারা হচ্ছে আমাদের বাসার কাজের মেয়ে। বাসার সকল নারীর সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলে এই নারীরদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক ছিল না। অথচ খেলা-ধুলা, জিদ, রাগ, ঘৃণায় আমি তাদেরই বেশি কাছে পেতাম এবং তারাই সবচাইতে বেশি সহ্য করত। বয়সে আমার বড় হলেও আমাকে ভাইয়া বলতে বাধ্য ছিল তারা। আমি সব সময় তারদের নাম ধরেই ডাকতাম। তারা আমাকে আপনি সম্বোধন করলেও আমি তাদের তুই সম্বোধন করতাম। আমরা রিক্সায় বসলে তারা নিচে পায়ের কাছে বসত, তাদের কখনও খাটে ঘুমাতে দেখিনি আবার আমাদের সাথে চেয়ার টেবিলে খেতেও দেখিনি কখনও। রান্না ঘরে চার দেয়ালই ছিল তার ড্রয়িং, ডাইনিং এবং বেডরুম অনেকটা স্টুডিও এপার্টমেন্ট এর মত, তবে বিলাসিতা এবং আয়তনে অনেক নগণ্য। আমি তাদের কখনও ঘুমাতে দেখিনি, ঘুম থেকে জেগে দেখতাম তারা কাজ করছে আবার ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বেও দেখতাম তারা কাজ করছে। এমন দানবীয় কর্মের মজুরী ছিল তিন বেলা পেট ভরে খাওয়া আর বছরের দুই ঈদে দুটি জামা।
১৯১১ সাল থেকে নারী সম-অধিকার দিবস পালন হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে থেকে ৮ মার্চ জাতিসংঘের আহ্বানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেলেও বাংলাদেশে এই দিবস ১৯৭১ সালের পূর্বে থেকেই পালন হয়।
আমার ছেলে বেলা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সেই কাজের মেয়েদের পারিশ্রমিকের তেমন কোন পরিবর্তন আমি দেখি না। তারা এত হতভাগা যে তাদের নিয়ে কথা বলার কেউ নেই।
একটা অনুরোধ করি দয়া করে রাখবেন, শুধুমাত্র তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্যই তারা আজ আপনার গৃহে! তারাও কর্মজীবী নারী! তাদের কখনও ঠকাবেন না, কখনও পচা-বাসি, এঁটো খাবার দিবেন না। ওরা সুস্থ থাকলেই কেবল মাত্র আপনাকে দৈনন্দিন কাজে সঠিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


