প্রিয় আম্মু
জানি শরীরটা সামান্য খারাপ তোমার কিন্তু আমাদের থেকে তা তুমি লুকিয়ে রেখেছ।ফোনে প্রতিদিন কথা বলি খোঁজ খবর রাখি কিন্তু অনেক কিছুই বলতে পারি না।তাই আজ এই চিঠিতে লিখছি কিছু না বলা কথা।
বিশ্বাস করো আর ভাল লাগে না এখানে তোমাদেরকে ছাড়া থাকতে।ইচ্ছে করে সব কিছু ফেলে দিয়ে ছুঁটে চলে আসি কিন্তু পারি না।ঘুম থেকে উঠে যখন আশে-পাশে কাউকে দেখি না এত খারাপ লাগে বুঝাতে পারবো না তোমায়।এখানে শরীর খারাপ হলে কেউ জিজ্ঞেস করে না কেমন লাগছে বাবা? কেউ নেয় মাথায় হাত বুলিয়ে দেবার।
এখনো আমার মনে পড়ে ভীষন জ্বরে রাতে ভাত না খেয়ে শুয়ে পড়বো সেই ভয়ে তুমি নিজেই আমাকে খাইয়ে দিয়েছিলে।মাঝ রাতে উঠে বার বার কপালে হাত রেখে পরীক্ষা করেছিলে।যেদিন প্রথম তোমাকে ছেড়ে একাডেমির হোস্টেলে এ চলে আসি তুমি নাকি অনেক কেঁদেছিলে।তখন সত্যি বুঝি নি কিন্তু যখন প্রথম জাহাজে উঠি তখন আমি ঠিকই বুঝেছিলাম কেন তুমি কেঁদেছিলে।সেদিন নিজের অজান্তে চোখ থেকে শুধু পানি পড়ছিল আর আমি তা তোমার থেকে লুকোচ্ছিলাম।
এবারের ঈদে তোমার কদমবুছি নিতে পারব না।তোমার হাতের সেই সেমাই খেতে পারব না তা মনে করলেই বুকে কি যেন মোচড় দিয়ে উঠে।
আম্মু ! তুমি সব সময় ভাল থেকো, পাশে থেকো।নিজের প্রতি যত্ন নিও।
ইতি
তোমার হতভাগা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



