মানিকগঞ্জে সংখ্যালঘুর বাড়ি-মন্দিরের দখল নিল ক্ষমতাসীনরা
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার উকিয়ারা গ্রামে মঙ্গলবার সংখ্যলঘু এক পরিবারের বসতভিটার দখল নিয়েছে সরকারদলীয় লোকেরা। এ সময় তারা পরিবারটির মন্দির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনার খবর সংগ্রহে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের রোষানলে পড়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে বাংলাভিশন ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব চক্রবতী একটি সংখ্যালঘু পরিবারের মন্দির ভাঙচুর, বাড়ি দখল ও উচ্ছেদের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সরকারদলীয় কর্মীদের হাতে ব্যাপক মারপিটের শিকার হন।
পুলিশের সহায়তায় সরকারদলীয় কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে জেলায় কত্যর্বরত সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। মানিকগঞ্জ প্রেসকাব, সাংবাদিক সমিতি ও জাতীয় হিন্দু মহাজোট এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিবাদ সভা থেকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের শাস্তি এবং সদর থানার ওসি আবু তাহেরের অপসারণের দাবি জানান হয়।
ভূক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উকিয়ারা গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের দুই সহোদর গোসাই এবং শরৎ মন্ডলকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসরাফিল হোসেনের অনুসারিরা সকালে হামলা চালায়। এ সময় তারা ওই পরিবারের বসতভিটা ও কালি মন্দিরের দখল নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তাদের তাণ্ডবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশ্ববর্তী উকিয়ারা বাজারের সকল দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। ভয়ে মানুষজন ছুটে পালাতে থাকে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দৈনিক সমকাল ও বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব চক্রবর্তী বেদম প্রহারের শিকার হন।
আর পালিয়ে রক্ষা পান এটিএন বাংলা টিলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ। ঘটনার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মুনশী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। নিষ্পত্তি না পর্যন্ত কেও তাদের উচ্ছেদ করতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।
পুলিশ সুপার মাসুদ করিম সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খবরঃ মানিকগঞ্জ, ০৫ এপ্রিল (আরটিএনএন ডটনেট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




