somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীবের অপর নাম ভালবাসা(((দ্বিতীয় অংশ)))

১১ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারপর................................................

আমাদের পরীক্ষা চলে আসল।যথারীতি পরীক্ষার জন্য ভাল প্রস্তুতি নিলাম।আর সবাই ভাল করে পরীক্ষাও দিলাম।ও অনেক ভালই রেজাল্ট করল।ওর বাবাও অনেকটা খুশি হল ওর উপরে।আমরাও মোটামুটি ভাল ফলাফল করলাম।যাই হোক আমাদের বিদ্যালয়ে একটা নিয়ম আছে যে পরীক্ষার পর মূল পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার জন্য বিদ্যালয়ে কোচিং করানো হয়। এই রকম আবার ওদের (আইরিন) বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা।


কোচিং এর সময়...............................

সবাই মনযোগ দিয়েই কোচিং করছি।হাজার হোক সামনে পরীক্ষা তো।যতই ফাকিবাজি করি পরীক্ষা চলে আসলে আর ফাকিবাজি চলে নাকি।ওরাও অনেক মনযোগ দিয়েই পড়ছে।একদিন আমি, আমার বন্ধু সাম্য এবং ওর স্ত্রী ই বলা যায় কোচিং শেষে বের হলাম।সবাই অনেক মজা করে রাস্তায় হাটছি।হাটতে হাটতে এক সময় আমরা আমাদের প্রিয় জায়গায় চলে আসলাম।যেখানে আমরা সব সময় আড্ডা দেই।আর সেখানেই ঘটল আমার জীবনে দেখা প্রথম ঘটনা।

অবিশ্বাস্য ঘটনা আমার দেখা...................

সেই জায়গাটা হল আমাদের আড্ডাখানা।ওটা রেলগাড়ির রাস্তা মানে রেললাইন।আমরা প্রায় ঐ খানে আড্ডা দেই।যাই হোক...
আসল ঘটনায় আসা যাক।আমরা এক সঙ্গে গেলাম ঐ খানে।সাম্য বলল হাবিব তুমি একটু ঐ দিকে যাও আমরা একটু কথা বলব।আমি ঐ দিকে গেলাম।হঠাৎ দেখি ওরা ঝগড়া করছে কি নিয়া যেন।কিছুক্ষণ পর দেখলাম ওদের ঝগড়ার পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে।একপর্যায় এ দেখি সাম্য ওর মানিব্যাগ ছুড়ে ফেলে দিল।আবার দেখলাম ওর মোবাইল ফেলে দিল।আমি কাছে যাব নাকি চিন্তা করলাম।তারপর কি মনে করে যেন গেলাম না।


কিছক্ষুণ পর ....................................

হঠাৎ দেখি রেলগাড়ি আসছে।আইরিন দেখি রেলগাড়ি এর দিকে দৌড় দিচ্ছে।আমি দেখে ওঠে পড়লাম।একটু পর দেখি সাম্য ওর দৌড় দিচ্ছে।আইরিন পুরো রেলগাড়ির সামনে এসে গেছে।তারপর যা কিছুই দেখছি এখন বলার ভাষাই খুজে পাচ্ছি না।যাই হোক বলছি.....
দেখলাম সাম্য দৌড়ে গিয়ে আইরিন কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল।আর ওর শরীর গিয়ে বাড়ি খেল।ওর এক পাশের চাপার দাঁত খুলে পড়ে গেল।আর মাথার এক পাশে খুব জোরে একটা বারি খেল।বারি খেয়ে ওরা দুই জন এক পাশে আমি আরেক পাশে।রেলগাড়ি চলছে।আর দেখি আইরিন সাম্যকে কুলে নিয়ে কাদঁছে:((:((।


রেলগাড়ি চলে যাওয়ার পর......................

আমরা কয়েকজন মিলে সাম্যকে নিয়ে হাসপাতাল এ গেলাম।তখন আইরিন কে আমি বাসায় পাঠিয়ে দিলাম।আমাদের সরকারি হাসপাতালটা তেমন ভাল না।সাম্য এর বাবা আসল সঙ্গে সঙ্গ।আমাকে বলল কি করে হল।আমি বললাম আমি জানি না।আসলে তখন পর্যন্ত জানতাম না যে কেন এই সব হল।সরকারি হাসপাতাল থেকে ওকে তাড়াতাড়ি ল্যাবএইড এ পাঠিয়ে দিল।
আমরা তো ভেবেছিলাম ও বাচঁবেই না।
পরে আইরিন কে ফোন করলাম কি হয়েছিল আসলেই।পরে জানতে পারলাম ঘটনাটা।আসলে আইরিন ওকে ওদের ঘরে ওঠিয়ে নিতে বলেছিল।কিন্তু সাম্য এর বাবা এক্ষুনি রাজি না।ওনি চান ওরা পরীক্ষা শেষ করলে তারপর ঘরে ওঠাবেন।কিন্তু আইরিন তাতে কোন ভাবেই রাজি না।সে এক্ষুনি চায়।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল ওদের মধ্যে।

পলাতক.................................

কয়েকদিন ধরেই আইরিন এর ফোন এ চেষ্টা করছিলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না।শুনি যে ওরা স্বপরিবারে কোথায় যেন চলে গেছে।কারণ আগেই বলেছি যে সাম্য এর বাবা বড় উকিল।ওনি ওদের হুমকি দিয়ে ছিলেন।

কয়েকদিন পর..........................

যাই হোক পাচঁ দিন পর আইরিন আমাকে ফোন করে বলে যে সাম্য কেমন আছে?আমি তো ওর ফোন পেয়ে অবাক।যাই হোক ওকে সব কিছু বললাম।তখন সাম্য অবস্থা খুঈ খারাপ ছিল।পুরা মরণ এর কাছাকাছি।আমরা তো ভাবছিলাম ও বাচঁবে্ই না।১ মাস পর ও সুস্থ্য হল।আমি যখন ওকে দেখতে যাই আমার প্রথমে বিশ্বাস ই হয়নি ওর চেহারা দেখে।কি সুন্দর ওর মুখটা ছিল।সব নষ্ট হয়ে গেছে।ওকে যেন চেনায় যায় না।আমি ৩০ মিনিট এর মতন ওর দিকে তাকিয়েই ছিলাম।ওকে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরে মনটা হালকা করে নিলাম।

পরীক্ষা চলে আসছে......................

আমি ভাবছিলাম ও পরীক্ষা দিবে না।কিন্তু দেখি ও হলে আসছে।আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে তুমি সত্যি পরীক্ষা দিবা।ও বলে হ্যাঁ।আমি আবার অবাক:-*।কেন????ও বলে আইরিন এর জন্য।আমি আরও অবাক:-*।বললাম কি হবে ওকে দিয়ে।
সাম্য বলল:আমি ওকে অনেক ভালবাসি।
ওর এই কথাটা আমার আজও মনে পড়ে।হায়রে ভালবাসা।তুই করলিরে নইরাশা।



আর বৃদ্ধি করতে চাই না................
চরম একটা সুখি সমাপ্তি হয়েছে ওদের।ওরা এখন স্বামী-স্ত্রী।আমার বন্ধুটা এখনও পড়াশুনা করছে।মেয়াটা পড়াশুনা করছে কিনা জানি না।ওর সঙ্গে কথা হয় মাঝে মাঝে।খুব ভাল লাগে ওদের দেখে।আর বিয়েটা সম্ভব হয়েছে সাম্য এর মার জন্য।ওর মা ও মন খারাপ করে থাকে দেখে ওদের বিয়েটা করিয়ে দিয়েছে।




এই রকম মিল দেখে আবার ভালবাসার পক্ষে চলে গেলাম।তাই এখনও বলি ভালবাসা মানে শুধুই ভালবাসা।এর সংগা আসলে আমার মনে হয় কেউ ই দিতে পারবে না।

Finding love……….
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×